খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে মাত্রারিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
গোপালগঞ্জে মাত্রারিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দিনে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও এ সময়ের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানাগেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও শিল্পকারখানায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সহ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে মোমবাতি, চার্জার লাইট কিংবা মোবাইলের আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা করছে। বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও। দোকানপাট ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফ্যান, লাইট, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চালকেরাও সমস্যায় পড়েছেন। চার্জিংয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় তাদের আয় কমে যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জের শিল্পকলকারখানাগুলোতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এভাবে চলতে থাকলে শিল্প ও ব্যবসা খাতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে দৈনন্দিন কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে
যায়। গোপালগঞ্জবাসী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দৌরাত্ম্য থেকে বাঁচতে গোপালগঞ্জের মাননীয় তিন এমপি মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) -এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাঈন উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, গোপালগঞ্জে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর চাহিদা রয়েছে এর মধ্যে আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জাতীয় গ্রিড থেকে মাত্র সাড়ে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা পেয়েছি আবার দুপুরে মাত্র ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা পেয়েছি। বিদ্যুৎ এমন একটা জিনিস আমরা এখানে তা সংরক্ষণ করে রাখতে পারি না। আমরা যা পাই তা সমস্ত জেলায় বিতরণ করে থাকি। তবে চলমান এইচএসসি ও ডিগ্রী পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে ও হাসপাতাল সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে ফের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে ফের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

মেহেদী হাসান সোহাগ, কুয়াকাটা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ থাকা একটি বিরোধীয় জমিতে ফের দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক দাবিদার মো. মজিবুর রহমানের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেছেন তার চাচি ফাতেমা বেগম।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, কলাপাড়া উপজেলার ইছবপুর মৌজার জে.এল. নং-২৭, বি.এস. দাগ নং-৩৭২ ও ৮১৬ এবং খতিয়ান নং-১২৯, ২৩০৩ ও ২০৭-এর অন্তর্ভুক্ত মোট ১ দশমিক ২৫ একর জমি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ফাতেমা বেগমের দাবি, মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলে গত ২২ জুলাই আদালত উভয় পক্ষকে বিরোধীয় জমির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তবে আদালতের ওই আদেশের পরও মো. ইমরান হাওলাদার, হানিফ, ইব্রাহিমসহ কয়েকজন এবং তাদের সহযোগীরা জমিতে প্রবেশ করে টিন ও কাঠ দিয়ে পাটাতন নির্মাণ করে দুটি ঘর তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে আবারও বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আরও ১০ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার আসামি মাহাতাব মাওলানা ও শাহীন মীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি ‘মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে বিরোধীয় জমিতে নির্মাণ করা দুটি ঘর মহিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সম্প্রতি ওই জমিতে আবারও দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। স্থাপনা নির্মাণে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন,উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে।তবে স্থাপনা নির্মাণের পেছনে বিএনপির কোনো ইন্ধন রয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন,বিষয়টি আদালতের। আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা ঘর উত্তোলনের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও বিরোধীয় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
####

পরিচয় চাই মর্যাদার, অধিকার চাই ভূমির’শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব আদিবাসী দিবসে পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশনের দাবি

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
পরিচয় চাই মর্যাদার, অধিকার চাই ভূমির’শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব আদিবাসী দিবসে পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশনের দাবি

 

কেউ এসেছেন খাসি পুঞ্জি থেকে, কেউ গারো সম্প্রদায় থেকে, কেউ ত্রিপুরা কিংবা চা-বাগানের শ্রমিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হয়ে। পরনে ছিল নিজ নিজ জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক। কারও হাতে দাবি সংবলিত ফেস্টুন, কারও কণ্ঠে নিজেদের অস্তিত্ব ও অধিকার রক্ষার প্রত্যয়। নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের এমন বৈচিত্র্যময় উপস্থিতিতে রোববার মুখর হয়ে ওঠে শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম।

‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গলে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস ২০২৬’। দিনব্যাপী এ আয়োজনে উঠে আসে ভূমির অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশনসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নানা দাবি।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শুরু হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর আগে অতিথিরা ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

দাবির ফেস্টুনে মুখর শহর

উদ্বোধনের পর বিভিন্ন দাবি সংবলিত ফেস্টুন হাতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশুরা। শোভাযাত্রায় ফুটে ওঠে তাঁদের অধিকার, পরিচয় ও ভূমি রক্ষার নানা দাবি।

শোভাযাত্রাটি ভানুগাছ সড়ক, স্টেশন সড়ক, চৌমুহনী চত্বর, কলেজ রোড ও গুহ রোড প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়।

