মোঃ ওসমান গনি (ইলি) কক্সবাজারঃ প্রত্যাশীর উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় অংশীজনদের নিয়ে সিমস্ প্রকল্পের অগ্রগতি অবহিতকরণ ও ভবিষ্যৎ কর্ম-কৌশল শীর্ষক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৯ অক্টোবর) সকালে ঈদগাঁও জাহানারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হল রুমে স্থানীয় সরকার, সুশীল সমাজ,মিডিয়া প্রতিনিধিগণ, এনজিও প্রতিনিধি, জিএমসি সদস্য, মাইগ্রেশন ফোরাম সদস্যগণ, লোকাল লিডার, সাব-এজেন্ট ও সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবল চাকমা।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রত্যাশী সিমস্ প্রকল্প ম্যানেজার বশির আহম্মদ মনি (সূফি মনি) ও প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী রশিদা খাতুন,র সঞ্চালনালায় বক্তব্য রাখেন ঈদগাঁও স্ব্যাস্থ কমপ্লেক্সে পরিচালক ডাক্তার তৃণা শাহ্,ঈদগাঁও উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা , উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রমূখ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগীয় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি এবং মিডিয়া প্রতিনিধিগণ। সভায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বলেন- নিরাপদ অভিবাসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির এবং দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের কোন বিকল্প নাই। বিদেশগামীদের দক্ষ হয়ে বিদেশ যেতে পারলে কাজের যেমন স্থায়ীত্ব নিশ্চিত হবে তেমনি দ্বিগুণ রেমিট্যান্স বৃদ্ধি করা সম্ভব। অনুষ্টানে প্রবাসী ও তাদের জীবন যাএার মান উন্নয়ন ও নিরাপদ অভিবাসন, আইনগত সহায়তা, উদ্যাক্তা উন্নয়ন, মাইগ্রেশন ফোরাম ও জিএমসি কমিটির টেকসইকরণ সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কক্সবাজার জেলা কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওসমান গণি ইলি ও ঈদগাঁও প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক শেফাইল ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিনসহ আরো প্রমূখ্য।
মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ,গাজীপুর প্রতিনিধিঃ কালীগঞ্জের জামালপুর ইউনিয়নের দোলান বাজারে লাইসেন্স ছাড়া গরুর মাংস বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে মোবাইল কোর্ট। জরিমানা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের দোলান বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসময় বিনা লাইসেন্সে গরুর মাংস বিক্রির দায়ে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারায় পৃথক দুই মামলায় দোলান বাজারের ব্যবসায়ী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর পূত্র ইকবাল সরকার (৩০) এবং আমির উদ্দিনের পূত্র আজিজুল ইসলাম (৪৪) কে দশ হাজার টাকা করে মোট বিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
প্রসিকিউটর হিসেবে ভ্রাম্যমান আদালতকে সহযোগিতা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মাহমুদুল হাসান, বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম, আনসার ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ।
রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২ টা উপজেলার গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওয়াশ প্লান্ট এর হ্যান্ড ওয়াশিং স্টেশন, ড্রিংকিং স্টেশন, হাইজিন কর্নার এর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ মোখলেসুর রহমান মকে,৭ নং প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এমদাদুল হক, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের সাবেক সহ-সভাপতি জামির হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা নুর এনায়েত নুরুজ্জামান হারুন, মান্দা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সালেকুজ্জামান সালেক, প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান, সাবেক প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি লুৎফর রহমান,গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক শাহজামান, ব্রাক ওয়াশ কর্মসূচির ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলমগীর হোসেন, ব্রাক প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মোহাম্মদ আজিম হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।
এছাড়াও ব্রাক কর্তৃক উপজেলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দশটি স্কুলের নিরাপদ পানি,স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাটিন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে কার্যক্রম চলমান।
বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা করে একই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে
দুই যুবক। হত্যার পর খুনিরা গোসল করে এবং শরীরের উত্তেজনা কমাতে শষা ও খেজুর খায়। এরপর তাদের কাছে থাকা একটি ইয়াবা তারা সেখানেই সেবন করে।
গতকাল রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। এর আগে রোববার ভোরের দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায়। তারা দুজনে সম্পর্কে মামাতো ও খালাতো ভাই। সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন এবং মুগ্ধ মাছের দোকানে কাজ করতেন তারা।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্ত ও মুগ্ধ রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তির বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলো। ইয়াবা সেবন দেখে ফেলেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তি। সমাজে ইয়াবা সেবনের কথা প্রকাশের ভয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গামছা পেছিয়ে তাকে হত্যা করা হয। হত্যার সময় গোঙানির শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদের উপর উঠার চেষ্টা করে। এমন সময় তারা সিড়িতেই প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে। মা কে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী। তারা তাকেও রশি পেছিয়ে হত্যা করেন। খুনি দুজনেই একই এলাকার হওয়ায় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদেরকে আগে থেকেই চেনেন এবং জানেন। খুনের বিষয় যাতে কেউ টের না পান এজন্য ১২ বছরের আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে প্রথমে রশি পেচিয়ে এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। একে একে চারজনকে হত্যার পর তারা দুইজনেই শরীরের উত্তেজনা কমাতে গোসল করেন। পরে তারা দুজনে ডাইনিং টেবিলে বসে শশা, খেজুর ও ইয়াবা সেবন করেন। হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষে তারা বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেন এবং স্বর্ণের চুরি আগুন দিয়ে পরিক্ষা করেন, সেটি আসল না নকল। পরে বাকী রাতটুকু চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেন তারা। বাড়িতে থেকে বের হওয়ার সময় যাতে কেউ দেখে না ফেলে এজন্য তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। এরই মধ্যে ওই বাড়িতে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পাউডারের পানিতে ভিজিয়ে রাখেন, যাতে মোবাইলে কোন আঙুৃলের ছাপ না থাকে। শুক্রবার জুমার নামাজ শুরু হওয়ায় রাস্তা ফাঁকা দেখে তারা ওই বাড়ি থেকে সটকে পরে।
এ ঘটনার পরপর পুলিশ তালাবদ্ধ ওই বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের লাশ উদ্ধার করে। পরে রাতেই ইয়াবা সেবনের আলামত ও পারিপাশ্বিক বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দ্জুনেই একই এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হযেছে। গ্রেফতারকৃতরা হত্যার কথা শিকার করেছেন।
উল্লেখ্য,শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত তিনদিন ধরে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখতে পান এলাকাবাসী। এদিকে কয়েকদিন ধরে কোন রকম যোগাযোগ করতে না পেরে ওই শিক্ষকের আত্মীয় স্বজন এলাকায় এসে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তী, সিঁড়ির কাছে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তি ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় এবং একটি কক্ষের ভেতরে খাটের নিচ থেকে তাদের ছোট ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন এবং বাড়ির জিনিস পত্র তছনছ ও ছড়ানো ছিটানো ছিলো।
জানা যায়, রংপুর জিলা স্কুল থেকে শিক্ষকতা পেশা থেকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারী অবসরে যান গণপতি চক্রবর্তী। তিনি নগরীর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন। হত্যার শিকার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আপনার মতামত লিখুন