জামালপুর পৌর শহরে আওয়ামী লীগ নেতার গোডাউন থেকে ১ হাজার ৪৪৪ লিটার টিসিবির ভোজ্য তেল জব্দ করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও র্যাব।
রোববার (১ মার্চ) বিকালে জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা বটতলায় র্যাব ও ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে এসব তেল উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গোপন খবর পেয়ে রোববার বিকালে পৌর শহরের বাগেরহাটা বটতলার নূর রাইস মিলের পরিত্যক্ত গোডাউনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও র্যাব। এ সময় ইট দিয়ে পুঁতে রাখা অবস্থায় টিসিবির ৭২২ বোতল ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়। প্রতিটি বোতলে ২ লিটার করে ভোজ্যতেল রয়েছে। গোডাউনের মালিক মৃত মনসুর মিয়া। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহিন ও স্বাধীনবাবু নামে দুজনকে আটক করেছে র্যাব।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মেজর লাবিব বলেন, প্রতিটি বোতল থেকে টিসিবির মোড়ক তুলে ফেলা হয়েছে। বোতলের মুখের দিকের প্লাস্টিক তুলে ফেলা হয়েছে। তবুও কয়েকটি বোতলে এসব মোড়ক রয়েছে। আরও অনেক বোতল তেল বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোঃ রেজাউল করিম মৃধা, নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ফিলোন পোল্ট্রি এন্ড ফিশ ফিডস্ ও ফিলোন ডেভেলপমেন্ট পিএলসি’র উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১৩ই মার্চ শুক্রবার উপজেলার বড়বাঘা হাফিজিয়া মাদ্রাসা মাঠে এ ইফতার মাহফিলে অত্র এলাকার ব্যবসায়ী, সুধীজন সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে অত্র কোম্পানির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ হায়দার রশিদ সোনা। ইফতারের প্রাক্কালে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এস এম ফখরুল আলম।
এছাড়া এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এস এম নুরুজ্জামান।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, রমজান মাস মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিকতা জাগ্রত করার শিক্ষা দেয়। সেই চেতনা থেকেই ফিলোন পোল্ট্রি এন্ড ফিশ ফিডস প্রতি বছর এলাকার মানুষ, ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি সমাজের কল্যাণমূলক কাজে আরও বেশি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করা হয়।
সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটের বিমানবন্দর থানাধীন দোপাগুল এলাকায় এক ভয়াবহ ডিজিটাল অপরাধ ও প্রতারণা চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রেমের অভিনয়, নগ্ন ভিডিও কল এবং বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপ প্রবাসী যুবকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাহেলা আক্তার নামে এক তরুণী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
চাঞ্চল্যকর এই চক্রের সাথে জড়িত স্বয়ং মেয়ের মা এবং তার মামারা। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে এবং তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিককে প্রাণে মারার ও মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে
যেভাবে পাতা হয় এই নীল ফাঁদ
অনুসন্ধানে জানা যায়, দোপাগুল গ্রামের বাসিন্দা আনু বেগমের মেয়ে রাহেলা আক্তার মূলত ইউরোপ প্রবাসী সহজ-সরল ছেলেদের টার্গেট করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রবাসী ছেলেদের আকর্ষিত করতে রাহেলা ভিডিও কলে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে কথা বলেন এবং যৌন উত্তেজনামূলক কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করেন। যার অসংখ্য স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ বর্তমানে সাংবাদিকদের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।
সূত্র বলছে,
রাহেলা এই কাজগুলো করেন তার মা আনু বেগম এবং মামা আক্তার হোসেন ও কয়সর আহমদের সরাসরি ছত্রছায়ায়। প্রবাসী যুবকদের বিশ্বাস অর্জনের জন্য রাহেলার মা ও মামারা ওই ছেলেদের ‘জামাই’ বা ‘দামান’ সম্বোধন করে কথা বলেন। কিন্তু যখনই কোনো যুবক বিয়ের প্রস্তাব দেন বা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন, তখনই তাকে ব্লক করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এই প্রতারক চক্র।
এলাকাবাসীর ভাষ্য
দোপাগুল এলাকার একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই পরিবারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা আগে থেকেই অবগত। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় চাপ দিলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। উল্টো তারা আড়ালে অনলাইন দেহ ব্যবসা ও ব্ল্যাকমেইল চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এই নগ্ন প্রতারণার বিষয়ে তথ্য জানতে রাহেলার মামা কয়সর আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কিছুক্ষণ পরেই নিজেকে সিলেট জেলা তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য দাবি করা মামুন আহমদ নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিককে ফোন করেন। তিনি অত্যন্ত অকথ্য ভাষায় সাংবাদিককে গালিগালাজ করেন এবং যে পত্রিকায় সাংবাদিক কর্মরত সেই পত্রিকা নিয়েও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন।
কথিত এই নেতা ফোনে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বলেন, “তুমি আমাকে চেনো না? আমার নাম বললে সিলেটের বড় বড় নেতারা চেনে।” এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিককে নানাভাবে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের উদ্বেগ
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি কেবল অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সতর্ক করার জন্য ফোন করেছিলেন। কিন্তু অপরাধী চক্র এবং তাদের মদদদাতা নেতার মারমুখী আচরণ ও হুমকি তাকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে। এ ঘটনায় তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রশ্ন উঠেছে, একজন রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় কীভাবে একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের ইজ্জত ও অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে? এই কথিত নেতা কি কেবল রাজনৈতিক পাওয়ার দেখাচ্ছেন, নাকি তিনিও এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভাগীদার? তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মোঃ রুহুল আমিন। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের ফুলখাঁ চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের ফুলখাঁ চাকলা এলাকায় উন্নয়ন সমাজকল্যাণ সংস্থা ভবনে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোঃ রুহুল আমিন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের সাকোয়াঁ গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুলখাঁ চাকলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্কুলের ক্লাস শেষে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন। প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্কুলের বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়ান। প্রতিদিনের মতো প্রাইভেটে যায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। এ সময় সুযোগ বুঝে একা পেয়ে পাশবিক নির্যাতনের পর ধর্ষণের চেষ্টা করেন স্কুল শিক্ষক মোঃ রুহুল আমিন। এ সময় ছাত্রীটি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যায়। পরে কান্নাকাটি করতে করতে পুরো বিষয়টি তার মাকে জানায়। ঘটনার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অনেকেই ঘটনার নিন্দা জানান এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
এ বিষয়ে ফুলখাঁ চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীনেশ চন্দ্র রায় কাজ্জী বলেন, মোঃ রুহুল আমিন আমাদের বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক। স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিভাবক ও সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মামুনুর রশীদ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন