খুঁজুন
, ,

তিস্তা নদীর ভাঙনে কালিগঞ্জ খেয়াঘাট রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
তিস্তা নদীর ভাঙনে কালিগঞ্জ খেয়াঘাট রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে

 

তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি-মিনা বাজার ও মিনা বাজার-কালিগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধ দুটির বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ধস ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার পরিবারের বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং হাজার হাজার একর কৃষিজমি চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী বর্ষা মৌসুমেই ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়তে পারে পুরো এলাকা।

শনিবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে মিনা বাজার পর্যন্ত নির্মিত রক্ষা বাঁধের একাধিক স্থানে মাটি ধসে গেছে। কোথাও কোথাও নদীর তীব্র স্রোত বাঁধের একেবারে গা ঘেঁষে আঘাত হানছে। একই চিত্র দেখা গেছে মিনা বাজার থেকে কালিগঞ্জগামী খেয়াঘাট পর্যন্ত নির্মিত রক্ষা বাঁধেও। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে মিনা বাজার পর্যন্ত একটি রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মিনা বাজার থেকে কালিগঞ্জগামী খেয়াঘাট পর্যন্ত আরও একটি রক্ষা বাঁধ নির্মিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতায় দুটি বাঁধেই ক্ষয় ও ভাঙন শুরু হয়েছে।

ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের দাবির মুখে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রায়হান সিরাজীর সুপারিশে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ৪০০টি জিও ব্যাগ সরবরাহ করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর ভয়াবহ ভাঙনের তুলনায় এই ব্যবস্থা অপ্রতুল।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনাইম হোসেন বলেন, “প্রতিদিনই বাঁধের কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এখনই স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে আগামী বন্যায় পুরো এলাকা ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।

আব্দুর রশীদ বলেন, জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে কিছু জায়গা রক্ষা করা গেলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। নদীর স্রোত বাড়লে এসব ব্যাগ টিকবে না। দ্রুত ব্লক পিচিং করা প্রয়োজন।”

ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, “এটি শুধু একটি বাঁধের বিষয় নয়, হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েছি। দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে ব্লক পিচিংয়ের কাজ শুরু করা জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, বাঁধ দুটিকে স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকার একটি ব্লক পিচিং প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা প্রকল্পটির সুপারিশ করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন পায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর বাগডহরা, মিনা বাজার, পূর্বপাড়া, মেম্বারপাড়া, শখেরবাজার ও মটুকপুরসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার পরিবার বসবাস করে। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। তিস্তার তীরবর্তী এসব এলাকায় হাজার হাজার একর জমিতে ধান, ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তিস্তার ভাঙনে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে বাঁধ দুটিতে ব্লক পিচিংয়ের কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মাদারগঞ্জে পূজামন্ডপে সিসি ক্যামেরা সহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে মতবিনিময় সভায় ওসি স্নেহাশিষ রায়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে পূজামন্ডপে সিসি ক্যামেরা সহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে মতবিনিময় সভায় ওসি স্নেহাশিষ রায়

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মাদারগঞ্জে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১ টায় মাদারগঞ্জ মডেল থানা আয়োজিত আসন্ন শারদীয় দূর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারী পুলিশ সুপার মাদারগঞ্জ সার্কেল এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা, মাদারগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি স্নেহাশিষ রায়। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মাদারগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি আনন্দ চন্দ্র সরকার, মাদারগঞ্জ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি লিটন চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার বর্মণ , সাবেক আহবায়ক রাখাল চন্দ্র সহ মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় পূজা মন্ডপ কমিটির সভাপতি/সম্পাদক সহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ২৮ টি পূজা মন্ডপে সিসি ক্যামেরা সহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে বলে জানান মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশিষ রায়।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ

 

মোঃ আলহাজ হোসেন, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:

নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলে অভিযান চালিয়ে তিন পাখি শিকারিকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে উদ্ধারকৃত ৫০টি বকপাখি প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে এবং শিকারিদের ১০টি বিশেষ কিল্লা ঘর ধ্বংস করা হয়েছে।

​শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে উপজেলা প্রশাসন ও রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের যৌথ নির্দেশে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা চলনবিলে এ অভিযান পরিচালনা করেন। উপজেলার আগমুরশন, বামিহাল, কাকিয়ান ও পূর্বভেংড়ী বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ৫০টি বকপাখিসহ তিন শিকারিকে আটক করা হয়।

​পরে আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম প্রত্যেককে ১ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আইনানুগ শাস্তির আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— পূর্বভেংড়ী গ্রামের আব্দুর রশিদ (৫৫), মকছেদ আলী (৫০) ও আবু হানিফ (৪০)।

​অভিযানে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান শিমুল, প্রভাষক নাহমাদুল হকসহ অন্যান্য পরিবেশকর্মী ও সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।​পরিবেশকর্মীরা জানান, পোষা বক ব্যবহার করে কিল্লা ঘর তৈরি করে ফাঁদ পেতে বক শিকার করা হচ্ছিল। অভিযানের মাধ্যমে এসব ক্ষতিকর ফাঁদ ও ঘরগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

​চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম জানান, শীতের আগমনকে কেন্দ্র করে বিশাল চলনবিলে নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। এই সুযোগে অসাধু চক্র পাখি শিকারে মেতে ওঠে। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০১২ সাল থেকে তাদের সংগঠনটি নিয়মিত দুর্গম বিলে সচেতনতামূলক কাজ ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে। বন্যপ্রাণী ও পাখি রক্ষায় এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। এবং আলহাজ হোসেন বলেন আমাদের এই উত্তরচলনবিলের বিভিন্ন মাঠে আমন ধান রোপন করা আছে। যদি আমরা পাখি শিকার করা বন্ধ না করতে পারি তাহলে পোকার আক্রমণে কৃষকের আমন ধান বাঁচানো সম্ভব হবে না।

সিংড়ায় ইটালী ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রবিনের নির্বাচনী গণসংযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ
সিংড়ায় ইটালী ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রবিনের নির্বাচনী গণসংযোগ

 

আলহাজ হোসেন, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৩নং ইটালী ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় বইছে আগাম ভোটের হাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় ইটালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও কুমগ্রামের ঐতিহ্যবাহী তালুকদার পরিবারের সন্তান ইস্তিয়াকুল আলম তালুকদার রবিন ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন।

​শুক্রবার বিকালে কুমগ্রাম বাজার থেকে গণসংযোগটি শুরু হয়ে ইটালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার, গ্রাম ও রাস্তার মোড় প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তিনি সর্বস্তরের মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন, প্রবীণদের দোয়া চান এবং তরুণদের কাছে পরিবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং লিফলেট বিতরণ করেন।

​গণসংযোগে সফরসঙ্গী হিসেবে ইটালী ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

​গণসংযোগকালে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইস্তিয়াকুল আলম তালুকদার রবিন বলেন, “ইটালী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য। আমি তালুকদার পরিবারের সন্তান হিসেবে নয়, বরং এলাকার একজন সেবক হয়ে জনগণের পাশে থাকতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে ইটালী ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জনগণ যদি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে, তবে আমি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করব।”

​তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিকে জনসেবার মাধ্যম মনে করে আমি মাঠে নেমেছি। ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের দুঃখে-কষ্টে সবসময় পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

মাদারগঞ্জে পূজামন্ডপে সিসি ক্যামেরা সহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে মতবিনিময় সভায় ওসি স্নেহাশিষ রায় সিংড়ায় ইটালী ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী রবিনের নির্বাচনী গণসংযোগ হারাগাছে চুল ছিনতাই অভিযোগে আসামি গ্রেপ্তার ভুট্টার রাজধানী লালমনিরহাটকে গড়ে তোলা হবে: ত্রাণমন্ত্রী