পটুয়াখালী জেলা এর মহিপুর বাজারে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। বাজারের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানোর কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মহিপুর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখল করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে দোকান স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে বাজার এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় দিন দিন অবৈধ দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে বাজারের ব্যস্ত সময়ে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও নারীসহ সাধারণ পথচারীদের চলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলেও বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
ভুক্তভোগী স্থানীয়রা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চুপাইর গ্রামে গভীর রাতে এক নৃশংস ঘটনার শিকার হয়েছেন স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী। শত্রুতার জের ধরে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি খাবার হোটেলে অগ্নিসংযোগ এবং পাশের একটি দোকানে তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ জুলাই, ২০২৬) ভোর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই দোকান ও হোটেল বন্ধ করে বাড়ি ফিরেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের ওই দোকান ও খাবার হোটেলে হানা দেয়। তারা প্রথমে দোকান ও হোটেলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর চরম শত্রুতা বশত ‘মায়ের দোয়া’ হোটেলে অগ্নিসংযোগ করে এবং পাশের দোকান থেকে নগদ টাকা ও মালামাল লুটপাট করে পালিয়ে যায়।
ভোর ৪টার দিকে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া দেখে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী বিষয়টি টের পান। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার শতশত মানুষ ছুটে এসে নিজেদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় হোটেলের সবকিছু।
আগুনে পুড়ে যাওয়া ‘মায়ের দোয়া’ হোটেলটির মূল মালিক আব্দুর রহিম শিকদার। তিনি এটি ভাড়া দিয়েছিলেন চাঁনমিয়া শেখ নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে। আগুনে চাঁনমিয়া শেখের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
আগুনে হোটেলের ফ্রিজ, ফ্যান, আসবাবপত্র টেবিল, চেয়ার, রেক এবং রান্নার সব সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশের দোকানে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
হোটেল ব্যবসায়ী চানমিয়া শেখ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সব শেষ হয়ে গেল। এই হোটেলের ওপরই আমার পুরো সংসার চলত। এখন আমি পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব?”
এই ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এখনো সন্দেহ করা না গেলেও, শত্রুতার জের ধরেই এমন নৃশংস অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের পূবাইল এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যা ও জনদুর্ভোগ দূর করতে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে পূবাইল কলেজ গেট এলাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উন্নয়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
উদ্বোধন শেষে অতিথিরা পূবাইলের ইছালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পট পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের আওতায় রাস্তা প্রশস্তকরণ, কার্পেটিং, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পথচারীদের জন্য ফুটপাত নির্মাণ করা হবে।
গাজীপুর ৫ মাননীয় সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন
”মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক ও টেকসই সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করার পাশাপাশি পূবাইলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”
সংসদ সদস্য আরও বলেন, সরকার পূবাইলকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং উন্নয়নের এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার চলমান উন্নয়ন কাজগুলো দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে তিনি প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে এলাবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন:
রুবাইয়া ইয়াসমিন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান কাজল, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।
আবু ছাঈদ চৌধুরী, নির্বাহী প্রকৌশলী।
আমান উল্লাহ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী।
আলহাজ্ব মনির হোসেন বকুল, সভাপতি, পূবাইল থানা বিএনপি।
হারুন অর রশিদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক, পূবাইল থানা বিএনপি।
জাকির হোসেন সরকার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
আরিফ হোসেন ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক।
আলহাজ্ব সুলতান উদ্দিন আহমেদ, সাবেক স্থানীয় বিষয়ক সম্পাদক, গাজীপুর মহানগর বিএনপি।
মোশাররফ হোসেন দেওয়ান, সভাপতি, ৪১ নং ওয়ার্ড বিএনপি।
এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রকল্পগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পূবাইল থেকে গাজীপুর পর্যন্ত যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই দূর হবে দীর্ঘদিনের যানজট ও জলাবদ্ধতার সমস্যা। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ এলাকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় টাস্কফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে মাদক সেবন ও বিক্রির অপরাধে নারীসহ মোট ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
১৭ জুলাই ২০২৬খ্রি. শুক্রবার দিনব্যাপী উপজেলার সাওরাইদ বাজার এবং বালীগাঁও এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ উপজেলার সাওরাইদ বাজার ও বালীগাঁও গ্রামে মাদকবিরোধী এ যৌথ অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
অভিযানকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৬টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। অপরাধের তীব্রতা বিবেচনা করে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট তসলিমা বেগম পিতা মৃত ওহিদ সিকদার, ইব্রাহীম পিতা মৃত আমজাদ আলী ,রবিউল পিতা মৃত তারা মিয়া,
সর্বসাং বালিগাওকে ৩ ( তিন) মাস করে, অপরদিকে : মো: মিঠুন পিতা মো: মোসারফ, মানিক মিয়া পিতা মৃত আয়াত আলী, আরিফুল ইসলাম পিতা মৃত রফিজ উদ্দিন সর্ব সাং দিঘুয়া সাওরাইদ মুক্তারপুরকে ১ (এক)মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্তদের তাৎক্ষণিকভাবে গাজীপুর জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানে কোনো প্রকার অর্থদণ্ড (জরিমানা) করা হয়নি।
আদালতে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কালীগঞ্জ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোঃ ইব্রাহীম শেখ। এছাড়া আদালত পরিচালনায় বেঞ্চ সহকারী হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা করেন সামসুন নাহার সিমু।
অভিযান শেষে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলাকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করতে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন