খুঁজুন
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

প্রবাসে সড়ক র্দূঘটনায় পঙ্গুত্ববরণক দুইকোটির উপরে পাঠানো টাকা বোন ও ভগ্নিপতির আত্মসাত

প্রবাসে সড়ক র্দূঘটনায় পঙ্গুত্ববরণকারী দিরাইয়ের রফিকুলের চিকিৎসার জন্য কফিল কর্তৃক দুইকোটির উপরে পাঠানো টাকা বোন ও ভগ্নিপতির আত্মসাত

সুনামগঞ্জ থেকে :
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৪, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
প্রবাসে সড়ক র্দূঘটনায় পঙ্গুত্ববরণকারী দিরাইয়ের রফিকুলের চিকিৎসার জন্য কফিল কর্তৃক দুইকোটির উপরে পাঠানো টাকা বোন ও ভগ্নিপতির আত্মসাত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুদূর প্রবাসে ওমানে কর্মরত অবস্থায় সড়ক র্দূঘটনায় পতিত হয়ে বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয় কোম্পানীর কফিল। কিছুদিন পরে কফিল ও ওমান সরকার রফিকুলের চিকিৎসা বাবত দুইকোটি তিনলাখ বাহাত্তর হাজার টাকা পাঠালেও মোট টাকাগুলোর মধ্যে চিকিৎসার নামে কিছু টাকা খরচ করা হলেও প্রায় দেড়কোটি টাকার উপর যৌথ একাউন্ট থেকে উত্তোলন করে আত্মসাত করা হয়েছে বলে গুরুতর অসুস্থ পঙ্গুত্ববরণকারী রফিকুলের ছোটবোন ও স্বজনদের অভিযোগ ।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়,ওমান ফেরৎ বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ রফিকুল ইসলাম(৪৫) তিনি জেলার দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের ছাদিরপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বাছিতের ছেলে। সে মৃত আব্দুল বাছিত ও মাতা জজমালা বেগমের এক ছেলে রফিকুল ইসলাম ও দুই মেয়ে শাহানারা বেগম ও জাহানারা বেগম। পিতার মৃত্যুর পর রফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালে অভাব অনটনের সংসারে সুখ ফিরিয়ে আনতে সোনার হরিণ ধরার স্বঁেপ্ন বিভোর হয়ে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যর দেশ সুদূর প্রবাস ওমানে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে নিজ বাড়িতে একটি বিল্ডিং নির্মাণ করলেও তিনি অবিবাহিত ছিলেন এবং প্রবাসে থেকে পাশর্^বর্তী একই ইউনিয়নের মকসুদপুর গ্রামে দুটি পাড়ায় দুই বোনকে বিবাহ দেন। বড়বোন শাহানারা বেগমকে(৬০) মকসুদপুর গ্রামের মজুল হকের সাথে এবং ছোটবোন জাহানাার বেগমকে একই গ্রামের অন্যপাড়ায় মোঃ আবুল কালামের সাথে বিবাহ দেন।

