জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-গম) কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা সংস্কার, মাটি ভরাট, জনসাধারণের চলাচল উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিটি প্রকল্পে শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করছেন। প্রকল্পের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদারকিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নের লক্ষ্যে জোরেশোরে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, “২০২৫-২৬ অর্থবছরের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি প্রকল্পের কাজ নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
সাপধরী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ওয়াদুদ বলেন, “সরকারি বিধি-বিধান মেনে শ্রমিকদের মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ পরিচালিত হচ্ছে। বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলায় আমরা সন্তুষ্ট। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে আশা করছি। রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে এলাকার মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবু মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, “গত ১৫ বছরে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত অনেক কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও তদারকি হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমার সংসদীয় আসনের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
স্থানীয়দের মতে, সরকারের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এসব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সকল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে উপজেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন ঘটবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে
আর্টিসানাল ট্রলিং বোট।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইন অমান্য করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা ও আশাখালী মৎস্য বন্দর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবাধে চলছে অবৈধ ও রূপান্তরিত ‘আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের’ তাণ্ডব। নিষিদ্ধ অতি ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছের পোনা, রেণু, ডিমওয়ালা মা মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির পোনা এবং সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্য ধ্বংস করায় সমুদ্রের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার প্রান্তিক জেলে।
স্থানীয় জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর-আলীপুর অঞ্চলে গত বছর প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি রূপান্তরিত ট্রলিং বোট সক্রিয় ছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬০টিতে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাঠের ট্রলারকে অবৈধভাবে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে। দ্রুত অধিক মুনাফার আশায় একটি সাধারণ ট্রলারকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এসব বড় ট্রলিং বোটের গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা উপকূলীয় অগভীর জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, অনেক সময় এসব বোট উপকূল থেকে কয়েক নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই জাল ফেলে। ফলে উপকূলীয় প্রজনন ক্ষেত্র ও মাছের অভয়াশ্রমগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আর্টিসানাল ট্রলিং বোট। ছবি : সময়ের আলো
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইন অমান্য করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা ও আশাখালী মৎস্য বন্দর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবাধে চলছে অবৈধ ও রূপান্তরিত ‘আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের’ তাণ্ডব। নিষিদ্ধ অতি ক্ষুদ্র ফাঁসের জাল এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছের পোনা, রেণু, ডিমওয়ালা মা মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির পোনা এবং সামুদ্রিক প্রাণীর খাদ্য ধ্বংস করায় সমুদ্রের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় জীবিকা সংকটে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার প্রান্তিক জেলে।
স্থানীয় জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর-আলীপুর অঞ্চলে গত বছর প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি রূপান্তরিত ট্রলিং বোট সক্রিয় ছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬০টিতে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাঠের ট্রলারকে অবৈধভাবে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে। দ্রুত অধিক মুনাফার আশায় একটি সাধারণ ট্রলারকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী এসব বড় ট্রলিং বোটের গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা উপকূলীয় অগভীর জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, অনেক সময় এসব বোট উপকূল থেকে কয়েক নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই জাল ফেলে। ফলে উপকূলীয় প্রজনন ক্ষেত্র ও মাছের অভয়াশ্রমগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রলিং বোটে ব্যবহৃত ‘বটম ট্রলিং’ পদ্ধতি সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভারী জাল সমুদ্রের তলদেশ ঘষে ঘষে প্রবাল, সামুদ্রিক ঘাস, শামুক-ঝিনুকের আবাসস্থল এবং বিভিন্ন অণুজীবের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়। এতে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এছাড়া এসব ট্রলিং বোটে ফিস ফাইন্ডার, জিপিএস, রাডার, ইকো সাউন্ডার, উইঞ্চ মেশিনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে মাছের ঝাঁক সহজেই শনাক্ত করে ব্যাপক হারে আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ছোট নৌকা ও সাধারণ ট্রলারনির্ভর জেলেরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।
মহিপুর ও আলীপুর বন্দরের সাধারণ জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, বড় ট্রলিং বোটগুলো প্রায়ই তাদের জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে লাখ লাখ টাকার জাল ছিঁড়ে যায় এবং ক্ষতির মুখে পড়েন ক্ষুদ্র জেলেরা। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে।
মহিপুরের জেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা দিনের পর দিন সমুদ্রে গিয়ে মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসি। অথচ কিছু প্রভাবশালী ট্রলার মালিক অবৈধ ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সাগরের মাছ ও পোনা নিধন করছে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই এসব বন্ধ করতে পারে।
