নওগাঁর মান্দায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬ কেজি শুকনা গাঁজাসহ মিতা কর্মকার (৪০) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের ঘাটকৈর গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার মিতা কর্মকার ঘাটকৈর গ্রামের বীরেন কর্মকারের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মিতা কর্মকারের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়ির দক্ষিণমুখী শয়নকক্ষের খাটের নিচে থাকা হলুদ প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ৬ কেজি শুকনা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিতা কর্মকার ও তাঁর স্বামী বীরেন কর্মকার বেশ কিছুদিন ধরে নিজেদের বাড়িতে গাঁজা মজুত করে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। অভিযানের সময় মিতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় মিতা কর্মকারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মান্দা থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘাটকৈর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর স্বামীও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
নওগাঁর মান্দায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০ লিটার চোলাই মদসহ সুরভি (২৬) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে উপজেলার ৫ নম্বর গণেশপুর ইউনিয়নের কাঞ্চন গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মান্দা থানার এসআই পুলক সরকার, এসআই নজরুল ইসলাম, এএসআই আসাদুজ্জামান ও এএসআই রবিউল সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে উত্তর কাঞ্চন গ্রামের সুরভিকে ১০ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশ জানায়, অভিযানের পর মাদকদ্রব্য জব্দ করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মান্দা থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে
মরা মুরগি বিক্রির অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার ঘটনার পর নারী সাংবাদিক রুমানা আক্তার শিপার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার’-এর প্রতিবাদে শ্রীমঙ্গলে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৪টায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থেকে রুমানা আক্তার শিপার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট শ্রীমঙ্গল নতুনবাজার এলাকার ‘ফ্যামেলী বাজার’ (পরিচালনায় বিসমিল্লাহ্ পোল্ট্রি হাউজ)-এ মরা মুরগি বিক্রির অভিযোগে তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিওসহ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন সাংবাদিক রুমানা আক্তার শিপা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি যাচাই করে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে সভায় জানানো হয়।
এ ঘটনার পর গত ১৫ আগস্ট শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর মো. মাসুমুর রশিদ (মাসুম)। সেখানে মরা মুরগি বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করলেও এর দায় কর্মচারীদের ওপর দেন তিনি। একইসঙ্গে সাংবাদিক রুমানা আক্তার শিপার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করার দাবি করেন।
রুমানা আক্তার শিপার অভিযোগ, ওই সংবাদ সম্মেলনের পর কিছু সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এতে একজন নারী সাংবাদিক হিসেবে তিনি সামাজিকভাবে হেনস্তা ও মানহানির শিকার হয়েছেন।
প্রতিবাদ সভায় রুমানা আক্তার শিপা বলেন, “আমি একজন সচেতন নাগরিক ও সংবাদকর্মী হিসেবে মানুষের অধিকার এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার স্বার্থে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছি। অথচ সত্য তুলে ধরার পর আমার বিরুদ্ধেই একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সামান্যতম সত্যতাও কেউ প্রমাণ করতে পারলে আমি ওই প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দেব। সত্য কখনো চাপা থাকে না। আমি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই, বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করুন।”
সভায় সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন দৈনিক সমকাল পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামীম আক্তার হোসেন, একুশে টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী, আরটিভি’র মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি চৌধুরী ভাস্কর হোম, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, সাপ্তাহিক সুরমার ঢেউয়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শ. ই. সরকার জবলু এবং দৈনিক আমার সময়ের মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি ও হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি মো. জিতু তালুকদার।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা। কোনো সাংবাদিক সত্য ও জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরার কারণে যাতে হয়রানি বা অপপ্রচারের শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভা থেকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ রুমানা আক্তার শিপার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান।
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবরের পরই তাঁর আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন।
গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে প্রবাসী বিজ্ঞানী ড. শামারুহ মির্জা (সামা) ও তাঁর ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসে। এমনকি তাঁদের নিয়ে কথিত জনমত জরিপও ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এসব আলোচনাকে গুঞ্জন ছাড়া কিছু নয় বলে জানিয়েছেন মির্জা ফয়সল আমিন। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসন এখনো শূন্য হয়নি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো সংসদ সদস্য। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর তিনি শপথ নেবেন, গেজেট প্রকাশের পর আসনটি শূন্য হবে। এরপরই প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি সামনে আসবে।
মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও ড. শামারুহ মির্জার নাম আসা মানুষের নিজস্ব চাওয়া হতে পারে। তবে তাঁদের পরিবারের মধ্যে প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এসব গুঞ্জনে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত ও বিব্রত হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. শামারুহ মির্জা প্রসঙ্গে ফয়সল আমিন বলেন, তিনি একজন স্বনামধন্য প্রবাসী বিজ্ঞানী এবং বর্তমানে রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। প্রয়োজন হলে তিনি দেশে আসতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত দলই নেবে। তাঁর দাবি, ড. শামারুহ মির্জা এ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। অন্যদিকে মির্জা ফয়সল আমিন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসনটি শূন্য হলে দলীয় সিদ্ধান্তে মির্জা ফয়সল আমিনকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রার্থী করা হতে পারে।
তবে নেতারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা বা কথিত জনমত জরিপ নয়, আসন শূন্য হওয়ার পর বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তেই চূড়ান্ত হবে ঠাকুরগাঁও ১ আসনের প্রার্থী।
আপনার মতামত লিখুন