খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শেরপুরে দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় বিপর্যস্ত জনজীবন,কৃষি খাত

পাবলিক বাংলা নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
শেরপুরে দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় বিপর্যস্ত জনজীবন,কৃষি খাত

জুবায়ের আহমেদ রাসেল : গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শেরপুর জেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে, কোথাও আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা থাকে না। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে জেলার বাসিন্দাদের।

ঝিনাইগাতী উপজেলার যোগাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা নবর আলী বিরক্তিভরা কণ্ঠে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে ৮-১০ বার বিদ্যুৎ যায়। আধা ঘণ্টা থাকলে তিন-চার ঘণ্টা থাকে না। রাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। গরমে ঘুমানো যায় না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকায় সাবমার্সিবল মোটর ছাড়া পানি তোলা খুব কষ্টকর। তাই নদী থেকে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলতে হয়। কিন্তু এখন তেলেরও সংকট। কারেন্ট না থাকায় ভাড়ায় মোটর চালিয়ে কোনোভাবে সেচ দিতে হচ্ছে। আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি।

শুধু নবর আলী নন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গ্রামীণ এলাকায় দিনে-রাতে গড়ে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। এর মধ্যে চলছে এসএসসি পরীক্ষা, ফলে শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) শেরপুর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পিডিবির মোট গ্রাহক প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার। বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪২ মেগাওয়াট, তবে গত তিন-চার দিন ধরে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। এতে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। কিছুদিন আগে সরবরাহ আরও কম ছিল বলে জানা গেছে। পিডিবির আওতায় জেলায় প্রায় ৫ হাজার সেচ সংযোগ এবং ৯০টি শিল্প সংযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার। এ খাতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। জেলায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে কৃষি সেচ সংযোগ রয়েছে ১০ হাজার ৮৭৯টি।

স্থানীয়রা জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়েছেন। ইরি ধানে সঠিকভাবে সেচ দিতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পোল্ট্রি খামারিরাও বিপাকে পড়েছেন।

এছাড়া শেরপুরের তিনটি পাহাড়ি উপজেলায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। পাহাড়ি এলাকা ও গাছপালায় ঘেরা অঞ্চলে সামান্য ঝড়ো বাতাস হলেই ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না, যা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া গ্রামের কৃষক মিজান উদ্দিন বলেন, আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো ছিল। এখন দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে ১১টার পর এক-দুই ঘণ্টা থাকে, তারপর আবার নেই। এতে ইরি ধানের সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী আলতাফ হোসেন বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা করতে পারছি না। গরমে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়।

নালিতাবাড়ী উপজেলার ব্যবসায়ী আরমান মিয়া বলেন, লোডশেডিং এত বেশি যে আইপিএসের চার্জও শেষ হয়ে যায়। দোকান অন্ধকার হয়ে যায়, গরমে ক্রেতারা বসতে চায় না। ফলে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শেরপুর জেলা শাখার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ ওঠানামা করে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমরা চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছি, যার কারণে দৈনিক প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।

এ বিষয়ে শেরপুর জেলা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কারণে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে গত তিন-চার দিন ধরে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, ফলে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। তারপরও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষও দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।নির্বাহী প্রকৌশলী।

রংপুর সদর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
রংপুর সদর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন

 

রংপুর সদর উপজেলায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ,মেধা বিকাশ ও সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চাকে বেগবান করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি, রংপুর সদর’। রংপুর সদর উপজেলা পাগলাপীর কলেজ ক্যাম্পাসের পুরাতন লাইব্রেরি ভবনে নবনির্মিত এই পাবলিক লাইব্রেরিটির শুভ উদ্বোধন করা হয়। আজ সোমবার দুপুর ১২টায় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে রংপুর সদর উপজেলা পরিষদের বিশেষ উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন দিগন্তের উন্মোচন করা হয়। রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে লাইব্রেরিটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। রংপুর সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আফতাবুজ্জামানের সুচারু সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের গণমাধ্যম, রাজনীতি, প্রশাসন ও শিক্ষা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের রংপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান এবং সদর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মুখদুমি। বক্তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। ​রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্ মাসুদ রানা এবং রংপুর সদর উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাজহারুল ইসলাম। তারা প্রত্যেকেই তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং সুস্থ মননশীল সমাজ গঠনে বই পড়ার অভ্যাস গড়ার তাগিদ দেন। এছাড়া প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: দুলাল হোসেন, পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদীন এবং পাগলাপীর ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার শাহজাহান। ​লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সংহতি প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল কাদের,সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব রংপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান টিটু, রংপুর সদর উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল হাদি,হরিদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রাসেল,খলেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাসান সাগর,উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান শ্রবন ও যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ কবির। ​এছাড়াও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা শুভ ও কারিমুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল কাহার, জিয়ারুল ইসলাম জিয়াম,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিমসহ পাগলাপীর স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা।
​অনুষ্ঠানের শেষভাগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এই চমৎকার ও যুগোপযোগী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা পরিষদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। উপস্থিত তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষণীয় বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “একটি প্রগতিশীল ও আলোকিত সমাজ গঠনে লাইব্রেরির বিকল্প নেই। বর্তমান যুগে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও মোবাইল আসক্তিতে নিমজ্জিত হচ্ছে, তা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে বইয়ের পাতা অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে।” ​তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই পাবলিক লাইব্রেরি অত্র অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার পরিধি বাড়াতে এবং একটি মেধাভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে বাতিঘর হিসেবে কাজ করবে। জেলা প্রশাসক স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণকে লাইব্রেরিটি নিয়মিত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

চিকিৎসার টাকার অভাবে বিছানায় জুলহাস, বাঁচাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন

এম এ সালাম রুবেল স্টাফ রিপোর্টারঃ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
চিকিৎসার টাকার অভাবে বিছানায় জুলহাস, বাঁচাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন

 

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের ঢাঙ্গীপুকুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা জুলহাস উদ্দীন (৫০) দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা করাতে পারছেন না তিনি।

জুলহাস উদ্দীন মৃত ছামাদ আলীর ছেলে। পেশায় দিনমজুর হলেও প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থতার কারণে তিনি আর কাজে যেতে পারছেন না। নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করছেন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। চিকিৎসা ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় দিনের পর দিন ঘরেই কষ্টে সময় কাটছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে চলছে তার সংসার।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জুলহাস শয্যাশায়ী। একসময় দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তিনি কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তারা বলেন, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে জুলহাসকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।

জুলহাস উদ্দীন বলেন, ‘ডাক্তার বলেছেন দ্রুত অপারেশন করতে হবে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি লাগবে। আমার বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। এত টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি সবার কাছে সহযোগিতা চাই।’
স্থানীয়দের মতে, মানবিক সহায়তা পেলে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন জুলহাস। তার চিকিৎসায় সহায়তা করতে আগ্রহীরা ০১৭৬০-৯১৮২৮২ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

রাজারহাটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
রাজারহাটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খিতাবখাঁ গ্রামে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধনে অংশ নেন ভুক্তভোগী নারী সহ এলাকার প্রায় শতাধিক নারী পুরুষ।
সোমবার ৮ই জুন বিকেল ৫:০০ টায় এই মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সালের পাশ্ববর্তী রাজারহাট সদর ইউনিয়নের নাটুয়া মহল গ্রামের হায়দার আলীর মেয়ে সামিনার সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ গ্রামের সোলেমান মুন্সীর চতুর্থ পুত্র রফিকুল ইসলাম।
বিয়ের পরে তাদের সংসারে রোমানা নামের এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
বিয়ের পর রফিকুল ইসলাম তার ভাবীর সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে স্ত্রী সামিনার সাথে দুরত্ব তৈরি করতে থাকেন। এরেই এক পর্যায়ে ২০১৯ সালে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়। সামিনার ডিভোর্সের পরে ঢাকায় গিয়ে একটি গার্মেন্টসে অপারেটর হিসাবে তিন বছর চাকুরী করেন। এদিকে সামিনার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম বিদেশে (মরিচাস) গমন করেন। সামিনার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলাম পুনরায় সামিনার সাথে বিদেশ থেকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন।তাদের একমাত্র কন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে পুনরায় স্বামী স্ত্রী রুপে ঘর সংসার করার প্রলোভন দেখান।সামিনা অবুঝ কন্যা সন্তানের কথা চিন্তা করে তার সাবেক স্বামীর কথায় রাজি হন। এরপরে রফিকুল ইসলাম সামিনা কে তার গ্রামের বাড়িতে আসতে বলেন। সামিনা ঢাকায় চাকুরী ছেড়ে রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাসায় অবস্থান করতে থাকেন।কয়েকমাস পেরিয়ে গেলে রফিকুল ইসলাম তার বসতবাড়ি পাকা করনের প্রস্তাব সামিনা কে দেন এবং সামিনাকে তার চাকুরীরত অবস্থায় সঞ্চয় করা প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা বাড়ির কাজের জন্য খরচ করতে বলেন। সাদাসিধে সামিনা তার স্বামীর কথায় রাজি হয়ে নিজ উদ্যোগে তার সঞ্চিত টাকা খরচ করে রফিকুল ইসলামের নিজ বাড়িতে টিনশেডের ঘর ভেঙ্গে ইটের দালাল নির্মাণ করেন। এই দালান নির্মাণের সামিনার সমস্ত জমাকৃত অর্থ খরচ করার পাশাপাশি বাড়ি নির্মাণের রাজমিস্ত্রীদের রান্না বান্না করেও খাওয়ান।
বাড়ির কাজ শেষ হবার পরে সামিনা তার বাবার বাসা নাটিয়া মহলে ঘুরতে যান। সেখান থেকে ঘুরে এসে দেখেন তার নিজ হাতে গড়া বাড়িতে রফিকুল ইসলাম বিদেশ থেকে তার ভাইকে নির্দেশ দিয়ে তালাবন্ধ করে রেখেছেন।
এই ঘটনায় জানাজানি হলে এলাকার সাধারণ নারীপুরুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
সামিনা রফিকুল ইসলাম তার বাড়িতে উঠতে না দিয়ে যে অন্যায় করেছেন তার প্রতিবাদে রফিকুল ইসলামের উঠানে এলাকার প্রায় শতাধিক নারীপুরুষ মানববন্ধন করে সামিনা কে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করতে রফিকুল ইসলামের প্রতি আহবান জানান।
উক্ত মানববন্ধনে স্থানীয় নারী রোকাইয়া বেগম,আব্দুল লতিফ,নাসির শেখ,আতিয়ার রহমান সহ বেশ কয়েকজন বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে বক্তারা সামিনার সাথে এধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সেই সাথে একমাত্র কন্যা সন্তান সহ সামিনাকে স্ত্রী রুপে গ্রহণ করার দাবী জানান।
ভুক্তভোগী সামিনা সাংবাদিক কে জানান,আমি ডিভোর্সের পরে আমার একমাত্র কন্যা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি করি।
তিন বছর চাকুরী করে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা জমা করি। আমার সাবেক স্বামী রফিকুল ইসলামের প্রলোভনে সব টাকা দিয়ে তার বাড়ি নির্মাণ করি,এই আশায় আমার একমাত্র কন্যা সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবো বলে।
কিন্তু লোভী রফিকুল ইসলাম বার বার আমার সাথে প্রতারণা করলো। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এর উপযুক্ত বিচার চাই।

রংপুর সদর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন চিকিৎসার টাকার অভাবে বিছানায় জুলহাস, বাঁচাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন রাজারহাটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন সাপাহারে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন কুড়িগ্রামে ব্রাজিলের কাছে আর্জেন্টিনা হার