খুঁজুন
, ,

শেরপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ঘাঘড়া খানবাড়ি জামে মসজিদ

জুবায়ের আহমেদ রাসেল :
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
শেরপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ঘাঘড়া খানবাড়ি জামে মসজিদ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ঘাঘড়া লস্কর এলাকায় নিভৃত গ্রামীণ পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে মোগল আমলের স্মৃতি বহনকারী ঐতিহাসিক ঘাঘড়া খানবাড়ি জামে মসজিদ। শত শত বছর ধরে এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুশীলন, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত এই প্রাচীন স্থাপনাটি সময়ের পরিক্রমায় এখনও অতীতের সাক্ষ্য বহন করে চলেছ স্থানীয় সূত্র ও ইতিহাস–ঐতিহ্য অনুসন্ধানকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি বাংলা ১২২৮ সনে নির্মিত হয়, যা ইংরেজি গণনা অনুযায়ী ১৬০৮ সালের কাছাকাছি সময়ের। যদিও এর সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে। তবু অধিকাংশের ধারণা মসজিদটির বয়স চার থেকে পাঁচ শতাব্দীর বেশি।

লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, ‘পালানো খাঁ’ ও ‘জব্বার খাঁ’ নামে দুই সহোদর কোনো এক রাজ্যের সেনাপতি ছিলেন। কয়েক শ বছর আগে এক যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তারা বাংলার ঝিনাইগাতী এলাকায় এসে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেখানে বসতি স্থাপন করে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা পরবর্তী সময়ে ঘাঘড়া খানবাড়ি জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। অন্যদিকে স্থানীয় ইতিহাস অনুসন্ধানকারীদের কেউ কেউ মনে করেন, আজিমোল্লাহ খান নামের এক ব্যক্তি মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মসজিদটির গায়ে থাকা বিভিন্ন কারুকাজ ও নির্মাণশৈলির নিদর্শন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়, এটি মোগল আমলে বক্সার বিদ্রোহী নেতা হিরঙ্গী খানের সময়কালে নির্মিত হয়ে থাকতে পারে।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে মসজিদটি বেশ ব্যতিক্রমধর্মী। এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকৃতির এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট। মসজিদের ভেতরে রয়েছে দুটি সুদৃঢ় খিলান ও একটি মেহরাব। দেয়ালজুড়ে বিভিন্ন রঙের ফুল ও ফুলদানির কারুকাজ শোভা পাচ্ছে, যা প্রাচীন শিল্পকৌশলের একটি অনন্য নিদর্শন।

মসজিদের ওপর একটি বিশাল গম্বুজকে ঘিরে ছোট-বড় মোট ১০ থেকে ১২টি মিনার রয়েছে। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুটি জানালা এবং পূর্ব দিকে একটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। প্রায় চার ফুট পুরু দেয়াল চুন ও সুরকির গাঁথুনিতে নির্মিত, যা সেই সময়ের স্থাপত্য কৌশলের দৃঢ়তা ও স্থায়িত্বের পরিচায়ক।

মসজিদটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর নির্মাণে ব্যবহৃত ইট। ইটগুলো চারকোনা টালির মতো আকৃতির, যা প্রাচীন স্থাপত্যের একটি বিশেষ ধরণ। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় ছয় থেকে সাতশ বছর আগে এ ধরনের ইট ব্যবহারের প্রচলন ছিল। এ ছাড়া মসজিদের আস্তরণে ঝিনুক চূর্ণ বা ঝিনুকের লালার সঙ্গে সুরকি, পাট কিংবা তন্তুজাতীয় আঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

স্থাপত্যশৈলীতে গ্রিক ও কোরিনথিয়ান রীতির প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়, যা এই মসজিদটিকে অন্যান্য প্রাচীন মসজিদের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

খানবাড়ির খান বংশের লোকজনের ওয়াকফ করা প্রায় ৫৮ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটি অবস্থিত। এর মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশ জায়গাজুড়ে রয়েছে মূল ভবন ও বারান্দা এবং বাকি ৪১ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে কবরস্থান। মসজিদের পাশেই রয়েছে দুটি পুকুর, যার আয় দিয়ে মসজিদের বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

মসজিদের ভেতরে ইমামসহ তিন কাতারে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। এছাড়া মসজিদের বারান্দা ও খোলা জায়গায় আরও প্রায় ১০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শ মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

একসময় মসজিদের দরজায় কষ্টিপাথরে খোদাই করা আরবি ভাষায় এর নির্মাণকাল উল্লেখ ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সেই কষ্টিপাথরটি চুরি হয়ে যায়। ফলে ঐতিহাসিক এই নিদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হারিয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় এবং এটিকে তালিকাভুক্ত একটি পুরাকীর্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ খুব একটা দৃশ্যমান নয়।

সম্প্রতি দেখা গেছে, শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সবুজে ঘেরা ঘাঘড়া গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি। কয়েরুট সড়ক থেকে পশ্চিমে প্রায় দুই কিলোমিটার মেঠোপথ পাড়ি দিলেই সবুজ ঘাসে ঘেরা মাঠের মাঝে চোখে পড়ে মোগল আমলের এই স্থাপনাটি। বর্তমানে মসজিদের ভেতর সাদা রং করা থাকায় আগের রঙিন কারুকাজ তেমন স্পষ্ট দেখা যায় না।

