গভীর রাতে কালীগঞ্জের চুপাইরে দুর্ধর্ষ চুরি, রেস্তোরাঁয় অগ্নিসংযোগ, দুই ব্যবসায়ীর বুকফাটা কান্না
মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চুপাইর গ্রামে গভীর রাতে এক নৃশংস ঘটনার শিকার হয়েছেন স্থানীয় দুই ব্যবসায়ী। শত্রুতার জের ধরে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ‘মায়ের দোয়া’ নামের একটি খাবার হোটেলে অগ্নিসংযোগ এবং পাশের একটি দোকানে তালা ভেঙে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ জুলাই, ২০২৬) ভোর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই দোকান ও হোটেল বন্ধ করে বাড়ি ফিরেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের ওই দোকান ও খাবার হোটেলে হানা দেয়। তারা প্রথমে দোকান ও হোটেলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর চরম শত্রুতা বশত ‘মায়ের দোয়া’ হোটেলে অগ্নিসংযোগ করে এবং পাশের দোকান থেকে নগদ টাকা ও মালামাল লুটপাট করে পালিয়ে যায়।
ভোর ৪টার দিকে আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া দেখে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী বিষয়টি টের পান। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকার শতশত মানুষ ছুটে এসে নিজেদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় হোটেলের সবকিছু।
আগুনে পুড়ে যাওয়া ‘মায়ের দোয়া’ হোটেলটির মূল মালিক আব্দুর রহিম শিকদার। তিনি এটি ভাড়া দিয়েছিলেন চাঁনমিয়া শেখ নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে। আগুনে চাঁনমিয়া শেখের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বনটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
আগুনে হোটেলের ফ্রিজ, ফ্যান, আসবাবপত্র টেবিল, চেয়ার, রেক এবং রান্নার সব সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশের দোকানে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে নগদ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
হোটেল ব্যবসায়ী চানমিয়া শেখ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সব শেষ হয়ে গেল। এই হোটেলের ওপরই আমার পুরো সংসার চলত। এখন আমি পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াব?”
এই ঘটনায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে এখনো সন্দেহ করা না গেলেও, শত্রুতার জের ধরেই এমন নৃশংস অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই ঘটনায় স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



আপনার মতামত লিখুন