‘নিজের পরিচয় দেওয়ার অধিকার নিজের’

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পরিচয়ের প্রশ্নে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নিজস্ব মতামত ও আত্মপরিচয়ের অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বক্তারা জাতিসংঘের ২০০৭ সালের আদিবাসী বিষয়ক ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন, আইএলও কনভেনশন-১৬৯ অনুসমর্থন এবং কনভেনশন-১০৭ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, সরকারি নথিতে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ বা অন্য কোনো পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেদের সাংবিধানিকভাবে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি।

বক্তারা বলেন, “একজন মানুষের পরিচয় কয়ভাবে হতে পারে? নিজের পরিচয় দেওয়ার অধিকার তার নিজের। আমরা মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক স্বীকৃতি চাই। আদিবাসীদের সাংবিধানিকভাবে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।”

পৃথক মন্ত্রণালয়, ভূমি কমিশনসহ তিন দাবি

সভাপতির বক্তব্যে আদিবাসী সাংস্কৃতিক কমিটি, বৃহত্তর সিলেট বিভাগের সভাপতি পংকজ এ কন্দ বলেন, মৌলভীবাজার জেলার স্বীকৃত ২৯টি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি স্বীকৃতির দাবিদার অন্যান্য জনগোষ্ঠী ও চা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, “সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য আলাদা ভূমি কমিশন করতে হবে। পাশাপাশি আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। আমরা সরকারের কাছে সেটিই প্রত্যাশা করছি।”

আলোচনায় বক্তারা খাসি, গারো, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং চা-বাগানের শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন। তাঁদের মতে, ভূমি ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এসব জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

সংস্কৃতিতে ফিরে দেখা শিকড়

আলোচনা শেষে ছিল ঐতিহ্যের রঙে ভিন্ন এক আয়োজন। প্রায় ২০টি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক দলের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য। নিজ নিজ জাতিসত্তার পোশাক ও নৃত্যের মাধ্যমে শিল্পীরা তুলে ধরেন তাঁদের শেকড়, জীবনযাপন ও সংস্কৃতির গল্প।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য নেরলা তেনসং, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের সাবেক সভাপতি যুবরাজ দেববর্মা, নিরালা পুঞ্জির মান্ত্রী এলভিস পতাম, কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জির মান্ত্রী ফিলা পতমী, বাংলাদেশ আদিবাসী লেখক পরিষদের সভাপতি সনাতন হামোম, শ্রী চুক গারো যুব সংগঠনের সভাপতি পার্থ হাজং ও পাত্রখোলা চা-বাগানের সভাপতি স্বপন কুর্মীসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান রক্ষায় শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রয়োজন কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, ভূমির অধিকার ও সাংবিধানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

আল ইব্রাহিম
শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
মোবাইল:০১৬১৭৫০২২৩০

পঞ্চগড়ে আখ চুরি করতে এসে বাংলাদেশে আটক ভারতীয় নাগরিক

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
পঞ্চগড়ে আখ চুরি করতে এসে বাংলাদেশে আটক ভারতীয় নাগরিক

 

পঞ্চগড়ের সাতমেরা সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আখ চুরির অভিযোগে দীপঙ্কর গোপ (৩০) নামে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাকে বিজিবির কাছে সোপর্দ করা হলে রোববার বিকেলে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকালে দীপঙ্কর গোপ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তিনি সাতমেরা এলাকার একটি আখখেতে গিয়ে আখ চুরির চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে পড়লে তারা তাকে আটক করে বিরাজোত এলাকায় নিয়ে যান। পরে তাকে বিজিবির কাছে সোপর্দ করা হয়।

আটক দীপঙ্কর গোপ ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার চাউলহাটি তশনপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের ছেলে। তিনি সীমান্তের ওপারে একটি চা-বাগানে কাজ করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

৫৬ বিজিবির অমরখানা বিওপি ক্যাম্পের সদস্যরা রোববার বিকেলে দীপঙ্কর গোপকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল বলেন, আটক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ।

তিনি জানান, পতাকা বৈঠকে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে ফের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ গোপালগঞ্জে মাত্রারিক্ত লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত পরিচয় চাই মর্যাদার, অধিকার চাই ভূমির’শ্রীমঙ্গলে বিশ্ব আদিবাসী দিবসে পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশনের দাবি পঞ্চগড়ে আখ চুরি করতে এসে বাংলাদেশে আটক ভারতীয় নাগরিক পা‌নির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় বিপাকে কৃষক.