খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সিলেট বিএনপি নেতার সেল্ডারে রাহেলা রমরমা ডিজিটাল দেহব্যবসা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
সিলেট বিএনপি নেতার সেল্ডারে রাহেলা রমরমা ডিজিটাল দেহব্যবসা

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন দোপাগুল এলাকায় এক ভয়াবহ ডিজিটাল অপরাধ ও প্রতারণা চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রেমের অভিনয়, নগ্ন ভিডিও কল এবং বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপ প্রবাসী যুবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাহেলা আক্তার নামে এক তরুণী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

চাঞ্চল্যকর এই চক্রের সাথে জড়িত স্বয়ং মেয়ের মা এবং তার মামারা। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিককে প্রাণে মারার ও মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে

যেভাবে পাতা হয় এই নীল ফাঁদ

অনুসন্ধানে জানা যায়, দোপাগুল গ্রামের বাসিন্দা আনু বেগমের মেয়ে রাহেলা আক্তার মূলত ইউরোপ প্রবাসী সহজ-সরল ছেলেদের টার্গেট করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রবাসী ছেলেদের আকর্ষিত করতে রাহেলা ভিডিও কলে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে কথা বলেন এবং যৌন উত্তেজনামূলক কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করেন। যার অসংখ্য স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ বর্তমানে সাংবাদিকদের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

সূত্র বলছে,
রাহেলা এই কাজগুলো করেন তার মা আনু বেগম এবং মামা আক্তার হোসেন ও কয়সর আহমদের সরাসরি ছত্রছায়ায়। প্রবাসী যুবকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য রাহেলার মা ও মামারা ওই ছেলেদের ‘জামাই’ বা ‘দামান’ সম্বোধন করে কথা বলেন। কিন্তু যখনই কোনো যুবক বিয়ের প্রস্তাব দেন বা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন, তখনই তাকে ব্লক করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এই প্রতারক চক্র।

এলাকাবাসীর ভাষ্য

দোপাগুল এলাকার একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই পরিবারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা আগে থেকেই অবগত। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় চাপ দিলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। উল্টো তারা আড়ালে অনলাইন দেহ ব্যবসা ও ব্ল্যাকমেইল চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এই নগ্ন প্রতারণার বিষয়ে তথ্য জানতে রাহেলার মামা কয়সর আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কিছুক্ষণ পরেই নিজেকে সিলেট জেলা তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য দাবি করা মামুন আহমদ নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিককে ফোন করেন। তিনি অত্যন্ত অকথ্য ভাষায় সাংবাদিককে গালিগালাজ করেন এবং যে পত্রিকায় সাংবাদিক কর্মরত সেই পত্রিকা নিয়েও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন।

কথিত এই নেতা ফোনে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বলেন, “তুমি আমাকে চেনো না? আমার নাম বললে সিলেটের বড় বড় নেতারা চেনে।” এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে নানাভাবে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্বেগ
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি কেবল অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সতর্ক করার জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু অপরাধী চক্র এবং তাদের মদদদাতা নেতার মারমুখী আচরণ ও হুমকি তাকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। এ ঘটনায় তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, একজন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় কীভাবে একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের ইজ্জত ও অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে? এই কথিত নেতা কি কেবল রাজনৈতিক পাওয়ার দেখাচ্ছেন, নাকি তিনিও এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভাগীদার? তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার প্রতারণা, ৫ জন আটক

এম এ সালাম রুবেল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার প্রতারণা, ৫ জন আটক

 

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার কেনাবেচার নামে প্রতারণার অভিযোগে পাচঁ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে ভূল্লী থানা পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে  নবগঠিত ভূল্লী উপজেলায় ৫নং শুখানপুকুরী ইউনিয়নের বাং রোড সুইসগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার কৃতরা হলেন,হলেন মানিক হোসেন (৪৩), হাবিবুর রহমান ওরফে হবি (৪৫), আশরাফুল ইসলাম (৪৭), মনোয়ার হোসেন (৪০) এবং মোখলেছ (৪৮)। তাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান ৫ নং শুখানপুকুরী ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে।

ভুল্লি থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিদেশি ডলার বিক্রয়ের নামে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা ওই এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হিসেবে রয়েছেন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট শাখার অগ্রণী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার জুবায়েত জাহিদ (৪৪), একই শাখার পিয়ন আজাহার আলী (৫৪), এবং গোলাম মোস্তফা (৫৫)। তারা সবাই নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার বাসিন্দা।

ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিদেশি ডলার, সাতটি মোবাইল ফোন, নগদ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ডকুমেন্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত আলামত ও নথিপত্র যাচাই করে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

রাজারহাটে মায়ের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনেও বাবাকে ঘরবন্দি করে রাখে সন্তান

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রাজারহাটে মায়ের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনেও বাবাকে ঘরবন্দি করে রাখে সন্তান

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে উপজেলার এক বৃদ্ধকে দীর্ঘদিন ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বড় ছেলের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মায়ের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনেও বাবাকে অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল জলিল (৭৫) ও তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম-এর পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফের বিরুদ্ধে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাবাকে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

অসুস্থ মাহমুদা বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন তার মেয়েরা। বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩ জুন রাতে তিনি মারা যান। পরদিন পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতিকালে বড় ছেলে বাধা দেন এবং বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় দাফন সম্পন্ন করা হয়। পরে খবর পেয়ে মামুনুর রশীদ-এর নেতৃত্বে রাজারহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়।

পুলিশের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকা আব্দুল জলিলকে বের করে আনা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি ও তার ছেলে মিলে মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।

স্থানীয়রা এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও বৃদ্ধকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

ঈদে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারগুলোর মাঝে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আর্থিক সহায়তা প্রদান

মান্দা নওগাঁ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
ঈদে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারগুলোর মাঝে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আর্থিক সহায়তা প্রদান

ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাড়ি ফেরার পথে গত ২৫ মে ২০২৬ তারিখে টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ ও আহত ৫ ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত পরিবারগুলোর মাঝে আজ (০৪ জুন) আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ্যাড. আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খন্দকার মো. আব্দুর রাকিব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নওগাঁ জেলা শাখার আমির এবং অধ্যক্ষ আব্দুস সবুর, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক। তারা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং সমাজের বিত্তবানদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো. নাসির উদ্দীন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে নিহত ১০ জনের পরিবার এবং আহত ৫ জনের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত বক্তারা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সকলের দোয়া কামনা করেন এবং তাদের পুনর্বাসনে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ডলার প্রতারণা, ৫ জন আটক রাজারহাটে মায়ের মৃত্যুর পর জানাজা ও দাফনেও বাবাকে ঘরবন্দি করে রাখে সন্তান ঈদে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারগুলোর মাঝে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আর্থিক সহায়তা প্রদান সেনবাগে গ্রাম আদালতের জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত। নোয়াখালীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ৩ বাস কাউন্টারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।