গত ২০২০ সালে রফিকুল ইসলাম ওমানে কর্মরত অবস্থায় একদিন সড়ক র্দূঘটনায় পতিত হয়ে গুরুতর আহত হয়ে তার অঙ্গহানি ঘটার ফলে তিনি বাকশক্তি ও শ্রবণশক্তি চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে তার কোম্পানীর কফিল তাকে ওমানে অনেকদিন চিকিৎসা শেষে তাকে গত ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরই মাঝে কোম্পানীর কফিল গুরুতর আহত রফিকুলের পরিবারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদানের আশ^াস প্রদান করেন। পরবর্তীতে আহত রফিকুলের আপন বড় দুই বোন (বড়বোন শাহানারা বেগম ও ছোট বোন জাহানাার বেগম) নামে দিরাই পূবালী ব্যাংক শাখায় (হিসাব নম্বর-২৮৬০১০১১৩৯৭৭১) যৌথ একাউন্ট খোল হয় এবং গত ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে এই যৌথ একাউন্টে দুই কোটি ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা এসে জমা হয়। এর আগে গত ২০২৩ সালের ১৬ই জুন লুলু একচেজ্ঞ কোম্পানী এলএলসি (টিটি নম্বর ১২৭১০২৩১১৬৭২৪৮৩৬) ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের একাউন্টে(একাউন্ট নম্বর-১০৮১২০০০০৪০৪৯) ডাচ বাংলা ব্যাংক শাখা শান্তিনগর ব্রাঞ্চ,৪১ চামেলিবাগ(গ্রিন পিচ),শান্তিনগর,ঢাকা-১২১৭) এ শাখায় মোট টাকাগুলো এসে এ্যাম্বাসি অব বাংলাদেশের মাধ্যমে জমা হয়। কিন্ত আহত রফিকুলের চলচাতুর বড়বোন শাহানারা বেগম,তার স্বামী মজুল হক,মেয়ে সিলেটে কর্মরত নার্স সেবিকা মিলে যৌথ একাউন্ট থেকে শাহানারার ছোটবোন জাহানারা বেগমকে ভাইয়ের চিকিৎসা করাতে হবে বলে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে এককোটি টাকা উত্তোলন করে শাহানারা তার ব্যক্তিগত একউন্টে ৫০ লাখ টাকা এবং তার মেয়ে সেবিকা বেগমের একাউন্টে আরো ৫০ লাখ টাকা ট্রান্সফার করে নেন। দ্বিতীয় দফায় বড়বোন আরো টাকা উত্তোলন করবে এটা বুঝতে পেরে ছোট বোন জাহানারা চেক বইয়ে সই করতে রাজি না হওয়াতে প্রথমে তাকে টাকার লোভ দেখানো হয় তাতে ও রাজি না হওয়াতে চলচাতুর শাহানারা বেগম,তার স্বামী মজুল হক ও মেয়ে নার্স সেবিকা বেগম তাকে জাহানারা বেগমকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যৌথ একাউন্ট থেকে আরো ৭০(সত্তর) লাখ টাকা উত্তোলন করে নিজ বাড়িতে দেয়াল ফিরিয়ে বিল্ডিং নির্মাণ কাজ শুরু করার পাশাপাশি দিরাই পৌর শহরে ৬ ডিসিমেল জায়গা নিজের নামে খরিদ করেন। এছাড়াও ছাদিরপুর ২০ লাখ টাকার,৬ লাখ টাকার বোরো জমি এবং ৮ লাখ টাকায় আরো ৪ কেদার জমি খরিদ করেন।

পূূবালী ব্যাংক শাখার তথ্য মতে ইতিমধ্যে গুরুতর অসুস্থ রফিকুলের বড়বোন প্রতারক শাহানারা বেগম,স্বামী মজুল হক ও মেয়ে সেবিকা আক্তার মিলে যৌথ একাউন্ট থেকে ইতিমধ্যে দুইকোটি তিনলাখ বারো হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন এবং ব্যাকে রয়েছেন মোট ষাট(৬০,০০০) হাজার ২০৫ টাকা আছে। এদিকে তাদের গুরুতর আহত ছোটভাই রফিকুল ইসলামকে মাঝে মধ্যে ঢাকা সিলেট নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে লোক দেখানো চিকিৎসা করানো হলেও রফিকুলের স্বজনদের অভিযোগ রফিকুলের বড়বোন শাহানারা বেগম,স্বামী মজুল হক ও মেয়ে সেবিকা ইতিমধ্যে প্রায় দেড়কোটি উপরে টাকা তারা যৌথ একাউন্টি থেকে সরিয়ে নিজের ও মেয়ের একাউন্টে ট্রান্সফার করে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের নামে দিরাই শহরের বাসার জায়গা খরিদ করা সহ কিছু নিজ এলাকায় বোরো জমিন খরিদ করে ফেলেছেন।

বাকশক্তি হারানো রফিকুলের আপন চাচাতো ভাই ও স্বজনদের অভিযোগ অবিলম্বে টাকা আত্মসাতকারী চলচাতুর গুরুতর পঙ্গুত্ব বরণকারী রফিকুলের আপন বড়বোন শাহানারা বেগম, তার স্বামী মজুল হক এবং তাদের মেয়ে (ভাগ্নি) সেবিকা বেগমকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে টাকা আত্মসাতের আসল রহস্য উদঘাটন সম্ভব।স্বজনরা আরো জানান অবিলম্বে সময় কালক্ষেপন না করে আত্মসাতকৃত সবগুলো টাকা উদ্ধারের মাধ্যমে গুরুতর আহত রফিকুলের উন্নত চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী ভারতের ব্যাঙ্গালুরে নিয়ে গেলে রফিকুল পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

এ ব্যাপারে গুরুতর আহত রফিকুলের দুই নম্বর বোন জাহানারা বেগম জানান,আমার ভাই প্রবাসে সড়ক র্দঘটনায় অঙ্গহানি ঘটে। সেখানকার ভিসার মালিক শত চেষ্টা করে ও আমার ভাইকে সুস্থ করতে না পেরে দেশে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে কোম্পানীর মালিক আমাদেও সাথে যোগাযোগ করে একটি একাউন্ট করে দিতে বলেন। আমার আপন বড়বোন চলচাতুর শাহানারা বেগম ,তার স্বামী(দূলাভাই) মজুল হক মিলে বড়বোন শাহানারা ও আমার নামে যৌথ একাউন্ট করে ওমানে কফিলের নিকট পাঠাইয়া দিলে কফিল আমার ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশী টাকায় দুইকোটি তিনলাখ ৭২ হাজারের উপরে টাকা পাটিয়ে দেন। কিন্তু আমার বড়বোন ও ভগ্নিপতি আমার স্বাক্ষর নিয়ে প্রথমেই যৌথ একাউন্টি হতে এককোািট টাকা উত্তোলন করে বড়বোনের ব্যাক্তিগত একাউন্টে ৫০ লাখ টাকা তার মেয়ের একাউন্টে ৫০ লাখ টাকা সরিয়ে নেন। পরবর্তীতে আমার বড়বোন আমাকে আবারো ভাইয়ের চিকিৎসার কথা বলে আরো সত্তর লাখ টাকা উত্তোলন কওে তাদেও বাড়িতে দেয়াল ফিরিয়ে বাড়িতে বিল্ডিংয়ের কাজ চলমান আছে এবং দিরাইয়ে নিজেদেও নামে ৬ ডিসিমেল জায়গা খরিদ করেন এবং আরো বোরো জমিন খরিদ করেন। আমি চাই সরকার ও প্রশাসন দ্রুত আমার অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসার দুইকোটির উপরে টাকা আত্মসাতকারী আমার বড়বোন শাহানারা বেগম ,তার স্বামী মজুল হক ও মেয়ে সেবিকাকে গ্রেফতার করে টাকাগুলো উদ্ধারের দাবী জানান।

এ ব্যাপারে অসুস্থ ছোটভাইয়ের চিকিৎসা বাবত কফিলের পাঠানো দুইকোািট তিনলাখ ৭২ হাজার টাকার অধিকাংশ টাকা আত্মসাতকারী শাহানারা বেগম স্বীকার করেন তার ব্যাক্তিগত একাউন্টে ৫০ লাখ এবং তার মেয়ে সেবিকা আক্তারের একাউন্টে আরো ৫০ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান। আর নিজ বাড়ি মকসুদপুরে দেয়াল ফিরিয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করা,দিরাই শহরে জায়গা রাখা বোরো জমিন খরিদ করার বিষয়ে তাদের টাকা দিয়ে করা হচ্ছে বলে জানান। তবে ছোটবোন জাহানারা বেগম জানান বড়বোন ভাইয়ের সবগুলো টাকা দিয়ে বোন ও দূলাভাই মিলে তাদেও নিজের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে অসুস্থ রফিকুলের বড় ভগ্নিপতি ও প্রতারক শাহানারার স্বামী মজুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।

