খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩

মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুরে অবৈধ ট্রলিংয়ের বিস্তার, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

মেহেদী হাসান সোহাগ কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুরে অবৈধ ট্রলিংয়ের বিস্তার, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

 

আর্টিসানাল ট্রলিং বোট।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইন অমান্য করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা ও আশাখালী মৎস্য বন্দর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবাধে চলছে অবৈধ ও রূপান্তরিত ‘আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের’ তাণ্ডব। নিষিদ্ধ অতি ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছের পোনা, রেণু, ডিমওয়ালা মা মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির পোনা এবং সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্য ধ্বংস করায় সমুদ্রের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার প্রান্তিক জেলে।

স্থানীয় জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর-আলীপুর অঞ্চলে গত বছর প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি রূপান্তরিত ট্রলিং বোট সক্রিয় ছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬০টিতে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাঠের ট্রলারকে অবৈধভাবে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে। দ্রুত অধিক মুনাফার আশায় একটি সাধারণ ট্রলারকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এসব বড় ট্রলিং বোটের গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা উপকূলীয় অগভীর জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, অনেক সময় এসব বোট উপকূল থেকে কয়েক নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই জাল ফেলে। ফলে উপকূলীয় প্রজনন ক্ষেত্র ও মাছের অভয়াশ্রমগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আর্টিসানাল ট্রলিং বোট। ছবি : সময়ের আলো
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইন অমান্য করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা ও আশাখালী মৎস্য বন্দর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবাধে চলছে অবৈধ ও রূপান্তরিত ‘আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের’ তাণ্ডব। নিষিদ্ধ অতি ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছের পোনা, রেণু, ডিমওয়ালা মা মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির পোনা এবং সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্য ধ্বংস করায় সমুদ্রের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার প্রান্তিক জেলে।

স্থানীয় জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর-আলীপুর অঞ্চলে গত বছর প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি রূপান্তরিত ট্রলিং বোট সক্রিয় ছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬০টিতে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাঠের ট্রলারকে অবৈধভাবে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে। দ্রুত অধিক মুনাফার আশায় একটি সাধারণ ট্রলারকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এসব বড় ট্রলিং বোটের গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা উপকূলীয় অগভীর জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, অনেক সময় এসব বোট উপকূল থেকে কয়েক নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই জাল ফেলে। ফলে উপকূলীয় প্রজনন ক্ষেত্র ও মাছের অভয়াশ্রমগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রলিং বোটে ব্যবহৃত ‘বটম ট্রলিং’ পদ্ধতি সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভারী জাল সমুদ্রের তলদেশ ঘষে ঘষে প্রবাল, সামুদ্রিক ঘাস, শামুক-ঝিনুকের আবাসস্থল এবং বিভিন্ন অণুজীবের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়। এতে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

এছাড়া এসব ট্রলিং বোটে ফিস ফাইন্ডার, জিপিএস, রাডার, ইকো সাউন্ডার, উইঞ্চ মেশিনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে মাছের ঝাঁক সহজেই শনাক্ত করে ব্যাপক হারে আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ছোট নৌকা ও সাধারণ ট্রলারনির্ভর জেলেরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।

মহিপুর ও আলীপুর বন্দরের সাধারণ জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, বড় ট্রলিং বোটগুলো প্রায়ই তাদের জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে লাখ লাখ টাকার জাল ছিঁড়ে যায় এবং ক্ষতির মুখে পড়েন ক্ষুদ্র জেলেরা। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে।

মহিপুরের জেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা দিনের পর দিন সমুদ্রে গিয়ে মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসি। অথচ কিছু প্রভাবশালী ট্রলার মালিক অবৈধ ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সাগরের মাছ ও পোনা নিধন করছে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই এসব বন্ধ করতে পারে।

জেলে আবুল কাশেম বলেন, ছোট মাছ বড় হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ রেণু প্রতিদিন নিধন হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জেলেদের মাছ ধরার মতো কিছুই থাকবে না।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্র দূষণ এবং অবৈধ ট্রলিং—এই তিনটি কারণে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা নিধনের ফলে মাছের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে শুধু ইলিশ নয়, লাক্ষা, পোয়া, রূপচাঁদা, চিংড়িসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছের উৎপাদন কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, রফতানি আয় এবং নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও হুমকির মুখে পড়বে।

জেলেদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং নৌ পুলিশের একটি অংশের পরোক্ষ সুবিধার কারণেই বছরের পর বছর এসব অবৈধ ট্রলার প্রকাশ্যে সাগরে মাছ শিকার করছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা বলেন, অবৈধ ট্রলিং বন্ধে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে কিন্তু এতে তেমন কোনো ফল হয়নি। বরঞ্চ আগের তুলনায় দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এটি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনায় নেই।

এ বিষয়ে ফিশারিজ কর্মকর্তা বখতিয়ার আহমেদ বলেন, অবৈধ জালের কারণে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা নিধন হচ্ছে। ফলে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য ও লাখো মানুষ

নওগাঁর মান্দায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ওয়াশ প্লান্ট উদ্বোধন

মান্দা উপজেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
নওগাঁর মান্দায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ওয়াশ প্লান্ট উদ্বোধন

