খুঁজুন
শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২৭ আষাঢ়, ১৪৩৩

বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে হামলা, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

কলাপাড়া,কুয়াকাটা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে হামলা, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

 

পটুয়াখালীর মহিপুরে বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে হামলা, জমি দখল, শালিস বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জমি-সংক্রান্ত একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এক ভুক্তভোগী।
অভিযুক্তরা হলেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আকন ফিরোজ, মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বেল্লাল হোসেন গালিব এবং মহিপুর সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাউয়াব সরদার।

সংবাদ সম্মেলন ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্তরা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, শালিস বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, আইয়ুব আকন ফিরোজ ও তাউয়াব সরদার নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তাউয়াব সরদারের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধে আপন ভাইকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

অপরদিকে, বেল্লাল হোসেন গালিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এক দফা আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে পুঁজি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও নিজ দলের ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে পরে অর্থের বিনিময়ে নাম প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করেছেন তিনি। এছাড়া এলাকায় নানা অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহআলম অভিযোগ করেন, তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তাকে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি কোনো দিন মিছিল-মিটিং করিনি। পরে জানতে পারি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় আমাকে প্রতিহিংসাবশত মামলায় জড়ানো হয়েছে।

কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য মো. শামীম হাওলাদার অভিযোগ করেন, তিনি ও বেল্লাল হোসেন গালিব দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অডিটে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গালিবের চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শামীম। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মামলার ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে গালিবের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলাল অভিযোগ করেন, আইয়ুব আকন ফিরোজ ও তার সহযোগীরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। এতে তার হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এসআরএসবি সমিতির সাবেক পরিচালক আল-আমিন হাওলাদার অভিযোগ করেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আইয়ুব আকন ফিরোজ, বেল্লাল হোসেন গালিব ও তাউয়াব সরদারসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এতে তার হাঁটুর হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

এদিকে, সম্প্রতি জমি-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে অন্যের দখলীয় জমিতে ঘর নির্মাণে সহযোগিতার অভিযোগও ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন বলে জানা গেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বেল্লাল হোসেন গালিব বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা কাউকে মারধর করিনি এবং কোনো জমি দখলের সঙ্গে জড়িত নই।

অপর অভিযুক্ত আইয়ুব আকন ফিরোজ বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের জবাবে আমরা সংবাদ সম্মেলন করব।

মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, অন্যায়কারীদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় উভয় পক্ষের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কর্মচারি কর্মকর্তাদের মানববন্ধন, ঘণ্টাব্যাপী সেবা ব্যাহতের অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা

জনী শেখ, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কর্মচারি কর্মকর্তাদের মানববন্ধন, ঘণ্টাব্যাপী সেবা ব্যাহতের অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা

 

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধনের বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, গত ৫ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। পরে ‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট একটি অডিওও ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সরা মানববন্ধন করেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, কর্মকর্তাকে নির্দোষ প্রমাণ ও বিতর্ক সামাল দিতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মানববন্ধনের সময় চিকিৎসাসেবা আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ায় হাসপাতালে আসা রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন উপস্থিত কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাগত সৌজন্যের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। অতীতে এ দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাই তথ্য বা সাক্ষাৎকার দিতে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করাকে বাধ্যতামূলক করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, “আমি সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় অবস্থান করছি। আমাকে মানববন্ধনের একটু আগে না জানানো হয়েছে। এটি আমার নির্দেশে হয়নি।

তিনি অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন, আমার জানা মতে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। তখন বৃষ্টি হওয়ায় রোগীর উপস্থিতিও কম ছিল। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের উদ্যোগে মানববন্ধন করেছেন।”

দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল বলেন মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কে কীভাবে সম্বোধন করবেন, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়। তবে মানববন্ধনের বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেননি।

মাদারগঞ্জে ৭২ ঘন্টা পর সচল ১৮ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা’ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ৭২ ঘন্টা পর সচল ১৮ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা’ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ৭২ ঘন্টা পর উদ্ধার হলো ১৮ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা।
বুধবার দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫ নং জোড়খালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনায় রাস্তা উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে উপজেলার দীঘলকান্দি এলাকায় ১৮ টি পরিবারের যাতায়াতের রাস্তাটি বাশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রেখেছিল ওই এলাকার করিমুজ্জামান। ইউএনও অফিসে এরপূর্বে এবং আজ বুধবার সহ দুইবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) রাসেল দিও অভিযান পরিচালনা করে মুক্ত করে দেয় যাতায়াতের রাস্তা। ভুক্তভোগীদের দাবী জমি নিয়ে কোন বিরোধ নেই। করিমুজ্জামান ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানির জন্য তাদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে রাখে। উভয় পরিবার আত্মীয় স্বজন সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা তারা বলে জানা গেছে।
বন্ধ রাস্তা উন্মুক্ত করে দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গোলাপ আকন্দ,
রফিকুল আকন্দ,
ইব্রাহিম আকন্দ,
ইসমাইল আকন্দসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কে না পাওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী জানান দুটি অভিযোগ দিয়ে ছিলেন তারা। এসিল্যান্ড সরেজমিনে গিয়ে বন্ধ রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়। ভবিষ্যতে জনদূর্ভোগ এবং হয়রানিমুলক কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হু হু করে বাড়ছে তিস্তায় পানি

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
হু হু করে বাড়ছে তিস্তায় পানি

 

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার চর ও দ্বীপচরের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে নদী-তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ মিটার। তিন ঘণ্টা পর সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ২৮ মিটারে। অর্থাৎ মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীর পানি ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একই সময়ে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানির স্তর ৩ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তিস্তা তীরবর্তী কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা মোঃ বদিয়ত মিয়া বলেন, ‘পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে।’

কুড়িগ্রাম জেলার চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মোঃ সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ‘কুড়িগ্রাম ১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত জেলা। একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন। এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পেলেও আমাদের দেশে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়েও প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না।’ তিনি নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বন্যাকবলিত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ বেনজির আহমেদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৫ টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কর্মচারি কর্মকর্তাদের মানববন্ধন, ঘণ্টাব্যাপী সেবা ব্যাহতের অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা মাদারগঞ্জে ৭২ ঘন্টা পর সচল ১৮ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা' প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের হু হু করে বাড়ছে তিস্তায় পানি কালীগঞ্জে লাইফ কেয়ার টিচার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ মান্দার কালিগ্রাম সাঁওতাল পল্লীতে শিশুদের মাঝে ক্যাপ ও ফুটবল বিতরণ