বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, কালীগঞ্জে পরিবেশবান্ধব এক নুতন দিগন্ত উন্মোচিত

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯:৫৪ পিএম
বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, কালীগঞ্জে পরিবেশবান্ধব এক নুতন দিগন্ত উন্মোচিত

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ মুরগির খামারে প্রতিদিন জমছে বিপুল পরিমাণ বিষ্ঠা। খামারে তৈরি বায়োগ্যাস উৎপাদনে মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পচিয়ে অ্যানারোবিক ডাইজেশনের মাধ্যমে বায়োগ্যাসে রূপান্তর করা হচ্ছে। উৎপাদিত গ্যাস রান্নাসহ প্রয়োজনীয় কাজে পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এতে একদিকে যেমন খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার সমাধান হচ্ছে, অন্যদিকে কমছে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা। লেয়ার বা ডিম পাড়া মুরগির মল ব্যবহার করে তৈরি করেছেন বায়োগ্যাস প্লান্ট। খামারের বর্জ্য থেকে উৎপাদিত গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে জ্বালানি হিসেবে। দেশে পোলট্রি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনের পরিবেশগত ও বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও রয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বান্দাখোলা এলাকার ‘‘খান এগ্রো” পর্যবেক্ষনে দেখা যায়, বর্জ্যকেই সম্পদে পরিণত করেছেন পোলট্রির স্বত্বাধিকারীরা। মুরগীর খামার হতে বিষ্ঠা পানির সাথে মিশে তরল আকার ধারণ করেছে। মুরগীর গ্রহনকৃত মোট খাবারের প্রায় ৬০ শতাং বর্জ্য হিসেবে তৈরি হয়। তরল বিষ্ঠা পাইপ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পর্যায়ক্রমে ছোট-বড় দুটি চৌবাচ্চায় পতিত হয়। সেখান থেকে অপর পাইপ দিয়ে ১২ ফিট গভীর গম্বুজাকৃত সংরক্ষক একটি ঢাকনা যুক্ত আবদ্ধ ডোমে প্রবেশ করানো হয়। মূলত এই ডোমের ভিতরেই মিথেন ও অন্যান্য গ্যাস উৎপাদিত হয়ে থাকে। স্থির ডোমে গ্যাস জমার ফলে চাপ বৃদ্ধি পেলে উৎপাদিত গ্যাস পাইপের মাধ্যমে রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ হয়ে থাকে। বাকি বর্জ্য দূগন্ধহীন তরল আধা-ঠোস উপজাত পদার্থ বা স্লারি বড় ধরনের হাউজে জমা হয়। এই স্লারি পরবর্তীতে কৃষি জমিতে ব্যবহার যোগ্য বায়োগ্যাসের পাশাপাশি অবশিষ্ট জৈব পদার্থ থেকে অত্যন্ত পৃষ্টিকর জৈব বায়ো-সারও পাওয়া যায়।
বায়োগ্যাসের উপকারভোগীরা জানান, ওই খামারির উদ্যোগ শুধু নিজের খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমাধান নয়, বরং অন্য পোলট্রি খামারিদের জন্যও হতে পারে একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। খামারের মুরগির বিষ্ঠা ফেলে না দিয়ে সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানিতে রূপান্তর করা গেলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি খামারিদের উৎপাদন খরচও কমানো সম্ভব।
স্থানীয় একাধিক খামারিরা জানান, মুরগির বিষ্ঠা ব্যবস্থাপনা তাদের জন্য দীর্ঘদিনের সমস্যা। বায়োগ্যাস উৎপাদন সফল হলে অন্যান্য খামারিরাও এমন প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হতে পারেন।
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তৈরির উদ্যোগ দেখিয়েছেন যৌথ মালিকানায় পরিচালিত কালীগঞ্জের খান এগ্রোর স্বত্বাধিকারী এ.কে.এম সবুজ। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তিনি জানান, খামারে প্রায় সাত হাজার ডিমের (লেয়ার) মুরগী রয়েছে। খামারটি উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বান্দাখোলা এলাকায় তিন বছর পূর্বে স্থাপিত হয়। সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহারে মুরগির মলও হয়ে উঠতে পারে মূল্যবান সম্পদ। উৎপাদিত ২০ ঘনফুট বায়োগ্যাস ২৭টি পরিবারকে মাসিক হারে প্রতি চুল্লি ৭০০ টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করা হয়।
মুরগির বিষ্ঠা হতে বায়োগ্যাস উৎপাদনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মাহমুদুল হাসান প্রতিবেদককে জানান, অপরিশোধিত পোলট্রি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস তৈরি সম্পূর্নভাবে একটি পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া। লেয়ার পোলট্রি খামারের আশ-পাশের পরিবেশকে প্রচন্ড দূর্গন্ধ, দূষণমুক্ত ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের হাত থেকে রক্ষা করতে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা যায়। বায়োগ্যাস উৎপন্ন করে পরিবারের রান্নার কাজে গ্যাসের চাহিদা পূরণে দেশের জ¦ালানী সংকট কিছুটা হলেও কমবে। তিনি আরোও বলেন, যাদের বাড়িতে চারটি গরু রয়েছে তাদের গ্যাসের চাহিদা পূরনে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা জরুরী। তাছাড়া আমাদের পক্ষ থেকে প্রত্যেক খামারিকে পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন
Generating Photo Card...
Please wait...