জেলে আবুল কাশেম বলেন, ছোট মাছ বড় হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ রেণু প্রতিদিন নিধন হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জেলেদের মাছ ধরার মতো কিছুই থাকবে না।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্র দূষণ এবং অবৈধ ট্রলিং—এই তিনটি কারণে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা নিধনের ফলে মাছের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে শুধু ইলিশ নয়, লাক্ষা, পোয়া, রূপচাঁদা, চিংড়িসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছের উৎপাদন কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, রফতানি আয় এবং নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও হুমকির মুখে পড়বে।
জেলেদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং নৌ পুলিশের একটি অংশের পরোক্ষ সুবিধার কারণেই বছরের পর বছর এসব অবৈধ ট্রলার প্রকাশ্যে সাগরে মাছ শিকার করছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা বলেন, অবৈধ ট্রলিং বন্ধে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে কিন্তু এতে তেমন কোনো ফল হয়নি। বরঞ্চ আগের তুলনায় দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এটি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনায় নেই।
এ বিষয়ে ফিশারিজ কর্মকর্তা বখতিয়ার আহমেদ বলেন, অবৈধ জালের কারণে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা নিধন হচ্ছে। ফলে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য ও লাখো মানুষ
পটুয়াখালীর মহিপুরে বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে হামলা, জমি দখল, শালিস বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জমি-সংক্রান্ত একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এক ভুক্তভোগী।
অভিযুক্তরা হলেন মহিপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আকন ফিরোজ, মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বেল্লাল হোসেন গালিব এবং মহিপুর সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাউয়াব সরদার।
সংবাদ সম্মেলন ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অভিযুক্তরা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, শালিস বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগ রয়েছে, আইয়ুব আকন ফিরোজ ও তাউয়াব সরদার নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তাউয়াব সরদারের বিরুদ্ধে পারিবারিক বিরোধে আপন ভাইকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
অপরদিকে, বেল্লাল হোসেন গালিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এক দফা আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে পুঁজি করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও নিজ দলের ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে পরে অর্থের বিনিময়ে নাম প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় করেছেন তিনি। এছাড়া এলাকায় নানা অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহআলম অভিযোগ করেন, তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তাকে একটি মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি কোনো দিন মিছিল-মিটিং করিনি। পরে জানতে পারি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় আমাকে প্রতিহিংসাবশত মামলায় জড়ানো হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য মো. শামীম হাওলাদার অভিযোগ করেন, তিনি ও বেল্লাল হোসেন গালিব দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অডিটে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গালিবের চাকরি চলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি তার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শামীম। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মামলার ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে গালিবের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলাল অভিযোগ করেন, আইয়ুব আকন ফিরোজ ও তার সহযোগীরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। এতে তার হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এসআরএসবি সমিতির সাবেক পরিচালক আল-আমিন হাওলাদার অভিযোগ করেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আইয়ুব আকন ফিরোজ, বেল্লাল হোসেন গালিব ও তাউয়াব সরদারসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। এতে তার হাঁটুর হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এদিকে, সম্প্রতি জমি-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় অর্থের বিনিময়ে অন্যের দখলীয় জমিতে ঘর নির্মাণে সহযোগিতার অভিযোগও ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বেল্লাল হোসেন গালিব বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা কাউকে মারধর করিনি এবং কোনো জমি দখলের সঙ্গে জড়িত নই।
অপর অভিযুক্ত আইয়ুব আকন ফিরোজ বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের জবাবে আমরা সংবাদ সম্মেলন করব।
মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, অন্যায়কারীদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় উভয় পক্ষের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এম এ সালাম রুবেল স্টাফ রিপোর্টার : যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং একটি সুন্দর, সুস্থ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১ নম্বর গড়েয়া ইউনিয়নের মিলনপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে মাদকবিরোধী সমাবেশ।
শনিবার (২৭ জুন) রাতে মিলনপুর এলাকায় সচেতন এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। এর কারণে বিপথগামী হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক কলহসহ নানা সামাজিক অপরাধ। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, যুব সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মাদকবিরোধী কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ (মাষ্টার), গড়েয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ত্বসারফ হোসেন স্বরণ, প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন রেনু, বিএনপির নেতা জুলফিকার আলী, ইয়াছিন আলী (মাস্টার), ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রউফ এবং ছাত্রদল নেতা শরিফ মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত সবাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মাদকমুক্ত মিলনপুর ও গড়েয়া ইউনিয়ন গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আপনার মতামত লিখুন