খুঁজুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

চোরের হাতে ডিউটিরত নাইট গার্ড খুন

সুজন ওরফে ডিপজল চোরের হাতে ডিউটিরত নাইট গার্ড খুন

ঢাকা থেকে :
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
সুজন ওরফে ডিপজল চোরের হাতে ডিউটিরত নাইট গার্ড খুন

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিনিধি : মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যানে বিগত কয়েকটি দুর্ধর্ষ খুনের কারনে শংকিত ঢাকা উদ্যানবাসী। এবার রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন, ঢাকা উদ্যানের বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের হাউজিং এর নাইট গার্ড, মোঃ রবিউল ইসলামকে চাকু দিয়ে ছুড়িকাঘাত করে খুন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিহত রবিউলের বড় ভাই মোঃ আশরাফুল আলম (৪০) মোহাম্মদপুর থানায় ১টি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২৫, ১১/১০/২০২৪ ইং।
মামলার এজাহারে রবিউলের বড় ভাই উল্লেখ করেন, আমার মেজ ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৪), তার স্ত্রী চাঁদনী বেগম তাদের ছেলেমেয়ে সহ মোহাম্মদপুর ঢাকা উদ্যান, রোড নং-২, ব্লক-সি, বাসা নং-২৬ ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করিয়া মোহাম্মদপুর থানাধীন, ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের হাউজিং এর নাইট গার্ডের চাকুরি করিতো। ১১/১০/২০২৪ ইং হতে রাত অনুমান ১.০০ ঘটিকার সময় আমার চাচাতো ভাই জিকরুলের মোবাইল হতে জানায় যে, আমার মেজ ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৪) এর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। কিছুক্ষণ পরে আমার চাচাতো ভাই জিকরুল আমাকে পুনরায় ফোন করে জানায়, আমার ভাই রবিউল ইসলাম মারা গেছে এবং তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। আমি উক্ত সংবাদ পাইয়া আমার গ্রামের বাড়িতে আমার বাবা ও মাকে এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনকে জানাইয়া আমার স্ত্রীকে নিয়ে দ্রুত রওনা করিয়া উক্ত হাসপাতালে পৌঁছাই। উক্ত হাসপাতালে উপস্থিত লোকজনসহ ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড হাউজিং এর সহকারী ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন ছায়েদী ও সিকিউরিটি সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল হান্নান মোবাইল ফোনে দেখানো মতে, আমার ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম এর লাশ সনাক্ত করি। ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতির লিমিটেড হাউজিং এর সহকারী ম্যানেজার ও তাদের সিকিউরিটি সুপারভাইজারদের নিকট হইতে আমার ভাই মোঃ রফিকুল ইসলামের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খবর নিয়ে জানা যায় যে, ১০/১০/২০২৪ ইং তারিখ বৃহস্পতিবার ভোররাত অনুমান পাঁচটায় লোহার রড চুরি করিয়া নিয়ে যাওয়ার সময় আমার ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৪) তার সঙ্গীয় অন্যান্য নাইটগার্ড মাহফুজ, আব্দুল মালেক, মোঃ সেলিম মিলে লোহার রড চুরির সাথে জড়িত চোর সুজন ওরফে ডিপজল (২২) সহ তার সঙ্গীয় অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জন চোরদের ধাওয়া করে তাদের নিকট থেকে লোহার রড আটক করে, ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতির লিমিটেড হাউজিং এর ভেতর নিয়ে আসে।পরবর্তীতে আমার ভাই মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৪) বৃহস্পতিবার ১০/১০/২০২৪ ইং তারিখ অনুমান ১০ঃ১৫ ঘটিকায় মোহাম্মদপুর থানাধীন ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের হাউজিং, ব্লক-এ, রোড নং-৩ এর জাকিরের দোকানের সামনে নাইট গার্ডের ডিউটি করার সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অজ্ঞাতনামা ৫-৭জন ব্যক্তিদের সহায়তায় আসামী সুজন ওরফে ডিপজল (২২) তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার ভাই মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (৩৪)এর পেটে ও বাম হাতের বাহুতে, এলো পাথারি আঘাত করিয়া গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার দিনের উক্ত সময়ের আশেপাশে সিসি ফুটেজ ক্যামেরায়ও তা পরিলক্ষিত হয়। পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক, আমার ভাই মোঃ রবিউলকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

সরেজমিনে জানা যায়, আসামি সুজন ওরফে ডিপজল(২২) এর পিতা মোঃ আনছু। ঠিকানা- ব্লক-এ, রোড নং-৩, ঢাকা উদ্যান, থানা- মোহাম্মদপুর।

নিহত রবিউলের স্ত্রী চাঁদনী বলেন, আমার দুটি বাচ্চা আছে। বাচ্চা দুটি নিয়ে কিভাবে খাব, কিভাবে চলবো? আমার মেয়ে একটা ক্লাস সিক্সে পড়ে, ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। এখন তো আমার দেখার মতো কেউ নাই, আমি খুব অসহায়।ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সিকিউরিটি গার্ড ছিল আমার স্বামী। তাদের কাছে আমি আমার পরিবারের জন্য সার্বিক সহযোগিতা চাচ্ছি এবং সরকারের কাছে আমার স্বামী হত্যার দ্রুত বিচার চাই।

রবিউলের মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলে বলেন, ঘটনার দিন রাতে বাসা থেকে আমার আব্বু ডিউটিতে যাওয়ার সময়,আব্বুকে পরোটা নিয়ে আসার জন্য বলেছিলাম। আব্বু বলছে ঠিক আছে আনমু। রাত ১০ঃ৩০ ঘটিকায় খবর এসেছে আমার আব্বুকে সন্ত্রাসীরা ছুরি মেরেছে। আমার আম্মু সেখানে গিয়েছে। আমি অনেক কান্না করেছি। আমার আব্বুকে যারা খুন করেছে তাদের বিচার চাই।

সিকিউরিটি গার্ডের সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, নাইটগার্ড রবিউল ইসলাম অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামি সুজন ওরফে ডিপজল (২২) নাইট গার্ড রবিউল ইসলামকে হত্যা করে। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই মোঃ আশরাফুল আলম মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত আসামিকে ধরে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

উক্ত বিষয়ে, ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সেক্রেটারি ফজলুল করিম বাদল বলেন, আমরা এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই প্রশাসনের কাছে। প্রশাসন যেন দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসে। এলাকার মানুষের নিরাপত্তার কাজে নাইট গার্ডরা দায়িত্ব পালন করে। তাদের যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে তারা কিভাবে কাজ করবে। এ সমস্ত যারা সিকিউরিটি গার্ড আছে তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে প্রশাসনের। আমরা প্রশাসনের কাছে রবিউল হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমরা ঢাকা উদ্যান বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষ থেকে আমাদের নাইট গার্ড রবিউলের পরিবারের পাশে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।

উক্ত মামলার বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, আলী ইফতেখার হাসান জানান, উক্ত ঘটনা জানার পর থেকেই, আমাদের পুলিশ বাহিনীর ২টি টিম আসামিকে ধরার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজ অনুযায়ী আমরা আসামিকে ধরার জন্য আইডেন্টিফাই করছি। আসামি সুজন ওরফে ডিপজলের সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা আমরা তদন্তাধীন রেখেছি। খুব দ্রুত আসামী ধরা পড়বে আশাবাদী।

একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিন বোন এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিন বোন এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ

 

একই দিনে জন্ম, একই ছন্দে বেড়ে ওঠা—আর এবার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাতেও একসঙ্গে অংশ নিলেন তিন বোন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর গ্রামের স্বপ্নীল বর্মন, স্বর্ণালী বর্মন ও সেঁজুতি বর্মন ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একসঙ্গে জন্ম নেয়। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে পড়াশোনা আর বেড়ে ওঠা এই তিন বোন মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে একসঙ্গেই।
তাদের বাবা ঠান্ডারাম বর্মন ও মা ময়না রানী সেন। চার সন্তানের এই পরিবারে বড় মেয়ে মৃদুলা বর্মন ও ছোট ছেলে প্রদ্যুৎ বর্মনের পাশাপাশি এই তিন বোনই পরিবারের মূল আকর্ষণ।
সোমবার তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তিনজনই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। পড়ার টেবিলে পাশাপাশি বসে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে তারা—লক্ষ্য একটাই, ভালো ফলাফল করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করা।
তিন বোন জানায়, ছোটবেলা থেকেই তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করছে। প্রথমে একটি কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হয়ে পরে স্থানীয় আরাজী কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে। সেখানে শিক্ষক-সহপাঠীদের জন্য তাদের আলাদা করে চেনা ছিল বেশ কঠিন।
২০১৮ সালে স্বপ্নীল ও স্বর্ণালী ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হয়, পরে একই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয় সেঁজুতি। তিনজনই একই শিফটে পড়লেও স্বর্ণালীকে পড়তে হয়েছে আলাদা শাখায়। এবার তারা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

পড়াশোনায় তিনজনই মনোযোগী এবং বরাবরই ভালো ফল করে এসেছে। তবে পছন্দের বিষয়ে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে—স্বপ্নীলের প্রিয় জীববিজ্ঞান ও বাংলা সাহিত্য, স্বর্ণালীর জীববিজ্ঞান ও রসায়ন, আর সেঁজুতির পছন্দ জীববিজ্ঞান। খাবারের ক্ষেত্রে তিনজনেরই প্রিয় বিরিয়ানি, যদিও অন্যান্য খাবারে ভিন্নতা আছে। পোশাকে আগে একরকম হলেও এখন আলাদা পছন্দ তৈরি হয়েছে। থ্রি-পিস তাদের সবার প্রিয়, আর বিশেষ আয়োজনে শাড়ি পরতে ভালোবাসে।

পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সক্রিয় তারা। তিনজনই বেতারের ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত শিশুশিল্পী এবং দেশাত্মবোধক গান গাইতে পছন্দ করে। অবসর সময়ে উপন্যাস ও সায়েন্স ফিকশন বই পড়া, গান শোনা ও গাওয়া—এসবই তাদের প্রিয় সময় কাটানোর মাধ্যম।
ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের স্বপ্নও আলাদা। স্বপ্নীল চায় বিসিএস ক্যাডার হতে, স্বর্ণালীর লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া এবং সেঁজুতি হতে চায় শিক্ষক।
তাদের জীবনযাপনও অনেকটাই একসঙ্গে—একই ঘরে থাকা, একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা করা ও খেলাধুলা। ছোটখাটো ঝগড়া হলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না, মুহূর্তেই মিল হয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস দেবনাথ জানান, একই ইউনিফর্মে তাদের আলাদা করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যেত, তাই মাঝে মাঝে আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করতে হতো।

মা ময়না রানী সেন বলেন, একসঙ্গে তিন মেয়েকে বড় করা সহজ ছিল না, তবে তাদের ভালোবাসা সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়।
বাবা ঠান্ডারাম বর্মন বলেন, প্রথমে যমজ সন্তান হবে ভেবেছিলেন, কিন্তু তিন মেয়ে হওয়ায় দুশ্চিন্তা ছিল। এখন তাদের সাফল্যে গর্ব অনুভব করেন এবং তাদের জন্য সর্বোচ্চ দিতে চান।
তিন বোন একসঙ্গে সবার দোয়ায় তারা ভালো ফল করে মা-বাবার মুখ উজ্জ্বল করতে চান।

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা, চারজন পুলিশ হেফাজতে

নওগাঁ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা, চারজন পুলিশ হেফাজতে
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২) তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং মেয়ে সাদিয়া আক্তার (৩)।এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা বেগম (৪৫) ও শিরিনা বেগম (৪০) এবং ভাগনে সবুজ রানাকে (২৫) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাড়ির দরজা-জানালা অক্ষত থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা পরিবারের পরিচিত কেউ হতে পারেন।
এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি শামীম আহমেদ ও নওগাঁর পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম। এ সময় র‌্যাব, সিআইডি ও পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা জানাজানি হয়। বাড়ির সদর দরজাসহ সব জানালা-দরজা অক্ষত রয়েছে। তাহলে হত্যাকারীরা কীভাবে ভেতরে প্রবেশ করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পারিপাশি^কতা দেখে তারা ধারণা করছেন নিজেদের লোকেরাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হাবিবুর রহমানের মরদেহ ঘরের বিছানায় পড়ে ছিল। অন্য একটি ঘরে পাওয়া যায় তাঁর ছেলে ও মেয়ের লাশ। বাড়ির আঙিনায় পড়ে ছিল পপি সুলতানার মরদেহ। ঘটনাটি জানাজানি হয় ভোরের দিকে, যখন হাবিবুরের বাবার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ফাঁসির দাবি করেন তারা।
নিহত হাবিবুর রহমানের প্রতিবেশী খলিলুর রহমান বলেন, হাবিবুর স্ত্রী-সন্তানসহ তার বাবা নমির উদ্দিনকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। রাতের কোন সময় এ ঘটনা ঘটেছে কিছুই বলতে পারছি না। রাতে কোনো চিৎকার চেঁচামেচিও শোনা যায়নি। সকাল ৬টার দিকে তাঁর বাবার চিৎকারের পর এলাকার লোকজন জানতে পারেন।নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। নমির উদ্দিন প্রত্যেক মেয়েকে ১০ কাঠা করে সম্পত্তি দিয়ে অবশিষ্ট সম্পত্তি হাবিবুরের নামে লিখে দেন। এনিয়ে বোনদের সঙ্গে ভাই হাবিবুরের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
হাবিবুরের স্ত্রীর মামা আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, ঈদের আগে একবার খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে তাঁদের অচেতন করার ঘটনাও ঘটেছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে নওগাঁ পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটি ডাকাতির ঘটনা নয়। অন্য কোনো কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
নিয়ামতপুরে চার খুনের মামলায় গ্রেফতার ৩ একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিন বোন এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা, চারজন পুলিশ হেফাজতে রংপুরে সিজারের পর পেটে কাপড় রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ আত্রাই স্কুল পর্যায়ে রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত