কাবাডিতে দেশসেরা হাতীবান্ধার শাহ গরীবুল্যাহ বিদ্যালয়ের মেয়েরা

গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কাবাডিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার শাহ গরীবুল্লাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। জাতীয় পর্যায়ে টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে এ গৌরব অর্জন করে তারা। মেয়েদের এমন সাফল্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো হাতীবান্ধায়। এ ঐতিহাসিক অর্জন উদ্যাপন করতে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি হাতীবান্ধার প্রধান সড়ক ও মেডিকেল মোড় প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বিজয়ী শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত চ্যাম্পিয়ন পদক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্রের কাছে প্রদর্শন করে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। পরে বিজয়ীদের সম্মানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কাবাডি ইভেন্টে রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত চাঁপা দলের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শাহ গরীবুল্লাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত খেলায় খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত গোলাপ দলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে চাঁপা দল। এর আগে বৃহস্পতিবার কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের সমন্বয়ে গঠিত বকুল দলকে এবং বুধবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত পদ্ম দলকে পরাজিত করে দলটি। টানা তিন ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ের শিরোপা নিজেদের করে নেয় তারা। বিজয়ী দলের শিক্ষার্থী নুরে মুমতারিন জিন্নাত ও জাকিয়া সুলতানা জিম বলেন, “আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ করতাম। আমাদের কোচ ফয়জুন মনা এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই এই বিজয় অর্জন করতে পেরেছি।” শিক্ষার্থীদের এ সাফল্যের পেছনে নিয়মিত অনুশীলন, কোচের নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ তবিবর রহমান ও রবিউল ইসলাম বাবু স্যারের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের কৃতিত্বই তুলে ধরেনি, বরং লালমনিরহাটের ক্রীড়াঙ্গনকেও গর্বিত করেছে। আনন্দ শোভাযাত্রায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হাতীবান্ধা উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাতীবান্ধা এসএস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম প্রধান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপজন মিত্র বিজয়ী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন, হাতীবান্ধার মেয়েদের এ সাফল্য উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে এ অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে এবং মেয়েদের ক্রীড়াক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার পথে অনুপ্রেরণা।
