খুঁজুন
রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩

চোরের হাতে ডিউটিরত নাইট গার্ড খুন

সুজন ওরফে ডিপজল চোরের হাতে ডিউটিরত নাইট গার্ড খুন

ঢাকা থেকে :
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
সুজন ওরফে ডিপজল চোরের হাতে ডিউটিরত নাইট গার্ড খুন

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিনিধি : মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যানে বিগত কয়েকটি দুর্ধর্ষ খুনের কারনে শংকিত ঢাকা উদ্যানবাসী। এবার রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন, ঢাকা উদ্যানের বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের হাউজিং এর নাইট গার্ড, মোঃ রবিউল ইসলামকে চাকু দিয়ে ছুড়িকাঘাত করে খুন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহত রবিউলের বড় ভাই মোঃ আশরাফুল আলম (৪০) মোহাম্মদপুর থানায় ১টি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২৫, ১১/১০/২০২৪ ইং।
মামলার এজাহারে রবিউলের বড় ভাই উল্লেখ করেন, আমার মেজ ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৪), তার স্ত্রী চাঁদনী বেগম তাদের ছেলেমেয়ে সহ মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান, রোড নং-২, ব্লক-সি, বাসা নং-২৬ ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করিয়া মোহাম্মদপুর থানাধীন, ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের হাউজিং এর নাইট গার্ডের চাকুরি করিতো। ১১/১০/২০২৪ ইং হতে রাত অনুমান ১.০০ ঘটিকার সময় আমার চাচাতো ভাই জিকরুলের মোবাইল হতে জানায় যে, আমার মেজ ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৪) এর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। কিছুক্ষণ পরে আমার চাচাতো ভাই জিকরুল আমাকে পুনরায় ফোন করে জানায়, আমার ভাই রবিউল ইসলাম মারা গেছে এবং তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। আমি উক্ত সংবাদ পাইয়া আমার গ্রামের বাড়িতে আমার বাবা ও মাকে এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনকে জানাইয়া আমার স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুত রওনা করিয়া উক্ত হাসপাতালে পৌঁছাই। উক্ত হাসপাতালে উপস্থিত লোকজনসহ ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড হাউজিং এর সহকারী ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন ছায়েদী ও সিকিউরিটি সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল হান্নান মোবাইল ফোনে দেখানো মতে, আমার ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম এর লাশ সনাক্ত করি। ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতির লিমিটেড হাউজিং এর সহকারী ম্যানেজার ও তাদের সিকিউরিটি সুপারভাইজারদের নিকট হইতে আমার ভাই মোঃ রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খবর নিয়ে জানা যায় যে, ১০/১০/২০২৪ ইং তারিখ বৃহস্পতিবার ভোররাত অনুমান পাঁচটায় লোহার রড চুরি করিয়া নিয়ে যাওয়ার সময় আমার ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৪) তার সঙ্গীয় অন্যান্য নাইটগার্ড মাহফুজ, আব্দুল মালেক, মোঃ সেলিম মিলে লোহার রড চুরির সাথে জড়িত চোর সুজন ওরফে ডিপজল (২২) সহ তার সঙ্গীয় অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জন চোরদের ধাওয়া করে তাদের নিকট থেকে লোহার রড আটক করে, ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতির লিমিটেড হাউজিং এর ভেতর নিয়ে আসে।পরবর্তীতে আমার ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৪) বৃহস্পতিবার ১০/১০/২০২৪ ইং তারিখ অনুমান ১০ঃ১৫ ঘটিকায় মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের হাউজিং, ব্লক-এ, রোড নং-৩ এর জাকিরের দোকানের সামনে নাইট গার্ডের ডিউটি করার সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অজ্ঞাতনামা ৫-৭জন ব্যক্তিদের সহায়তায় আসামী সুজন ওরফে ডিপজল (২২) তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাই মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (৩৪)এর পেটে ও বাম হাতের বাহুতে, এলো পাথারি আঘাত করিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার দিনের উক্ত সময়ের আশেপাশে সিসি ফুটেজ ক্যামেরায়ও তা পরিলক্ষিত হয়। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক, আমার ভাই মোঃ রবিউলকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

