খুঁজুন
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩

রংপুরের শিক্ষার উজ্জল নক্ষত্র প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রেজাউল হক আর নেই

রিয়াজুল হক সাগর,রংপুর।
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০৮ অপরাহ্ণ
রংপুরের শিক্ষার উজ্জল নক্ষত্র প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রেজাউল হক আর নেই

কারমাইকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রেজাউল হক আর নেই।

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সকাল ৯ টায় রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি নিউমোনিয়া, ডায়াবেটিস ও বার্ধক্য জনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক আবিদ করিম মুন্না। মৃত্যুকালে তিনি মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র আর দুইকন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রেজাউল হকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রংপুরের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর চলে যাওয়ায় শুধু একটি প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এক অমূল্য দিশারী হারালো। তাঁর সৃষ্টিশীলতা, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব রংপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন এ প্রজন্মের নেতৃত্বদানকারীরা।

রংপুরের আলোকিত মানুষ প্রফেস ড. মুহম্মদ রেজাউল হক ১৯৩৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের চিলমারীর ঐতিহ্যবাহী মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। রেজাউল হকের জীবনের অনেকটা সময় কেটেছে চিলমারীতেই। ১৯৫০ সালে চিলমারী ইংলিশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে ভর্তি হন কারমাইকেল কলেজে। ১৯৫২ সালে কারমাইকেল থেকে আইএসসি পাশ করলেও ফলাফল খুব একটা ভালো করতে পারেনি। এরপরে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগে। এখান থেকে স্নাতক সন্মানে দ্বিতীয় শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি সরকারিভাবে পিএইচডির জন্যে মনোনীত হন । তাঁর গবেষণার কাজটি ভারতের কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পন্ন করেন তিনি।

প্রফেসর ড. মুহম্মদ রেজাউল হক বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৫৮ সালে থেকে সিলেট শহরের বেসরকারি মদনমোহন কলেজ থেকে।এরপর সরকারি কলেজে তাঁর সুদীর্ঘ পথচলা শুরু হয় ১৯৬১ সালের ৮ আগস্ট ঢাকা বিজ্ঞান কলেজে যোগদানের মধ্য দিয়ে। পরে তিনি ১৯৬৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৭ এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়ে কারমাইকেল কলেজে ছিলেন। পিএইচডির পর তিনি ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় শহর রংপুরে। রংপুর কারমাইকেল কলেজে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে ছিলেন। ১৯৮৪ সালে গাইবান্ধা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। অধ্যক্ষ ছিলেন দিনাজপুর সরকারি কলেজেরও। ১৯৯০ সালে অধ্যক্ষ হিসাবে ফিরে আসেন কারমাইকেল কলেজে এবং এখান থেকেই ১৯৯১ সালে অবসরে যান। কর্মজীবনে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে ডাক পেয়েছিলেন। তিনি সেসব উপেক্ষা করে জড়িয়ে ছিলেন তাঁর প্রিয় শিক্ষকতা পেশায়।

তিনি সময় পেলেই লেখালেখি করতেন। ১৯৮৯ সালে বাংলা একাডেমি থেকে তাঁর গবেষণা কাজটি গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ সালে তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘ শোকাতুর সংগত ‘ প্রকাশিত হয় । বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ ২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় রংপুরের আইডিয়া প্রকাশন থেকে বের হয়। এছাড়া তাঁর আরো অনেক প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও কবিতা বিভিন্ন পত্র- পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে । তাঁর প্রথম লেখা কবিতা যা তিনি ক্লাস এইটে লিখেছিলেন তার নাম ছিল ‘ হঠাৎ ‘।

রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আহ্বায়ক ছিলেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রেজাউল হক। যার আহ্বানে “রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ” গঠিত হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিতি পায়। তিনি অনেক সমাজসেবী সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন।

আলোকিত এই মানুষটা একজন আদর্শ অভিভাবক ছিলেন। তাঁর এক ছেলে ও দুই মেয়ে। প্রকৌশলী ছেলে আছেন একটি বৃহৎ বেসরকারি কোম্পানিতে। বড় মেয়ে স্বামীসহ শ্রীলঙ্কায়। আর ছোট মেয়ে পেশায় চিকিৎসক, আছেন বারডেমে। তিনি ছিলেন একজন সফল শিক্ষক, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, দক্ষ সংগঠক ও সমাজসেবক।

কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মাতোয়ারা বেগমকে সভাপতি এবং সোনিয়া বেগমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সভাপতি হামিদা বেগম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আজিজ মুসল্লী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দলীয় কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নবনির্বাচিত সভাপতি মাতোয়ারা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আগামী দিনে ওয়ার্ড পর্যায়ে মহিলা দলের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা হবে।

কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ( ফ্যামেলী প্লানিং ) সেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা। সেবা নিতে আসা প্রত্যন্ত এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষসহ অনেকেই কাঙ্খিত পরিবার পরিকল্পনা (ফ্যামেলী প্লানিং) সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরঞ্জামের সংকটে প্রয়োজনীয় উপকরণ না পেয়ে তারা বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে অনেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী না পাওয়ায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নি¤œআয়ের মানুষের জন্য সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এসব সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরঞ্জাম সংকট তাদের দুর্ভোগ আরোও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেবা প্রার্থী উত্তর সোম এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারী হাসপাতালে নিজ পরিবারের জন্য কম খরচে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাওয়ার আশায় এখানে আসি। কিন্তু বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা উপকরণ না থাকায় গত তিন মাস যাবৎ কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। ফলে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পরিবার পরিকল্পনা সেবা মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবার পরিকল্পনা সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের পর্যাপ্ত মজুত থাকা জরুরী। সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে মাঠ পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমও ব্যাহত হবে। যদি দীর্ঘ সময় এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সরঞ্জাম সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে মজুত পর্যালোচনা ও সেবা কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও ভোগান্তি কমানোর দাবি জানান তারা।
উল্লেখ যে, চলতি বছরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এসময় কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পায় এবং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ত্রুটি ও অনিয়মও মন্ত্রীর নজরে আসে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হোসনেয়ারা বেগম সরঞ্জাম সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ২/৩ মাস যাবৎ সকল প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম মহিলাদের জন্য পিল, পূরুষদের কনডমসহ ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডি কার্যক্রমের সংকট বিদ্যমান।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছাঃ নাহিদা খাতুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় এরকম জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী অক্টোবরে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার কথা রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ দিলে প্রযোজনীয় সরঞ্জামাদী সরবরাহ করা হবে।
সেবা প্রত্যাশীদের প্রশ্ন, সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে না কেন? সরঞ্জামাদী নিয়মিত সরবরাহ ও মজুত ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকলে এর দায়ভার কে নেবে? শুধু কাগজে-কলমে নয় পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ নিশ্চিত করে বাস্তবে সেবা পৌঁছে দেওয়া হোক।

পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা

প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্দারিয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১০০ বিঘা পতিত জমিতে মাছ চাষ করে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লাভ করছেন ছাইদুর রহমান মোল্লা।

নিচু জমি হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকত এসব জমি। ধান কাটার পর জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকলেও সেই জমিতেই মাছ চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি।

মাছ চাষের পাশাপাশি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান মোল্লা ইটভাটার ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। বছরের ছয় মাস ইটভাটার ব্যবসা এবং বাকি ছয় মাস মাছ চাষ করে ব্যস্ত সময় কাটে তাঁর। মাছ চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্দারিয়াপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জমিগুলো নিচু হওয়ায় বৈশাখ মাসে ধান কাটার পর বর্ষার পানি জমে যায়। ফলে এসব জমিতে বছরের অধিকাংশ সময় আর কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হতো না। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব অনাবাদি জমিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন ছাইদুর রহমান মোল্লা। পর্যায়ক্রমে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি।

বর্তমানে এসব জলাবদ্ধ ও নিচু জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। মাছ বিক্রি করে প্রতিবছর ভালো আয় হচ্ছে তাঁর। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লাভ করেন বলে জানান ছাইদুর রহমান মোল্লা।

ছাইদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘যেসব জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকত এবং কোনো কাজে আসত না, সেসব জমিকে মাছ চাষের আওতায় এনে ভালো ফল পেয়েছি। ইটভাটার ব্যবসা ছয় মাস করি, আর ছয় মাস মাছ চাষের পেছনে সময় দিই। মাছ চাষে লাভের পাশাপাশি অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কার পাওয়ায় আমি আরও উৎসাহিত হয়েছি। আমার এই উদ্যোগ দেখে এলাকার অনেক তরুণ মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একসময় বছরের পর বছর পড়ে থাকা এসব নিচু জমি এখন মাছের খামারে পরিণত হয়েছে। ছাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে এলাকার তরুণদের মধ্যেও মাছ চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে মাছ চাষের পদ্ধতি ও খরচ-লাভের হিসাব সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর পাল বলেন এ ধরনের অনাবাদি ও জলাবদ্ধ জমিকে মাছ চাষের আওতায় এনে আরও বেশি কর্মসংস্থান ও আয় সৃষ্টি করা সম্ভব, ছাইদুর রহমান মোল্লার উদ্যোগটি শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্য নয়, বছরের অধিকাংশ সময় অনাবাদি পড়ে থাকা নিচু জমিকে কীভাবে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করা যায়—তারও একটি দৃষ্টান্ত।

তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় তরুণরা মাছ চাষে এগিয়ে এলে এলাকার অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা মান্দায় আন্তঃক্লাব ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল জোকাহাট ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন সাপাহারে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা