খুঁজুন
রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শেরপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ঘাঘড়া খানবাড়ি জামে মসজিদ

জুবায়ের আহমেদ রাসেল :
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
শেরপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারক ঘাঘড়া খানবাড়ি জামে মসজিদ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ঘাঘড়া লস্কর এলাকায় নিভৃত গ্রামীণ পরিবেশে দাঁড়িয়ে আছে মোগল আমলের স্মৃতি বহনকারী ঐতিহাসিক ঘাঘড়া খানবাড়ি জামে মসজিদ। শত শত বছর ধরে এলাকাবাসীর ধর্মীয় অনুশীলন, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে পরিচিত এই প্রাচীন স্থাপনাটি সময়ের পরিক্রমায় এখনও অতীতের সাক্ষ্য বহন করে চলেছ স্থানীয় সূত্র ও ইতিহাস–ঐতিহ্য অনুসন্ধানকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি বাংলা ১২২৮ সনে নির্মিত হয়, যা ইংরেজি গণনা অনুযায়ী ১৬০৮ সালের কাছাকাছি সময়ের। যদিও এর সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে। তবু অধিকাংশের ধারণা মসজিদটির বয়স চার থেকে পাঁচ শতাব্দীর বেশি।

লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, ‘পালানো খাঁ’ ও ‘জব্বার খাঁ’ নামে দুই সহোদর কোনো এক রাজ্যের সেনাপতি ছিলেন। কয়েক শ বছর আগে এক যুদ্ধে পরাজিত হয়ে তারা বাংলার ঝিনাইগাতী এলাকায় এসে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেখানে বসতি স্থাপন করে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা পরবর্তী সময়ে ঘাঘড়া খানবাড়ি জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। অন্যদিকে স্থানীয় ইতিহাস অনুসন্ধানকারীদের কেউ কেউ মনে করেন, আজিমোল্লাহ খান নামের এক ব্যক্তি মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মসজিদটির গায়ে থাকা বিভিন্ন কারুকাজ ও নির্মাণশৈলির নিদর্শন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়, এটি মোগল আমলে বক্সার বিদ্রোহী নেতা হিরঙ্গী খানের সময়কালে নির্মিত হয়ে থাকতে পারে।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে মসজিদটি বেশ ব্যতিক্রমধর্মী। এক গম্বুজবিশিষ্ট বর্গাকৃতির এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুট। মসজিদের ভেতরে রয়েছে দুটি সুদৃঢ় খিলান ও একটি মেহরাব। দেয়ালজুড়ে বিভিন্ন রঙের ফুল ও ফুলদানির কারুকাজ শোভা পাচ্ছে, যা প্রাচীন শিল্পকৌশলের একটি অনন্য নিদর্শন।

মসজিদের ওপর একটি বিশাল গম্বুজকে ঘিরে ছোট-বড় মোট ১০ থেকে ১২টি মিনার রয়েছে। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুটি জানালা এবং পূর্ব দিকে একটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। প্রায় চার ফুট পুরু দেয়াল চুন ও সুরকির গাঁথুনিতে নির্মিত, যা সেই সময়ের স্থাপত্য কৌশলের দৃঢ়তা ও স্থায়িত্বের পরিচায়ক।

মসজিদটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর নির্মাণে ব্যবহৃত ইট। ইটগুলো চারকোনা টালির মতো আকৃতির, যা প্রাচীন স্থাপত্যের একটি বিশেষ ধরণ। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় ছয় থেকে সাতশ বছর আগে এ ধরনের ইট ব্যবহারের প্রচলন ছিল। এ ছাড়া মসজিদের আস্তরণে ঝিনুক চূর্ণ বা ঝিনুকের লালার সঙ্গে সুরকি, পাট কিংবা তন্তুজাতীয় আঁশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

স্থাপত্যশৈলীতে গ্রিক ও কোরিনথিয়ান রীতির প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়, যা এই মসজিদটিকে অন্যান্য প্রাচীন মসজিদের তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

খানবাড়ির খান বংশের লোকজনের ওয়াকফ করা প্রায় ৫৮ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটি অবস্থিত। এর মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশ জায়গাজুড়ে রয়েছে মূল ভবন ও বারান্দা এবং বাকি ৪১ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে কবরস্থান। মসজিদের পাশেই রয়েছে দুটি পুকুর, যার আয় দিয়ে মসজিদের বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

মসজিদের ভেতরে ইমামসহ তিন কাতারে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। এছাড়া মসজিদের বারান্দা ও খোলা জায়গায় আরও প্রায় ১০০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। সব মিলিয়ে প্রায় দেড়শ মুসল্লির একসঙ্গে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

একসময় মসজিদের দরজায় কষ্টিপাথরে খোদাই করা আরবি ভাষায় এর নির্মাণকাল উল্লেখ ছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সেই কষ্টিপাথরটি চুরি হয়ে যায়। ফলে ঐতিহাসিক এই নিদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হারিয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় এবং এটিকে তালিকাভুক্ত একটি পুরাকীর্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ খুব একটা দৃশ্যমান নয়।

সম্প্রতি দেখা গেছে, শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে সবুজে ঘেরা ঘাঘড়া গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি। কয়েরুট সড়ক থেকে পশ্চিমে প্রায় দুই কিলোমিটার মেঠোপথ পাড়ি দিলেই সবুজ ঘাসে ঘেরা মাঠের মাঝে চোখে পড়ে মোগল আমলের এই স্থাপনাটি। বর্তমানে মসজিদের ভেতর সাদা রং করা থাকায় আগের রঙিন কারুকাজ তেমন স্পষ্ট দেখা যায় না।

এলাকার স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, ধারণা করা হয় মসজিদটি ১৬০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোগল আমলে বক্সার বিদ্রোহী নেতা হিরঙ্গী খানের সময় এটি নির্মিত হয়েছে বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। তিনি বলেন, মসজিদটি এতটাই দৃষ্টিনন্দন যে প্রতিদিন এখানে দর্শনার্থীরা আসেন এবং অনেকে নামাজ আদায়ও করেন। তবে দীর্ঘদিন পুরোনো হলেও সংরক্ষণ ও সংস্কারে তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি জেলার পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. ফেরদৌস খান বলেন, প্রায় ৫০০ বছর আগে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। বংশপরম্পরায় দাদার পর বাবা এবং বর্তমানে তিনি এর দায়িত্ব পালন করছেন। এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয় এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিন রয়েছেন। তিনি জানান, মসজিদের নামে দুটি পুকুর রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে বিভিন্ন খরচ বহন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, দূরদূরান্ত থেকে মানুষ মোগল আমলের এই মসজিদটি একনজর দেখতে আসেন। আগে মসজিদের ভেতরের কারুকাজে বিভিন্ন রঙ ছিল, কিন্তু প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সাদা রং করে দেওয়ায় আগের সৌন্দর্য আর তেমন দেখা যায় না।

স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে ঝিনাইগাতীর এই ঐতিহাসিক মসজিদটি শুধু ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবেই নয়, বরং জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও নতুনভাবে পরিচিতি পেতে পারে।

শুভ উদ্বোধন

কুয়াকাটা পৌরসভার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটা পৌরসভার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

বিশেষ প্রতিনিধি : পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সবুজে ঘেরা একটি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার উদ্যোগে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) ও কুয়াকাটা পৌরসভার পৌর প্রশাসক। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, এটি মানুষের জীবন রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা সকলকে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং রোপণকৃত গাছের পরিচর্যা করার আহ্বান জানান।

কুয়াকাটা পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ কর্মসূচির আওতায় পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, উন্মুক্ত স্থান এবং উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে কুয়াকাটাকে আরও সবুজ, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত সকলের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বৃক্ষরোপণ আন্দোলনকে সামাজিক উদ্যোগে পরিণত করার আহ্বান জানানো হয়।

