রংপুর-৩ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া হচ্ছে একটা উছিলা। আসলে তারা গণভোটের মাধ্যমে হ্যাঁ ভোট নিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এনসিপি ও জামায়াতও থাকবে তাদের সঙ্গে। তারা ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার জন্যই গণভোটের বাহানা নিয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে রংপুরে এসে নগরীর সেনপাড়ার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। রংপুর-৩ আসনে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে নিজ এলাকায় আসেন দলটির চেয়ারম্যান।
জাপার চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই সরকারের কাছে জনগণের কোনও জবাবদিহি নেই। নির্বাচনের পর যে সংসদ গঠিত হবে, জনপ্রতিনিধিরা যে সরকার গঠন করবে, তাদের তারা কোনও ক্ষমতা দেবে না; এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সেখাবে সবকিছু করা হচ্ছে।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রেখে জি এম কাদের বলেন, ‘জামায়াত, এনসিপি ও বর্তমান সরকার মিলে একটি সরকারি দল হয়ে গেছে। এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এখন পর্যন্ত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছে না। যেহেতু সরকারি দলের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে, সরকারের অধীনে এনসিপি তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় দল গঠন করেছে এবং জামায়াতও বিভিন্নভাবে এনসিপির সঙ্গে যুক্ত। কাজেই জামায়াত, এনসিপি এবং বর্তমান সরকার মিলে একটি সরকারি দল। ফলে তাদের অধীনে নির্বাচন কখনও সুষ্ঠু হবে না। এই নির্বাচন খারাপ হবে এতে কোনও সন্দেহ নেই। বড় একটি দল বাদ পড়েছে। তবু লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। প্রতিদিন সংঘর্ষ হচ্ছে, মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। কাজেই নির্বাচন ভালো হবে না।’
মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির রংপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আজমল হোসেনসহ স্থানীয় জাপার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার থেকে জি এম কাদের নিজ নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ করবেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২ টা উপজেলার গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওয়াশ প্লান্ট এর হ্যান্ড ওয়াশিং স্টেশন, ড্রিংকিং স্টেশন, হাইজিন কর্নার এর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ মোখলেসুর রহমান মকে,৭ নং প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এমদাদুল হক, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের সাবেক সহ-সভাপতি জামির হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা নুর এনায়েত নুরুজ্জামান হারুন, মান্দা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সালেকুজ্জামান সালেক, প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান, সাবেক প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি লুৎফর রহমান,গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক শাহজামান, ব্রাক ওয়াশ কর্মসূচির ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলমগীর হোসেন, ব্রাক প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মোহাম্মদ আজিম হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
এছাড়াও ব্রাক কর্তৃক উপজেলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দশটি স্কুলের নিরাপদ পানি,স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাটিন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে কার্যক্রম চলমান।
বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা করে একই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে
দুই যুবক। হত্যার পর খুনিরা গোসল করে এবং শরীরের উত্তেজনা কমাতে শষা ও খেজুর খায়। এরপর তাদের কাছে থাকা একটি ইয়াবা তারা সেখানেই সেবন করে।
গতকাল রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। এর আগে রোববার ভোরের দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায়। তারা দুজনে সম্পর্কে মামাতো ও খালাতো ভাই। সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন এবং মুগ্ধ মাছের দোকানে কাজ করতেন তারা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্ত ও মুগ্ধ রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তির বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলো। ইয়াবা সেবন দেখে ফেলেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তি। সমাজে ইয়াবা সেবনের কথা প্রকাশের ভয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গামছা পেছিয়ে তাকে হত্যা করা হয। হত্যার সময় গোঙানির শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদের উপর উঠার চেষ্টা করে। এমন সময় তারা সিড়িতেই প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে। মা কে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী। তারা তাকেও রশি পেছিয়ে হত্যা করেন। খুনি দুজনেই একই এলাকার হওয়ায় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদেরকে আগে থেকেই চেনেন এবং জানেন। খুনের বিষয় যাতে কেউ টের না পান এজন্য ১২ বছরের আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে প্রথমে রশি পেচিয়ে এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। একে একে চারজনকে হত্যার পর তারা দুইজনেই শরীরের উত্তেজনা কমাতে গোসল করেন। পরে তারা দুজনে ডাইনিং টেবিলে বসে শশা, খেজুর ও ইয়াবা সেবন করেন। হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষে তারা বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেন এবং স্বর্ণের চুরি আগুন দিয়ে পরিক্ষা করেন, সেটি আসল না নকল। পরে বাকী রাতটুকু চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেন তারা। বাড়িতে থেকে বের হওয়ার সময় যাতে কেউ দেখে না ফেলে এজন্য তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। এরই মধ্যে ওই বাড়িতে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পাউডারের পানিতে ভিজিয়ে রাখেন, যাতে মোবাইলে কোন আঙুৃলের ছাপ না থাকে। শুক্রবার জুমার নামাজ শুরু হওয়ায় রাস্তা ফাঁকা দেখে তারা ওই বাড়ি থেকে সটকে পরে।
এ ঘটনার পরপর পুলিশ তালাবদ্ধ ওই বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের লাশ উদ্ধার করে। পরে রাতেই ইয়াবা সেবনের আলামত ও পারিপাশ্বিক বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দ্জুনেই একই এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হযেছে। গ্রেফতারকৃতরা হত্যার কথা শিকার করেছেন।
উল্লেখ্য,শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত তিনদিন ধরে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখতে পান এলাকাবাসী। এদিকে কয়েকদিন ধরে কোন রকম যোগাযোগ করতে না পেরে ওই শিক্ষকের আত্মীয় স্বজন এলাকায় এসে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তী, সিঁড়ির কাছে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তি ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় এবং একটি কক্ষের ভেতরে খাটের নিচ থেকে তাদের ছোট ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন এবং বাড়ির জিনিস পত্র তছনছ ও ছড়ানো ছিটানো ছিলো।
জানা যায়, রংপুর জিলা স্কুল থেকে শিক্ষকতা পেশা থেকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারী অবসরে যান গণপতি চক্রবর্তী। তিনি নগরীর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন। হত্যার শিকার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে ইসরাত জাহান (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে আটকে থাকা তাঁর দুই শিশু সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাউসার আহাম্মেদ শাওন (৩৫) পলাতক রয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শেখের ভিটা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দুই শিশু বারবার পানি চাইতে থাকে। তাদের কান্নাকাটি শুনে আশপাশের মানুষের সন্দেহ হলে বিষয়টি ভবনের মালিককে জানানো হয়। পরে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া রয়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে ইসরাত জাহানের নিথর দেহ দেখতে পান তারা। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহত ইসরাত জাহান ও কাউসার আহাম্মেদ শাওন দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাদের মেয়ে স্নেহার বয়স ১০ বছর এবং ছেলে মমিন শাহরিয়ারের বয়স ৫ বছর।
স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার বলেন, জানালা দিয়ে বাচ্চা দুটি পানি চাইলে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। পরে ভেতরে ওই নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার পেছনের রহস্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে।
আপনার মতামত লিখুন