ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে সমুদ্রে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
রুমি শরিফ, উপকূলীয় প্রতিনিধি : আজ মধ্যরাত থেকে সমুদ্র ও নদীতে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরার উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। মা ইলিশের বাধাঁহীন প্রজননের লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। সরকারের আরোপিত আইন মেনে গভীর সমুদ্র থেকে তীরে ফিরে আসছে জেলে ট্রলার। ইতোমধ্যে অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মহিপুর-আলিপুর, কুয়াকাটা, রাঙ্গাবালী সহ উপকুলের হাজারো জেলেরা বিভিন্ন নদনদীতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারো সমুদ্রে ২২ দিনের অবরোধ নিয়ে জেলেদের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে।
জেলেদের দাবী এখনো ইলিশের পেটে ডিম আসেনি। ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলেরা। এরপরও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে ইলিশ আহরন থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন জেলেরা।তবে বঙ্গোপসাগরে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে পার্শ্ববর্তী দেশের জেলেদের আগ্রাসন বন্ধে দেশের জলসীমানায় নৌবাহিনী সহ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানো, প্রনোদনার পরিমাণ বৃদ্ধি সহ তা প্রকৃত জেলেদের মাঝে বন্টনের দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।
কুয়াকাটা আশার আলো জেলে সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি নিজাম শেখ বলেন, সমুদ্রে মাছ শিকার করতে গিয়ে বেশিরভাগ জেলেরাই শুন্য হাতে তীরে ফিরে আসছে। সমুদ্রে আর আগের মত মাছধরা পরছে না। সমুদ্রে দেশী বিদেশি ট্রলিং বোর্ডের পাশাপাশি ভারতীয় জেলেদের আধিপত্য চলছে। এসব বন্ধে সরকারের কোন উদ্যোগ না থাকলেও বার বার অবরোধ দিয়ে জেলেদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে মৎস্য অধিদপ্তর।
জেলে আ: রহিম বলেন, এমনিতেই সাগরে মাছ পাচ্ছি না,তারপর এখন আবার নিষেধাজ্ঞা, সরকারি আইন মানতেই হবে। তবে সরকার তাদের যে প্রনোদনা প্রদান করেন, তা সঠিক সময় দেয়না, তাও চাহিদা চেয়ে অনেক কম। তাই সকল জেলেদের দাবী যাও কিছু চাল দেয় সেটি সঠিক সময় আরো বৃদ্ধি করা হোক।
ট্রলারের মাঝি মো সোলায়মান বলেন, আমরা জেলেরা বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংকে ঋনে জর্জরিত তার সাথে আবার দাদনের বোঝা। এই ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে জেলে ব্যবসায় জড়িত সকল ব্যবসায়ী হতাশ।
মহিপুর মৎস্য আড়দার সমবায় মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো ফজলু গাজী বলেন, এই দুই তিন বছর সাগরে মাছ পড়ছে না,তারপর যখনই একটু মাছের মুখ দেখা মিলে তখনই আবার আবহাওয়া খারাপ। এই নিষেধাজ্ঞার সময় বঙ্গপোসাগরে নৌ-বাহিনী, কোষ্টগার্ড ভালোভাবে ডিউটি করা উচিত। অবরোধের সুযোগে বার্মা ও ভারত আমাদের জলসীমানায় ঢুকে চুরি করে মাছ ধরে নিয়ে যায়।আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেের আড়তদার সমিতির নেতা আ: জলিল ঘরামি বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার প্রতি সম্মান রেখে জেলেরা আজ মধ্য রাতের আগেই জেলেরা সমুদ্র থেকে তীরে ফিরে আসবে। এরই মধ্যে অনেক ট্রলারে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সহ বিভিন্ন প্রেতাশ্রায়ে এসে নোঙর করে বাড়ি ফিরে গেছে।তিনি আরো বলেন, চলতি বছর ইলিশের আকাল গেছে। কিছু কিছু জেলে ট্রলার মাঝে মধ্যে কিছু মাছ পেলেও তা পর্যাপ্ত নয়।৫৮ দিনের অবরোধের শেষে একের পর এক দূর্যোগে জেলেরা সমুদ্রে যেতে পারেনি। ৫৮ দিনের অবরোধের রেশ কাটতে না কাটতেই ২২ দিনের অবরোধ জেলে আড়তদারদের হতাশ করেছে। তারা এখন দুঃসচিন্তায় দিন কাটাচ্ছে।চলতি বর্ষা মৌসুমেই জেলেদের দুর্যোগের মধ্যদিয়ে গেছে। সমুদ্রে মাছ নেই। জেলে ও আড়তদারদের ধারদেনা করে চলতে হয়েছে। এরপরও জেলেরা সরকারের আইন মেনে মাছধরা থেকে বিরত থাকছে।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, মা ইলিশ সহ সামুদ্রিক সব ধরনের মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে। সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে লাভ মৎস্যজীবিদের।তিনি বলেন, ২২ দিনের অবরোধকালীন সময়ে কলাপাড়া উপজেলার ১৮ হাজার নিবন্ধিত জেলেদের বিশেষ প্রণোদনা দেয়া হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদেরও পর্যায়ে ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বাজারজাতজাত করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড অথবা ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।