আজকের একটি গাছ, আগামীর নিরাপদ পৃথিবী— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুয়াকাটা পৌরসভার এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ভ্যান চুরিতে দিশেহারা সেলিম, পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মিয়া

সিরাজুল ইসলাম-লালমনিরহাট।
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
ভ্যান চুরিতে দিশেহারা সেলিম, পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মিয়া

 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবী এলাকার বাসিন্দা সেলিম হোসেনের চুরি যাওয়া ভ্যানগাড়ির পরিবর্তে নতুন একটি ভ্যানগাড়ি প্রদান করা হয়েছে।

জানা যায়, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন সেলিম হোসেন। গত ২৮ এপ্রিল রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাঁর একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন ভ্যানগাড়িটি চুরি হয়ে যায়। এতে পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন তিনি।

সেলিমের এমন দুর্দিনে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মিয়া। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে নতুন একটি ভ্যানগাড়ির ব্যবস্থা করা হয়।

পরে মিলন বাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেলিম হোসেনের হাতে নতুন ভ্যানগাড়ির চাবি তুলে দেন আব্দুল হাই মিয়া। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

আব্দুল হাই মিয়া বলেন, “সেলিম হোসেনের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ছিল এই ভ্যানগাড়ি। এটি চুরি হওয়ার পর তিনি ও তাঁর পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে অনেক পরিবারের কষ্ট লাঘব হবে।”

নতুন ভ্যান পেয়ে আবেগাপ্লুত সেলিম হোসেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই ভ্যানটি আমার পরিবারের জীবিকা নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

স্থানীয়রা এ মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করবে।

স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্টে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী নিয়ে কালীগঞ্জে প্রাণবন্ত বিজ্ঞান মেলা জুন ১২, ২০২৬

মু সোহরাব আলি সরকার
প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্টে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী নিয়ে কালীগঞ্জে প্রাণবন্ত বিজ্ঞান মেলা জুন ১২, ২০২৬

মুঃ সোহরাব আলী সরকার , কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ার লক্ষ্যে কালীগঞ্জে “স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট” উদ্ভাবনী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘‘মেধা-বিজ্ঞান-উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প প্রদর্শিত হয়েছে। দিনব্যাপী এ মেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে নিজেদের তৈরি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করেন। মেলার আয়োজন করেন এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম এসইডিসি।
শুক্রবার (১২ জুন) দিনব্যাপী উপজেলা চত্বরে “স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্ট” বিষয়ক উদ্ভাবনী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সাংসদ এ.কে.এম ফজলুল হক মিলন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার জিনাত রেহানা শারমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা এবং কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন।
মেলার মূল লক্ষ ছিল পরিবেশ সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি, রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পানি বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্ভাবনী প্রকল্প দর্শনার্থীদের উৎসাহিত করা । শিক্ষার্থীরা তাদের প্রকল্পের কার্যকারিতা ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এসময় প্রধান অতিথি মেলার বিভিন্ন স্টল পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধান অতিথি বলেন, স্টার্টআপভিত্তিক বিজ্ঞান প্রকল্প তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তারা নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখতে পারবে। এসময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল হোসেন আকাশ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মাহবুবা আক্তার, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য মোহাম্মদ ছোলায়মান আলম, খায়রুল এহসান মিন্টু ও ফরিদ আহমেদ মৃধা, পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লুৎফর রহমান, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহীম প্রধান, সাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর-ই-জান্নাত, কালিগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সৈকত, কালিগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিমেল, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা প্রকল্পগুলোর বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পরে মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কুয়াকাটা পৌরসভার উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ভ্যান চুরিতে দিশেহারা সেলিম, পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা আব্দুল হাই মিয়া স্টার্টআপ সায়েন্স প্রজেক্টে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী নিয়ে কালীগঞ্জে প্রাণবন্ত বিজ্ঞান মেলা জুন ১২, ২০২৬ নওগাঁয় ডাসকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩দিন ব্যাপী প্রাণিস্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে? শীতলকুচিতে আটক হাতীবান্ধার যুবক