এলাকার স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ধারণা করা হয় মসজিদটি ১৬০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোগল আমলে বক্সার বিদ্রোহী নেতা হিরঙ্গী খানের সময় এটি নির্মিত হয়েছে বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। তিনি বলেন, মসজিদটি এতটাই দৃষ্টিনন্দন যে প্রতিদিন এখানে দর্শনার্থীরা আসেন এবং অনেকে নামাজ আদায়ও করেন। তবে দীর্ঘদিন পুরোনো হলেও সংরক্ষণ ও সংস্কারে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি জেলার পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. ফেরদৌস খান বলেন, প্রায় ৫০০ বছর আগে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। বংশপরম্পরায় দাদার পর বাবা এবং বর্তমানে তিনি এর দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয় এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিন রয়েছেন। তিনি জানান, মসজিদের নামে দুটি পুকুর রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে বিভিন্ন খরচ বহন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, দূরদূরান্ত থেকে মানুষ মোগল আমলের এই মসজিদটি একনজর দেখতে আসেন। আগে মসজিদের ভেতরের কারুকাজে বিভিন্ন রঙ ছিল, কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সাদা রং করে দেওয়ায় আগের সৌন্দর্য আর তেমন দেখা যায় না।

স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে ঝিনাইগাতীর এই ঐতিহাসিক মসজিদটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবেই নয়, বরং জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও নতুনভাবে পরিচিতি পেতে পারে।

কালীগঞ্জে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে কালীগঞ্জে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের সেন্ট নিকোলাস স্কুল এন্ড কলেজে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.টি.এম কামরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন। অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন অত্র কলেজের সহকারী শিক্ষক মার্টিন পেরেরা ও আমেনা খাতুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদার, উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক হুমায়ুন কবির মাষ্টার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতিকুর রহমান খান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, সেন্ট নিকোলাস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রাদার উজ্জল প্লাসিক পেরেরা।
অন্যান্যের মাঝে উপজেলা সমবায় অফিসার আতাউর রহমান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. সাইফুল ইসলাম সুমন, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক, সুশিল সমাজের প্রতিনিধি ও অভিভাবকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে অনুপ্রাণিত করে। শিক্ষার্থীদের মাঝে নজরুলের জীবন, কর্ম ও সাহিত্যচর্চা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা। বক্তারা আরোও বলেন, নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী আদর্শ সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নজরুলের সাহিত্য ও জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। দিনব্যাপী এ আয়োজন শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে জাতীয় কবির জীবন ও সৃষ্টিকর্ম সম্পর্কে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

মান্দায় কাশোঁপাড়ায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রইচ উদ্দিনের সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মান্দা উপজেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
মান্দায় কাশোঁপাড়ায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রইচ উদ্দিনের সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

​নওগাঁর মান্দা উপজেলার ১২ নং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের স্থানীয় সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত চক্ষু রোগীদের সেবায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, ছানি অপারেশন ও চশমা বিতরণ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উপজেলার কাঁশোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই চক্ষু শিবির ও চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালিত হয়।

​প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক আয়োজন ও চিকিৎসাসেবায় স্থানীয় সহযোগিতায় ছিলেন ১২ নং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ রইচ উদ্দিন মন্ডল।

​ক্যাম্পে দিনভর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক রোগীকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে ছানি চিহ্নিত রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশন এবং মানসম্মত বিদেশি লেন্স সংযোজনের জন্য নির্বাচন করা হয়। এসব রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও কালো চশমা সম্পূর্ণ ফ্রিতে প্রদান করা হবে বলে আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া সাধারণ রোগীদের সুবিধার্থে ন্যায্যমূল্যে চোখের মাংসবৃদ্ধি অপারেশন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ক্রয়ের সুব্যবস্থা ছিল।

​ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, নওগাঁর সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এবং অভিজ্ঞ এমবিবিএস চক্ষু চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিম দিনব্যাপী এই রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, চিকিৎসা ক্যাম্পটির সর্বাত্মক অর্থনৈতিক সহযোগিতায় ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘অরবিস ইন্টারন্যাশনাল’ ও ‘পিকেএসএফ’।

​আয়োজনের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রইস উদ্দিন মন্ডল এবং চিকিৎসকরা জানান, গ্রামের দরিদ্র ও দুস্থ মানুষ যারা আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে সময়মতো চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না, তাঁদের দোরগোড়ায় বিনামূল্যে আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই মানবিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পলবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটির আনন্দ মিছিল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
পলবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটির আনন্দ মিছিল

মোঃ হোসেন শাহ্‌ ফকির ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ৮নং পলবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা উপলক্ষে আনন্দ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিরাজাবাদ বাজারে নবগঠিত ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে এ আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে বিকেল থেকেই সিরাজাবাদ বাজার এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সিরাজাবাদ বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নতুন কমিটি ঘোষণা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মিছিল শেষে সিরাজাবাদ বাজারে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তার আলী মেম্বার, যুবনেতা সাজেদুল ইসলাম এবং নবগঠিত কমিটির ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নবীন মন্ডল।

বক্তারা বলেন, ৮নং পলবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তারা নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

পথসভায় বক্তারা ৮নং পলবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা করায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুল ইসলাম নবাবসহ বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তারা বলেন, নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। এ সময় বক্তারা নবগঠিত কমিটির সকল নেতৃবৃন্দকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

আনন্দ মিছিল ও পথসভায় নবগঠিত ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিএনপি, যুবদল, কৃষকদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালীগঞ্জে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত মান্দায় কাশোঁপাড়ায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রইচ উদ্দিনের সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পলবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটির আনন্দ মিছিল ইসলামপুরে পলবান্ধা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন আত্রাইয়ে তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা