রংপুরের পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ জন নারী
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসলো রংপুরের পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ৬৬৫ জন নারী।
বুধবার বেলা ৪ টা ২২ মিনিটে মৌলভীবাজারের জনসভা থেকে সুইচ টিপে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় পীরগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে উপস্থিত উপকার ভোগীদের মোবাইলে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ চলে আসে। এনিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেন তারা। পরে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় পীরগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি জিবা আমিনা খান, স্থানীয় এমপি নুরুল আমিন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মীরা।
ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে খুশি উপকার ভোগীরা। রিতা বর্মন জানালেন, মোবাইলে আমি টাকা পেয়েছি। প্রতিমাসে এই টাকা পাবো। এটা আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকার হবে। বিশেষ করে আমার ছেলেমেয়েরা পুষ্টিহীনতার শিকার। পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার আমি বাচ্চাদের খাওয়াতে পারব। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।
ফ্যামিলি কার্ডের টাকা মোবাইলে পেয়েছেন বিধবা সাহারা বান। তিনি জানালেন সামিনা থাকার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে জীবন যাপন করি আমি। যে টাকাটি পেলাম এবং প্রতি মাসে এই টাকাটা পাব। এটা দিয়ে আমার সংসারের অনেক উপকার হলো। এজন্য আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাই। তার জন্য দোয়া করি তিনি যেন দীর্ঘায়ু হন।
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অর্চনা রানী নামের এক গৃহবধূ জানালেন, আমার দুইটা বাচ্চা স্কুলে পড়াশোনা করে। তাদের ঠিকমতো প্রাইভেট দিতে পারি না, বই জামাকাপড়ও দিতে পারি না। আমি মনে যে টাকাটা প্রতি মাসে পাব সেখান থেকে বাচ্চাদের শিক্ষা খাতে খরচ করব। আর বাকি কিছু টাকা জমাবো। সেই টাকা দিয়ে গরু কিনব। বছর শেষে বিক্রি করব।
অনুষ্ঠানের আয়োজক জেলা বিএনপি আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ” যারা বলেছিল ফ্যামিলি কার্ড দিতে পারবো না। তাদের মুখে চুনকালি পরলো আজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি সবার আগে বাংলাদেশ সবার জন্য বাংলাদেশ। গুপ্তরা যতই ষড়যন্ত্র করুক বাংলাদেশকে উন্নয়ন অগ্রগতি থেকে ঠেকাতে পারবেনা।
পীরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে রংপুরের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে আনব। যাতে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু জানান, বিএনপি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। বিএনপিতে জনগণের দল এর মাধ্যমে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। দুর্নীতি মুক্তভাবে বিএনপি নারীদের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবে। ফ্যামিলি কার্ডে রংপুরকে বেছে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো তিনি।
রংপুর ৬ আসনের এমপি নুরুল আমিন জানান, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি ভালো পদক্ষেপ। আমরা চাই সবার মাঝে এই কার্ড পৌঁছে যাক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি’র সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি (রংপুর ৬ ও ৫ আসনের জন্য তদারকিতে থাকা) জিবা আমিনা খান জানান, ” ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমিক দেয়া টাকা দিয়ে নারীরাতাদের পরিবারের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং হাইজিন খাতে ব্যয় করার সুযোগ পাবে। এতে একটি পরিবার ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকবে। পুরুষের পাশাপাশি নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি নারীর হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিবে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সমাজসেবা মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে চতরা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ৮৫৫ জনকে প্রাথমিকভাবে সিলেকশন দেয়া হয়। পরে সেখান থেকে অতি গুরুত্ব বিবেচনায় ৬৬৫ জনকে চূড়ান্ত হিসেবে এই কার্ড দেয়া হলো। আজ তারা এ মাসের টাকা পেলেন। ভাবে প্রতি মাসে তারা তাদের মোবাইলে ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পেয়ে যাবেন।



আপনার মতামত লিখুন