সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নিলুফা ইয়াছমিন খান
তীয়তাবাদী রাজনীতির সুদীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেওয়া মোসাঃ নিলুফা ইয়াছমিন খান আজ টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক পরিচিত ও সম্মানিত নাম। ৩০ জুন ১৯৬৫ সালে টাঙ্গাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করা এই সাহসী নারী ছোটবেলা থেকেই আদর্শ, নীতি ও দলীয় চেতনায় বেড়ে উঠেছেন। তাঁর পিতা মৃত হবিবুর রহমান খান ছিলেন শ্রমিক আন্দোলনের একজন সংগঠক ও বাংলাদেশ সড়ক শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল জেলা সড়ক পরিবহন ফেডারেশন ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক। সেই পরিবারেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বীজ বপন হয় যা পরবর্তীতে নিলুফা ইয়াছমিন খানের জীবনদর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিলুফা ইয়াছমিন খান শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন রাজাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে এসএসসি এবং ফুলবাড়িয়া মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাসের মাধ্যমে। ব্যক্তিজীবনে তিনি মোঃ জয়নাল আবেদীনের সহধর্মিণী। তবে সংসার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতিই তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, টাঙ্গাইল জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ২০১০ সালে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১২, ২০১৭ এবং ২০২৩ সালে ধারাবাহিকভাবে জেলা মহিলা দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা। একইসঙ্গে তিনি জেলা বিএনপির সদস্য এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
দলের কঠিন সময় রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও আন্দোলন সংগ্রামের দিনগুলোতে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে নারী কর্মীদের সংগঠিত করতে এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শকে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তাঁর নিরলস পরিশ্রম দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি একজন নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী ও সাহসী নেত্রী হিসেবে।
শুধু রাজনীতিতেই নয়, সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রেও তিনি রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। ঘাটাইল উপজেলার শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া নিলুফা ইয়াছমিন খান টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রথম নারী সদস্য। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সারা দেশের প্রথম নারী সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের পেছনে রয়েছে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার। তাঁর বড় ভাই লুৎফর রহমান খান আজাদ, বর্তমান সংসদ সদস্য, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের প্রতিনিধি। তিনি চারবারের সংসদ সদস্য ও তিনবারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতায় নিলুফা ইয়াছমিন খানও নিজেকে গড়ে তুলেছেন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তাঁর নাম ইতোমধ্যে দলীয় অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আদর্শিক দৃঢ়তার কারণে তিনি সংরক্ষিত আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী। নারী নেতৃত্ব বিকাশে তাঁর ভূমিকা এবং দলের জন্য আত্মত্যাগ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা গ্রামে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় বসবাসকারী এই নেত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সামাজিক-মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বেড়ে ওঠা, পরিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং নিজস্ব সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে মোসাঃ নিলুফা ইয়াছমিন খান সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির জন্য একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য মুখ হতে পারেন।
দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং নারী সংগঠনকে সুসংগঠিত করার মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এখন সময় এসেছে জাতীয় সংসদের মঞ্চে তাঁর নেতৃত্বকে তুলে ধরার এমন প্রত্যাশাই করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। জাতীয়তাবাদী চেতনায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এই নারী নেত্রীর সামনে নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের দুয়ার খুলতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।



আপনার মতামত লিখুন