কালীগঞ্জে মাচায় লাউ চাষে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষকের মুখে হাসি

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এখন আগাম লাউ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকুল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বাড়ছে লাউ চাষের পরিধি। কম সময়ে ভাল ফলন, স্বল্প মুজুরি খরচ ও বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় লাউ চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। এতে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। সাফল্যের হাতছানীতে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য। উম্মুচিত হচ্ছে কৃষকের নতুন দিগন্ত। লাউ চাষ কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যাপক জনপ্রিয়তা বেড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের বিরতুল গ্রামে দেখা যায়, উফসী জাতের বারি-১,২,৩,৪ এবং উন্নত হাউব্রীড ‘ময়না’ জাতের লাউয়ের ব্যাপক পরিমাণে চাষ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক মো. মাসুদ সরকার বলেন, বালু নদীর তীরবর্তী এলাকায় দুই বিঘা জমিতে আগাম লাউ চাষ করে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে লাউ বিক্রি করে আয় করেছেন ৫০ হাজার টাকারও বেশি। ফলন আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত স্থায়ী হবে। লাউ চাষে পানি সরবরাহ থাকা অত্যন্ত জরুরী। অন্য ফসলের তুলনায় লাউ চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভও বেশি। কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে বেশি ফলন পাওয়া যায় বলে তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের তথ্য মতে জানা যায়, উপজেলায় এবছর প্রায় ২০৫ হেক্টর জমিতে লাউ চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রতি বিঘায় গড়ে ৭০ মন বা প্রতি হেক্টরে ২০ টন ফলন পাওয়া সম্ভব। উন্নত পদ্ধতি ও সঠিক জাত নির্বাচন করতে পারলে ফলন আরোও বাড়তে পারে। বারি লাউ-৪ ও ময়না জাত হচ্ছে উন্নত ফলনশীল জাত।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির উদ্দিন মোল্লা জানান, লাউ গরম ও আদ্র আবহাওয়ায় ভাল জন্মে। ফেব্রুয়ারী থেকে এপ্রিল এবং জুন থেকে আগষ্ট পর্যন্ত লাউ চাষের উপযুক্ত সময়। ত্র অঞ্চলের মাটি লাউ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ ঝুরঝুরে মাটিতে লাউ ভাল জন্মায়। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেয়ায় ফলন ও আগ্রহ দুটোই বেড়েছে। রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে লাউ চাষ করে কৃষকরা বছরে কয়েক গুণ বেশী লাভবান হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ডঃ মোঃ আবদুল্লাহ আল ফারুক মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, মাচায় লাউ চাষ একটি লাভজনক কৃষি পদ্ধতি। কৃত্রিম পরাগায়ন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা থাকলে ভালো ফলন সম্ভব। উন্নত জাত, সঠিক সময়ে চারা রোপণ এবং সঠিক পরিচর্যায় পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হয়। জৈবিক পদ্ধতিতে বালাই দমন করে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে খরচও কম হয়। সবজি ও শাক হিসেবে লাউ এর চাহিদা রয়েছে।
