দিনাজপুরের হিলিতে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। ‘থাকো টাকা নিয়ে আসি’- এ কথা বলে ছোট সন্তানকে নিয়ে রাস্তার পাশে দুই মেয়েকে রেখে চলে যান এক মা। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। অসহায় শিশু থানা মোড়ে বসে মায়ের অপেক্ষায় কান্নাকাটি করতে থাকে।
আজ রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে বন্দরের চার নম্বর গেটের সামনে থানা মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে হাকিমপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে শিশুদুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এ নিয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে শিশুদুটির বাবা জীবন ঢাকায় থাকেন এবং তিনি মাদকাসক্ত। অভাব অনটনের সংসারে মা শাহনাজ ছোট সন্তানকে নিয়ে বড় দুই মেয়ে জিমি ও জান্নাতিকে রাস্তার পাশে রেখে যান। যাওয়ার সময় শিশু দুটিকে বলেন থাকো টাকা নিয়ে আসি।
ওসি আরও জানান, শিশুদুটির বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় তাদের দাদা-দাদী জীবিত রয়েছেন। পরিবারের খোঁজ বের করে নিরাপদে শিশুদেরকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে শিশুদের মায়ের সন্ধানেও কাজ করছে পুলিশ।
মোঃ হোসেন শাহ্ ফকির, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার যমুনা দুর্গমচরাঞ্চল ৪নং সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত জি.আর (চাউল) ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় ১৫০ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাউল বিতরণ করা হয়েছে।
রবিবার (২০ জুলাই ২০২৬) ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ মো. জোবায়ের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৪নং সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ্ আলম মন্ডল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ , ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা
মিজানুর রহমান মিজান, পৌর বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান সিদ্দিকী,
ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ জিল্লুর রহমান, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শাজাহান, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য ফেক্কু প্রামানিক জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত জি.আর (চাউল) বিতরণ করা হয়।
সাপধরী ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ মাে: জুবায়ের বলেন, আজ আমি আমার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে সবার আগে আমি এসেছি সাপধরী ইউনিয়নে। অনেকেই জানতে পারেন, কেন আমি প্রথমেই এখানে এলাম। এর কারণ হলো আপনারা উপজেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় অনেকটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বসবাস করেন। চারপাশে নদী বেষ্টিত এই এলাকায় আপনাদের জীবনযাত্রা, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং বাস্তব সমস্যাগুলো সরেজমিনে দেখতে ও জানতে আমি এখানে এসেছি।
আপনাদের কী কী সমস্যা রয়েছে, কী ধরনের উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেগুলো আপনাদের কাছ থেকেই শুনতে চাই। আপনাদের দাবিদাওয়া ও সমস্যাগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরব এবং সরকারের মাধ্যমে সেগুলোর সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই এলাকায় যাতায়াতের সমস্যা, ভাঙনসহ নানা ধরনের দুর্ভোগ রয়েছে। হয়তো সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব হবে না, কিন্তু ধাপে ধাপে যেসব সমস্যা সমাধান করা যায়, সেগুলোর জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করব। আপনাদের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
সরকারের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানের শেষে উপকারভোগীদের হাতে জি.আর-এর চাউল তুলে দেওয়া হয়।
মোঃ হোসেন শাহ্ ফকির, ইসলামপুর জামালপুর: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ১১নং চরপুটিমারী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে আইরমারী ফরহাদের বাড়ি থেকে ঈদগাহ হয়ে শাহিনের বাড়ি সংলগ্ন পাকা রাস্তা পর্যন্ত দীর্ঘদিনের চলাচলের দুর্ভোগ দূর করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ সড়কটি সংস্কারের ফলে প্রায় এক হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আগে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়নে চলাচলের সুবিধার্থে কাঁচা রাস্তাটি তৈরি করেছিলেন। তবে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ত। এতে বিদ্যালয় ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হতো।
এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস খানের উদ্যোগে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবুর নজরে আনা হয়। পরে কাবিটা প্রকল্পের অর্থায়নে রাস্তাটি আগের তুলনায় প্রশস্ত ও চলাচল উপযোগী করে সংস্কার করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, আগে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হতো। বর্তমানে রাস্তা সংস্কারের ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। এজন্য তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চরপুটিমারী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস খান বলেন, “এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি সংসদ সদস্য এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবুকে জানানো হলে তিনি কাবিটা প্রকল্পের আওতায় দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের নির্দেশ দেন। পরে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় এলাকাবাসী উপকৃত হয়েছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. হাবিবুর রহমান সুমন বলেন, রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হলে কাবিটা প্রকল্পের অর্থায়নে দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়।”
নওগাঁর মান্দা উপজেলার তালপাতিলা-চকউলী এলজিইডি সড়কের পাশে থাকা একাধিক ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাছের মালিকানা, অনুমোদন ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রকাশ্যে এভাবে গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দায় এড়িয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধ ইউক্যালিপটাস গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১৫টি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বাকি আরও প্রায় ৪০টি গাছ কাটার জোর প্রস্তুতি চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিনের আলোতেই সড়কের ধারের গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কার অনুমতিতে গাছ কাটা হচ্ছে এবং গাছগুলোর প্রকৃত মালিক কে, সে বিষয়ে কোনো দপ্তরই স্পষ্ট তথ্য দিতে পারছে না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ঘটনাস্থলে থাকা কাঠ ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, তিনি তালপাতিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান হোসেন মরুর কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় এই গাছ গুলো কিনেছেন। ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের কাছে মোট কতটি গাছ কাটা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মো. এমরান হোসেন মরুর জমির সামনে যে গাছ গুলো রয়েছে, কেবল সেগুলোই কাটা হবে, যা সংখ্যায় আনুমানিক ৪০টি।
ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিনের দাবি, বিক্রেতা মো. এমরান হোসেন মরু তাকে জানিয়েছেন গাছ গুলো তার নিজস্ব জায়গায় রোপণ করা হয়েছিল।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. এমরান হোসেন মরুর মন্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মুঠোফোন নম্বর না থাকায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক আব্দুর রশিদ জানান, তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনের মাধ্যমে জেনেছেন। গাছ গুলো ইউনিয়ন পরিষদের নয়। তবে সড়কটি যেহেতু এলজিইডির, তাই প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে গাছ কাটার ক্ষেত্রে কোনো প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত খতিয়ে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ আব্দুল কাদের জানান, সড়কটি এলজিইডির হলেও গাছগুলো নির্দিষ্ট কোনো সরকারি দপ্তরের অধীনে লাগানো না হয়ে থাকলে এখানে তাদের আইনিভাবে কিছু করার নেই। যেহেতু এই জায়গার ওপর কোনো দপ্তরের মালিকানা বা তদারকি নিশ্চিত নয়, তাই বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।
একই সুরে মান্দা উপজেলা বন কর্মকর্তা আহমেদ আলী মণ্ডল বলেন, উক্ত গাছ বা বাগানটি বন বিভাগের তৈরি করা নয়। যেহেতু এটি তাদের আওতাধীন নয়, তাই কে বা কারা গাছ রোপণ করেছে কিংবা এখন কাটছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে সাধারণত অনেক সময় জমির মালিকেরা নিজ দায়িত্বে সড়কের পাশে গাছপালা লাগিয়ে থাকেন। বিষয়টি খতিয়ে না দেখে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, বিষয়টি আজই জানতে পারলাম। আগামীকালই স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার)-কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে তদন্ত করা হবে। সরেজমিনে তদন্ত শেষে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন