কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : কালীগঞ্জে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে খরিফ-১ মৌসুমে উফশী আউশ ধানের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে প্রনোদনার কর্মসূচীর আওতায় বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এতে এক শত পঞ্চাশ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে জন প্রতি ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলা চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কালীগঞ্জ উপজেলার আয়োজনে কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার ফারজানা তাসলিম’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তনিমা আফ্রাদ।
এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) নূরী তাসমিন ঊমি, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উম্মে রোমান চৌধুরী, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ।
গ্রাম আদালতের জন সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা নোয়াখালীর সেনবাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের হল রুমে কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম। এতে সভাপতিত্ব করেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা কো অডিনেটর মোঃ মোছলে উদ্দিন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খুরশিদ আহম্মদ, সমাজসেবা কর্মকর্তা উপনাস চন্দ্র দাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা পম্পা কর, সেনবাগ প্রেস ক্লাবের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী সহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।##
নোয়াখালীর সেনবাগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নির্ধারিত ভাড়ার মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার অভিযোগে তিনটি যাত্রীবাহী বাস কাউন্টার মালিককে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহসিয়া তাবাসসুম এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং কাউন্টারে ভাড়ার মূল্যতালিকা না থাকার সত্যতা পাওয়ায় কে কে পরিবহন, শাহী পরিবহন এবং জোনাকি পরিবহন কাউন্টার কে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে পরিবহন কাউন্টারগুলোকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম বলেন, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত আজ নানা সংকটে জর্জরিত। একদিকে উপকূলীয় ভাঙন, অন্যদিকে কিছু অসচেতন মানুষের অবহেলা, দখল ও পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের কারণে দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে সৈকতের বেলাভূমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সৈকত রক্ষায় বিভিন্ন সময় প্রকল্প ও বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে টেকসই ও দৃশ্যমান উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়াকাটার উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, জলোচ্ছ্বাস, উচ্চ জোয়ার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সৈকতের বিভিন্ন অংশে ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পর্যটননির্ভর এ অঞ্চলের পরিবেশ ও অর্থনীতি উভয়ই হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা,গাছপালা ধ্বংস এবং পরিবেশের প্রতি উদাসীনতার কারণে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এসব কারণে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য।
পর্যটননির্ভর এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল মনে করেন, কুয়াকাটাকে রক্ষা করতে হলে শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, বরং কার্যকর বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কুয়াকাটার অপার সৌন্দর্য কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন,কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, এটি দেশের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। মাননীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন কুয়াকাটার উন্নয়ন, সৈকত সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন।
উপকূলীয় ভাঙন প্রতিরোধ, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন এবং পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে। কুয়াকাটার পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কুয়াকাটাকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে কুয়াকাটা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেবে এবং পর্যটকদের কাছে একটি বিশ্বমানের সমুদ্রসৈকত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
প্রশ্ন এখন একটাই— কুয়াকাটার প্রকৃত অভিভাবক কে? প্রকৃতি, মানুষ ও পর্যটনের এই অনন্য সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে কুয়াকাটাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে।
মোহাম্মদ রুমী শরীফ।।
বিশেষ প্রতিনিধি।।
01911145091
3/5/2026
আপনার মতামত লিখুন