নওগাঁর মান্দায় ব্রাকের ওয়াশ কর্মসূচি আওতায় ওয়াশ প্লান্ট শুভ উদ্বোধন করেন ডাঃ ইকরামুল বারি টিপু এমপি।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২ টা উপজেলার গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওয়াশ প্লান্ট এর হ্যান্ড ওয়াশিং স্টেশন, ড্রিংকিং স্টেশন, হাইজিন কর্নার এর উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ মোখলেসুর রহমান মকে,৭ নং প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এমদাদুল হক, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের সাবেক সহ-সভাপতি জামির হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা নুর এনায়েত নুরুজ্জামান হারুন, মান্দা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সালেকুজ্জামান সালেক, প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান, সাবেক প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি লুৎফর রহমান,গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক শাহজামান, ব্রাক ওয়াশ কর্মসূচির ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলমগীর হোসেন, ব্রাক প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মোহাম্মদ আজিম হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।

এছাড়াও ব্রাক কর্তৃক উপজেলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দশটি স্কুলের নিরাপদ পানি,স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাটিন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে কার্যক্রম চলমান।

ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা আটক ২

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা আটক ২

 

বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা করে একই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে
দুই যুবক। হত্যার পর খুনিরা গোসল করে এবং শরীরের উত্তেজনা কমাতে শষা ও খেজুর খায়। এরপর তাদের কাছে থাকা একটি ইয়াবা তারা সেখানেই সেবন করে।
গতকাল রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। এর আগে রোববার ভোরের দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায়। তারা দুজনে সম্পর্কে মামাতো ও খালাতো ভাই। সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন এবং মুগ্ধ মাছের দোকানে কাজ করতেন তারা।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্ত ও মুগ্ধ রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তির বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলো। ইয়াবা সেবন দেখে ফেলেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তি। সমাজে ইয়াবা সেবনের কথা প্রকাশের ভয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গামছা পেছিয়ে তাকে হত্যা করা হয। হত্যার সময় গোঙানির শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদের উপর উঠার চেষ্টা করে। এমন সময় তারা সিড়িতেই প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে। মা কে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী। তারা তাকেও রশি পেছিয়ে হত্যা করেন। খুনি দুজনেই একই এলাকার হওয়ায় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদেরকে আগে থেকেই চেনেন এবং জানেন। খুনের বিষয় যাতে কেউ টের না পান এজন্য ১২ বছরের আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে প্রথমে রশি পেচিয়ে এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। একে একে চারজনকে হত্যার পর তারা দুইজনেই শরীরের উত্তেজনা কমাতে গোসল করেন। পরে তারা দুজনে ডাইনিং টেবিলে বসে শশা, খেজুর ও ইয়াবা সেবন করেন। হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষে তারা বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেন এবং স্বর্ণের চুরি আগুন দিয়ে পরিক্ষা করেন, সেটি আসল না নকল। পরে বাকী রাতটুকু চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেন তারা। বাড়িতে থেকে বের হওয়ার সময় যাতে কেউ দেখে না ফেলে এজন্য তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। এরই মধ্যে ওই বাড়িতে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পাউডারের পানিতে ভিজিয়ে রাখেন, যাতে মোবাইলে কোন আঙুৃলের ছাপ না থাকে। শুক্রবার জুমার নামাজ শুরু হওয়ায় রাস্তা ফাঁকা দেখে তারা ওই বাড়ি থেকে সটকে পরে।

এ ঘটনার পরপর পুলিশ তালাবদ্ধ ওই বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের লাশ উদ্ধার করে। পরে রাতেই ইয়াবা সেবনের আলামত ও পারিপাশ্বিক বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দ্জুনেই একই এলাকার বাসিন্দা।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হযেছে। গ্রেফতারকৃতরা হত্যার কথা শিকার করেছেন।

উল্লেখ্য,শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত তিনদিন ধরে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখতে পান এলাকাবাসী। এদিকে কয়েকদিন ধরে কোন রকম যোগাযোগ করতে না পেরে ওই শিক্ষকের আত্মীয় স্বজন এলাকায় এসে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তী, সিঁড়ির কাছে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তি ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় এবং একটি কক্ষের ভেতরে খাটের নিচ থেকে তাদের ছোট ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন এবং বাড়ির জিনিস পত্র তছনছ ও ছড়ানো ছিটানো ছিলো।

জানা যায়, রংপুর জিলা স্কুল থেকে শিক্ষকতা পেশা থেকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারী অবসরে যান গণপতি চক্রবর্তী। তিনি নগরীর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন। হত্যার শিকার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জামালপুরে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে গৃহবধূর মরদেহ,দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
জামালপুরে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে গৃহবধূর মরদেহ,দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার

জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে ইসরাত জাহান (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে আটকে থাকা তাঁর দুই শিশু সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাউসার আহাম্মেদ শাওন (৩৫) পলাতক রয়েছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শেখের ভিটা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দুই শিশু বারবার পানি চাইতে থাকে। তাদের কান্নাকাটি শুনে আশপাশের মানুষের সন্দেহ হলে বিষয়টি ভবনের মালিককে জানানো হয়। পরে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া রয়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে ইসরাত জাহানের নিথর দেহ দেখতে পান তারা। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত ইসরাত জাহান ও কাউসার আহাম্মেদ শাওন দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাদের মেয়ে স্নেহার বয়স ১০ বছর এবং ছেলে মমিন শাহরিয়ারের বয়স ৫ বছর।

স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার বলেন, জানালা দিয়ে বাচ্চা দুটি পানি চাইলে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। পরে ভেতরে ওই নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার পেছনের রহস্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে।

নওগাঁর মান্দায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ওয়াশ প্লান্ট উদ্বোধন ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা আটক ২ জামালপুরে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে গৃহবধূর মরদেহ,দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার নানা সমস্যায় কালীগঞ্জের তাঁতশিল্পের উদ্যোক্ততা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। কুয়াকাটায় দুই দোকান উচ্ছেদ, বেড়িবাঁধের সরকারি জমি দখল নিয়ে প্রশ্ন?