পলাশ- নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদীর পলাশে স্বামীর বাড়ীতে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা সাইদা বিন দীপা নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার আটিয়াগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দীপা ওই এলাকার প্রবাসী সাকিল মিয়ার স্ত্রী।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার রাতে দীপার মৃত্যুর খবর পেয়ে তার স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে ওইখানে কিছু বিষয় নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হলে তারা অভিযোগ করে বলেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে।
নিহত দীপার বাবার বাড়ী, নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়ন ভূইয়ুম গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মৃত নাজমুল কবির সিদ্দিকর মেয়ে। ঘটনার পর স্বজনদের মধ্যে শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ঘোড়াশাল ফাঁড়ীর ইনর্চাজ মো: মিজানুর রহমান জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
আলোচনা, শুভেচ্ছা বিনিময়, কেক কাটা এবং প্রাণবন্ত মিলনমেলার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে উদযাপিত হয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গণতন্ত্রের সংগ্রামে এনটিভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে চ্যানেলটি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলার আধুনিক ভিআইপি হলরুমে এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার ও ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু এবং এনটিভি দর্শক ফোরামের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এনটিভি দর্শক ফোরামের সভাপতি আহমেদুর রহমান কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনই করে না, বরং গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমেই গণমাধ্যম জনগণের আস্থা অর্জন করে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, এনটিভি দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিনোদনের সমন্বয়ে মানসম্মত অনুষ্ঠান প্রচার করে দেশের মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও চ্যানেলটি একই নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার লুৎফর রহমান মিঠু। তিনি বলেন, সত্য, সাহস ও বস্তুনিষ্ঠতাকে ধারণ করে এনটিভি দেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। দর্শক-শ্রোতাদের ভালোবাসাই এনটিভির পথচলার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ জেলার প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে অতিথিরা এনটিভির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। পরে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ি-মিনা বাজার ও মিনা বাজার-কালিগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকার দুটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধ দুটির বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ধস ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার পরিবারের বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং হাজার হাজার একর কৃষিজমি চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী বর্ষা মৌসুমেই ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়তে পারে পুরো এলাকা।
শনিবার (৪ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে মিনা বাজার পর্যন্ত নির্মিত রক্ষা বাঁধের একাধিক স্থানে মাটি ধসে গেছে। কোথাও কোথাও নদীর তীব্র স্রোত বাঁধের একেবারে গা ঘেঁষে আঘাত হানছে। একই চিত্র দেখা গেছে মিনা বাজার থেকে কালিগঞ্জগামী খেয়াঘাট পর্যন্ত নির্মিত রক্ষা বাঁধেও। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে এলাকাবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে মিনা বাজার পর্যন্ত একটি রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মিনা বাজার থেকে কালিগঞ্জগামী খেয়াঘাট পর্যন্ত আরও একটি রক্ষা বাঁধ নির্মিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি তিস্তার পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতায় দুটি বাঁধেই ক্ষয় ও ভাঙন শুরু হয়েছে।
ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের দাবির মুখে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রায়হান সিরাজীর সুপারিশে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ৪০০টি জিও ব্যাগ সরবরাহ করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর ভয়াবহ ভাঙনের তুলনায় এই ব্যবস্থা অপ্রতুল।
স্থানীয় বাসিন্দা মোনাইম হোসেন বলেন, “প্রতিদিনই বাঁধের কিছু অংশ নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। এখনই স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে আগামী বন্যায় পুরো এলাকা ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে।
আব্দুর রশীদ বলেন, জিও ব্যাগ দিয়ে সাময়িকভাবে কিছু জায়গা রক্ষা করা গেলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। নদীর স্রোত বাড়লে এসব ব্যাগ টিকবে না। দ্রুত ব্লক পিচিং করা প্রয়োজন।”
ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, “এটি শুধু একটি বাঁধের বিষয় নয়, হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্ন। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েছি। দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে ব্লক পিচিংয়ের কাজ শুরু করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, বাঁধ দুটিকে স্থায়ীভাবে রক্ষার জন্য ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকার একটি ব্লক পিচিং প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা প্রকল্পটির সুপারিশ করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠান। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন পায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চর বাগডহরা, মিনা বাজার, পূর্বপাড়া, মেম্বারপাড়া, শখেরবাজার ও মটুকপুরসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার পরিবার বসবাস করে। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। তিস্তার তীরবর্তী এসব এলাকায় হাজার হাজার একর জমিতে ধান, ভুট্টা, গমসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তিস্তার ভাঙনে বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই জনস্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে বাঁধ দুটিতে ব্লক পিচিংয়ের কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মাদারগঞ্জ মডেল থানা ওসি স্নেহাশিষ রায়, মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি এডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আকন্দ রতন, পৌর বিএনপি সভাপতি আব্দুল গফুর, পল্লী বিদ্যুৎ এর ডিজিএম সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন, প্রাণি সম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ আতিকুর রহমান , চরপাকেরদহ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক তৌফিকুল ইসলাম খালেক, সিধুলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রহুল আমিন, মাদারগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মির্জা হুমায়ুন কবির, মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল বারী প্রমূখ। এ সময় এসিল্যান্ড রাসেল দিও সহ মাদারগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আইনশৃংখলা পরিস্থতি স্বাভাবিক রাখা, মানুষদের গ্রাম আদালতমূখী করার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে, মাদক নির্মূলে যার যার অবস্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে এবং পুলিশ প্রশাসন কে সহযোগিতা করতে হবে এরকম বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন