শুক্রবার (৬ মার্চ) যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনার খবরের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সড়কে ৪৪৮টি দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত এবং এক হাজার ১৮১ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হন। নৌপথে ৬টি দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৪৮৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং এক হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত এবং ১৩৭ জন আহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৩ দশমিক ৭০ শতাংশ, নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং আহতের প্রায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১১৩টি দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত এবং ৩৮৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। এ বিভাগে ২২টি দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৮৫ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ৪ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২ টা উপজেলার গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওয়াশ প্লান্ট এর হ্যান্ড ওয়াশিং স্টেশন, ড্রিংকিং স্টেশন, হাইজিন কর্নার এর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ মোখলেসুর রহমান মকে,৭ নং প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এমদাদুল হক, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের সাবেক সহ-সভাপতি জামির হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা নুর এনায়েত নুরুজ্জামান হারুন, মান্দা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সালেকুজ্জামান সালেক, প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান, সাবেক প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি লুৎফর রহমান,গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক শাহজামান, ব্রাক ওয়াশ কর্মসূচির ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলমগীর হোসেন, ব্রাক প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মোহাম্মদ আজিম হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
এছাড়াও ব্রাক কর্তৃক উপজেলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দশটি স্কুলের নিরাপদ পানি,স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাটিন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে কার্যক্রম চলমান।
বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা করে একই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে
দুই যুবক। হত্যার পর খুনিরা গোসল করে এবং শরীরের উত্তেজনা কমাতে শষা ও খেজুর খায়। এরপর তাদের কাছে থাকা একটি ইয়াবা তারা সেখানেই সেবন করে।
গতকাল রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। এর আগে রোববার ভোরের দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায়। তারা দুজনে সম্পর্কে মামাতো ও খালাতো ভাই। সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন এবং মুগ্ধ মাছের দোকানে কাজ করতেন তারা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্ত ও মুগ্ধ রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তির বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলো। ইয়াবা সেবন দেখে ফেলেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তি। সমাজে ইয়াবা সেবনের কথা প্রকাশের ভয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গামছা পেছিয়ে তাকে হত্যা করা হয। হত্যার সময় গোঙানির শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদের উপর উঠার চেষ্টা করে। এমন সময় তারা সিড়িতেই প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে। মা কে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী। তারা তাকেও রশি পেছিয়ে হত্যা করেন। খুনি দুজনেই একই এলাকার হওয়ায় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদেরকে আগে থেকেই চেনেন এবং জানেন। খুনের বিষয় যাতে কেউ টের না পান এজন্য ১২ বছরের আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে প্রথমে রশি পেচিয়ে এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। একে একে চারজনকে হত্যার পর তারা দুইজনেই শরীরের উত্তেজনা কমাতে গোসল করেন। পরে তারা দুজনে ডাইনিং টেবিলে বসে শশা, খেজুর ও ইয়াবা সেবন করেন। হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষে তারা বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেন এবং স্বর্ণের চুরি আগুন দিয়ে পরিক্ষা করেন, সেটি আসল না নকল। পরে বাকী রাতটুকু চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেন তারা। বাড়িতে থেকে বের হওয়ার সময় যাতে কেউ দেখে না ফেলে এজন্য তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। এরই মধ্যে ওই বাড়িতে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পাউডারের পানিতে ভিজিয়ে রাখেন, যাতে মোবাইলে কোন আঙুৃলের ছাপ না থাকে। শুক্রবার জুমার নামাজ শুরু হওয়ায় রাস্তা ফাঁকা দেখে তারা ওই বাড়ি থেকে সটকে পরে।
এ ঘটনার পরপর পুলিশ তালাবদ্ধ ওই বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের লাশ উদ্ধার করে। পরে রাতেই ইয়াবা সেবনের আলামত ও পারিপাশ্বিক বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দ্জুনেই একই এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হযেছে। গ্রেফতারকৃতরা হত্যার কথা শিকার করেছেন।
উল্লেখ্য,শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত তিনদিন ধরে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখতে পান এলাকাবাসী। এদিকে কয়েকদিন ধরে কোন রকম যোগাযোগ করতে না পেরে ওই শিক্ষকের আত্মীয় স্বজন এলাকায় এসে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তী, সিঁড়ির কাছে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তি ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় এবং একটি কক্ষের ভেতরে খাটের নিচ থেকে তাদের ছোট ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন এবং বাড়ির জিনিস পত্র তছনছ ও ছড়ানো ছিটানো ছিলো।
জানা যায়, রংপুর জিলা স্কুল থেকে শিক্ষকতা পেশা থেকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারী অবসরে যান গণপতি চক্রবর্তী। তিনি নগরীর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন। হত্যার শিকার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে ইসরাত জাহান (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে আটকে থাকা তাঁর দুই শিশু সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাউসার আহাম্মেদ শাওন (৩৫) পলাতক রয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শেখের ভিটা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দুই শিশু বারবার পানি চাইতে থাকে। তাদের কান্নাকাটি শুনে আশপাশের মানুষের সন্দেহ হলে বিষয়টি ভবনের মালিককে জানানো হয়। পরে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া রয়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে ইসরাত জাহানের নিথর দেহ দেখতে পান তারা। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহত ইসরাত জাহান ও কাউসার আহাম্মেদ শাওন দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাদের মেয়ে স্নেহার বয়স ১০ বছর এবং ছেলে মমিন শাহরিয়ারের বয়স ৫ বছর।
স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার বলেন, জানালা দিয়ে বাচ্চা দুটি পানি চাইলে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। পরে ভেতরে ওই নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার পেছনের রহস্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে।
আপনার মতামত লিখুন