সরেজমিনে জানা যায়, আসামি সুজন ওরফে ডিপজল(২২) এর পিতা মোঃ আনছু। ঠিকানা- ব্লক-এ, রোড নং-৩, ঢাকা উদ্যান, থানা- মোহাম্মদপুর।

নিহত রবিউলের স্ত্রী চাঁদনী বলেন, আমার দুটি বাচ্চা আছে। বাচ্চা দুটি নিয়ে কিভাবে খাব, কিভাবে চলবো? আমার মেয়ে একটা ক্লাস সিক্সে পড়ে, ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। এখন তো আমার দেখার মতো কেউ নাই, আমি খুব অসহায়।ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সিকিউরিটি গার্ড ছিল আমার স্বামী। তাদের কাছে আমি আমার পরিবারের জন্য সার্বিক সহযোগিতা চাচ্ছি এবং সরকারের কাছে আমার স্বামী হত্যার দ্রুত বিচার চাই।

রবিউলের মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলে বলেন, ঘটনার দিন রাতে বাসা থেকে আমার আব্বু ডিউটিতে যাওয়ার সময়,আব্বুকে পরোটা নিয়ে আসার জন্য বলেছিলাম। আব্বু বলছে ঠিক আছে আনমু। রাত ১০ঃ৩০ ঘটিকায় খবর এসেছে আমার আব্বুকে সন্ত্রাসীরা ছুরি মেরেছে। আমার আম্মু সেখানে গিয়েছে। আমি অনেক কান্না করেছি। আমার আব্বুকে যারা খুন করেছে তাদের বিচার চাই।

সিকিউরিটি গার্ডের সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, নাইটগার্ড রবিউল ইসলাম অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামি সুজন ওরফে ডিপজল (২২) নাইট গার্ড রবিউল ইসলামকে হত্যা করে। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই মোঃ আশরাফুল আলম মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আসামিকে ধরে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

উক্ত বিষয়ে, ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সেক্রেটারি ফজলুল করিম বাদল বলেন, আমরা এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই প্রশাসনের কাছে। প্রশাসন যেন দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসে। এলাকার মানুষের নিরাপত্তার কাজে নাইট গার্ডরা দায়িত্ব পালন করে। তাদের যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে তারা কিভাবে কাজ করবে। এ সমস্ত যারা সিকিউরিটি গার্ড আছে তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে প্রশাসনের। আমরা প্রশাসনের কাছে রবিউল হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমরা ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে আমাদের নাইট গার্ড রবিউলের পরিবারের পাশে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।

উক্ত মামলার বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, আলী ইফতেখার হাসান জানান, উক্ত ঘটনা জানার পর থেকেই, আমাদের পুলিশ বাহিনীর ২টি টিম আসামিকে ধরার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজ অনুযায়ী আমরা আসামিকে ধরার জন্য আইডেন্টিফাই করছি। আসামি সুজন ওরফে ডিপজলের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা আমরা তদন্তাধীন রেখেছি। খুব দ্রুত আসামী ধরা পড়বে আশাবাদী।

সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কর্মচারি কর্মকর্তাদের মানববন্ধন, ঘণ্টাব্যাপী সেবা ব্যাহতের অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা

জনী শেখ, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কর্মচারি কর্মকর্তাদের মানববন্ধন, ঘণ্টাব্যাপী সেবা ব্যাহতের অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা

 

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধনের বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আজ বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, গত ৫ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন। পরে ‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট একটি অডিওও ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নার্সরা মানববন্ধন করেন। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, কর্মকর্তাকে নির্দোষ প্রমাণ ও বিতর্ক সামাল দিতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মানববন্ধনের সময় চিকিৎসাসেবা আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়ায় হাসপাতালে আসা রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন উপস্থিত কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাগত সৌজন্যের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। অতীতে এ দপ্তরের কোনো কর্মকর্তাই তথ্য বা সাক্ষাৎকার দিতে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করাকে বাধ্যতামূলক করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, “আমি সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় অবস্থান করছি। আমাকে মানববন্ধনের একটু আগে না জানানো হয়েছে। এটি আমার নির্দেশে হয়নি।

তিনি অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন, আমার জানা মতে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ ছিল না। তখন বৃষ্টি হওয়ায় রোগীর উপস্থিতিও কম ছিল। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের উদ্যোগে মানববন্ধন করেছেন।”

দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল বলেন মুঠোফোনে গণমাধ্যমকর্মীকে বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাকে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কে কীভাবে সম্বোধন করবেন, সেটি ব্যক্তিগত বিষয়। তবে মানববন্ধনের বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেননি।

মাদারগঞ্জে ৭২ ঘন্টা পর সচল ১৮ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা’ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
মাদারগঞ্জে ৭২ ঘন্টা পর সচল ১৮ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা’ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ৭২ ঘন্টা পর উদ্ধার হলো ১৮ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা।
বুধবার দুপুরে মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫ নং জোড়খালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনায় রাস্তা উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে উপজেলার দীঘলকান্দি এলাকায় ১৮ টি পরিবারের যাতায়াতের রাস্তাটি বাশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রেখেছিল ওই এলাকার করিমুজ্জামান। ইউএনও অফিসে এরপূর্বে এবং আজ বুধবার সহ দুইবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) রাসেল দিও অভিযান পরিচালনা করে মুক্ত করে দেয় যাতায়াতের রাস্তা। ভুক্তভোগীদের দাবী জমি নিয়ে কোন বিরোধ নেই। করিমুজ্জামান ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানির জন্য তাদের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে রাখে। উভয় পরিবার আত্মীয় স্বজন সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা তারা বলে জানা গেছে।
বন্ধ রাস্তা উন্মুক্ত করে দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গোলাপ আকন্দ,
রফিকুল আকন্দ,
ইব্রাহিম আকন্দ,
ইসমাইল আকন্দসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কে না পাওয়ায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন চৌধুরী জানান দুটি অভিযোগ দিয়ে ছিলেন তারা। এসিল্যান্ড সরেজমিনে গিয়ে বন্ধ রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়। ভবিষ্যতে জনদূর্ভোগ এবং হয়রানিমুলক কিছু করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হু হু করে বাড়ছে তিস্তায় পানি

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
হু হু করে বাড়ছে তিস্তায় পানি

 

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার চর ও দ্বীপচরের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে নদী-তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ মিটার। তিন ঘণ্টা পর সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ দশমিক ২৮ মিটারে। অর্থাৎ মাত্র তিন ঘণ্টায় নদীর পানি ৩২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

একই সময়ে দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানির স্তর ৩ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর তালুকসিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে। অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া পাটেশ্বরী এলাকায় ৫৪ মিলিমিটার এবং কুড়িগ্রাম সদরে ৫২ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তিস্তা তীরবর্তী কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা চরের বাসিন্দা মোঃ বদিয়ত মিয়া বলেন, ‘পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকার ফসলি জমি ও বসতভিটায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এক রাতে এত দ্রুত পানি বাড়তে আগে দেখিনি। যেভাবে পানি বাড়ছে, তাতে আজ রাতেই আরও অনেক এলাকা প্লাবিত হতে পারে।’

কুড়িগ্রাম জেলার চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মোঃ সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ‘কুড়িগ্রাম ১৬টি নদ-নদীবেষ্টিত জেলা। একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন। এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ পেলেও আমাদের দেশে অনেকেই সর্বস্ব হারিয়েও প্রয়োজনীয় সহায়তা পান না।’ তিনি নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বন্যাকবলিত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ বেনজির আহমেদ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২৮৫ টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিস্তাসহ কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করতে পারে। তাই নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কর্মচারি কর্মকর্তাদের মানববন্ধন, ঘণ্টাব্যাপী সেবা ব্যাহতের অভিযোগ, ভোগান্তিতে রোগীরা মাদারগঞ্জে ৭২ ঘন্টা পর সচল ১৮ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা' প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ভুক্তভোগীদের হু হু করে বাড়ছে তিস্তায় পানি কালীগঞ্জে লাইফ কেয়ার টিচার্স এসোসিয়েশনের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ মান্দার কালিগ্রাম সাঁওতাল পল্লীতে শিশুদের মাঝে ক্যাপ ও ফুটবল বিতরণ