এ ব্যাপারে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক অসুস্থ রফিকুলের ছোটবোন জাহানারা কর্তৃক অভিযোগ দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষ প্রমানিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নন্দীগ্রামে ছাত্রদল নেতা নবীর শেখের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

আব্দুল আহাদ, নন্দীগ্রাম :
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
নন্দীগ্রামে ছাত্রদল নেতা নবীর শেখের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

 

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নবীর শেখের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বগুড়া জেলা ছাত্রদল।গত মঙ্গলবার জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সোহান ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নবীর শেখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার সাংগঠনিক পদের সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়েছে। বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান এবং সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর নবীর শেখ দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,দল যে আস্থা ও সুযোগ দিয়েছে, তা রক্ষা করতে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবো।

লালমনিরহাটে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, স্ত্রী আটক

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
লালমনিরহাটে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, স্ত্রী আটক

 

লালমনিরহাট জেলা শহরের বাবুপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত যুবক বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত যুবকের নাম হৃদয় ইসলাম (২৬)। তিনি লালমনিরহাট শহরের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং এরশাদ আলীর ছেলে।
অভিযুক্ত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (১৯) আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী এলাকার রুহুল কুদ্দুসের মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন হৃদয় ইসলাম। এসময় তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। আকস্মিক হামলায় গুরুতর জখম হন হৃদয়। তার আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরে দ্রুত তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শ্বাসনালীতে গভীর ক্ষত হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থার অবনতি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

আহত হৃদয়ের বাবা এরশাদ আলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে হৃদয় ও জান্নাতুলের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। তবে গত ১৪ থেকে ১৫ মাস ধরে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নানাভাবে আমার ছেলেকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত জান্নাতুল। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন একাধিকবার বসেছিল। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বুধবার সকালে আমরা পাশের কক্ষে ছিলাম। হঠাৎ হৃদয়ের চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি সে রক্তাক্ত গলা চেপে ধরে আছে, আর তার পাশে ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে জান্নাতুল।”

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. করিম বাদশা বলেন, “আহত যুবকের গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুরে থানায় বৈঠক করতে গিয়ে আ.লীগ নেত্রী আটক

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে থানায় বৈঠক করতে গিয়ে আ.লীগ নেত্রী আটক

 

নীলফামারীর সৈয়দপুর থানায় একটি সালিশি বৈঠকে গিয়ে পৌর মহিলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলার কাজী জাহানারা পারভীনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৈয়দপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে কাজী জাহানারা বেগম থানায় আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। পরে তিনি থানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে থানার ভেতরেই আটক করে।

আটকের পরও থানায় উপস্থিত মহিলা দলের নেত্রীদের সঙ্গে ফের তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তাকে নীলফামারী সদর থানার একটি মামলায় আটক দেখিয়ে সেখানে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে পুলিশ।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় কাজী জাহানারা বেগম ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার।’ এ ঘটনায় থানায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই সৈয়দপুর থানায় তার সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা জানান, নীলফামারীর একটি মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।

তবে কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পরে তাকে নীলফামারী সদর থানায় সোপর্দের জন্য পাঠানো হয়।

নন্দীগ্রামে ছাত্রদল নেতা নবীর শেখের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার লালমনিরহাটে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, স্ত্রী আটক সৈয়দপুরে থানায় বৈঠক করতে গিয়ে আ.লীগ নেত্রী আটক নতুনতারা আয়োজিত ১৬৫তম রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উৎসব বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে জামাতের পক্ষ থেকে গাভী উপহার