সিলেট বিএনপি নেতার সেল্ডারে রাহেলা রমরমা ডিজিটাল দেহব্যবসা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬ । ৮:১৮ অপরাহ্ণ

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন দোপাগুল এলাকায় এক ভয়াবহ ডিজিটাল অপরাধ ও প্রতারণা চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রেমের অভিনয়, নগ্ন ভিডিও কল এবং বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপ প্রবাসী যুবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাহেলা আক্তার নামে এক তরুণী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

চাঞ্চল্যকর এই চক্রের সাথে জড়িত স্বয়ং মেয়ের মা এবং তার মামারা। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিককে প্রাণে মারার ও মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে

যেভাবে পাতা হয় এই নীল ফাঁদ

অনুসন্ধানে জানা যায়, দোপাগুল গ্রামের বাসিন্দা আনু বেগমের মেয়ে রাহেলা আক্তার মূলত ইউরোপ প্রবাসী সহজ-সরল ছেলেদের টার্গেট করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রবাসী ছেলেদের আকর্ষিত করতে রাহেলা ভিডিও কলে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে কথা বলেন এবং যৌন উত্তেজনামূলক কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করেন। যার অসংখ্য স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ বর্তমানে সাংবাদিকদের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।

সূত্র বলছে,
রাহেলা এই কাজগুলো করেন তার মা আনু বেগম এবং মামা আক্তার হোসেন ও কয়সর আহমদের সরাসরি ছত্রছায়ায়। প্রবাসী যুবকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য রাহেলার মা ও মামারা ওই ছেলেদের ‘জামাই’ বা ‘দামান’ সম্বোধন করে কথা বলেন। কিন্তু যখনই কোনো যুবক বিয়ের প্রস্তাব দেন বা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন, তখনই তাকে ব্লক করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এই প্রতারক চক্র।

এলাকাবাসীর ভাষ্য

দোপাগুল এলাকার একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই পরিবারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা আগে থেকেই অবগত। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় চাপ দিলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। উল্টো তারা আড়ালে অনলাইন দেহ ব্যবসা ও ব্ল্যাকমেইল চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এই নগ্ন প্রতারণার বিষয়ে তথ্য জানতে রাহেলার মামা কয়সর আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কিছুক্ষণ পরেই নিজেকে সিলেট জেলা তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য দাবি করা মামুন আহমদ নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিককে ফোন করেন। তিনি অত্যন্ত অকথ্য ভাষায় সাংবাদিককে গালিগালাজ করেন এবং যে পত্রিকায় সাংবাদিক কর্মরত সেই পত্রিকা নিয়েও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন।

কথিত এই নেতা ফোনে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বলেন, “তুমি আমাকে চেনো না? আমার নাম বললে সিলেটের বড় বড় নেতারা চেনে।” এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে নানাভাবে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্বেগ
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি কেবল অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সতর্ক করার জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু অপরাধী চক্র এবং তাদের মদদদাতা নেতার মারমুখী আচরণ ও হুমকি তাকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। এ ঘটনায় তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, একজন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় কীভাবে একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের ইজ্জত ও অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে? এই কথিত নেতা কি কেবল রাজনৈতিক পাওয়ার দেখাচ্ছেন, নাকি তিনিও এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভাগীদার? তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহ্ বোরহান মেহেদী, নির্বাহী সম্পাদক : গোলাম রাব্বানী অফিস: মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ই-মেইল : pannewsbdbm@gmail.com, bmbmmehedi77777@gmail.com মোবাইল: 01715410468, 01865610720.

প্রিন্ট করুন