রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর : আগামীকাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে সামনে রেখে রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টায় জড়িত চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
আটকরা হলেন মিঠাপুকুর উপজেলার গোলাম কিবরিয়া ও সুমন চন্দ্র। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর পুলিশ লাইনসংলগ্ন ক্যাপ্টেন ব্যাকোলজি মোড় থেকে তাদের আটক করা হয়।
ডিবি জানায়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি চক্র পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টা করছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা ডিজিটাল ডিভাইস সরবরাহের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে একটি বড় সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তভূক্তি ও টেকসই উন্নয়ন এর লক্ষ্যে ব্য্যাক কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশনস ফর ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের সমাপনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ শাহ আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আবুল হাসান,জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমদ জনি,ব্র্যাক অফিসার জেরিন তাসনিন। শুরুতেই মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক অফিসার মো. মাজহারুল হক। সভায় এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন বলেন, আমার চাকরিজীবনে অনেকবার ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। তাদের কার্যক্রম অত্যন্ত ভালো ও প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে যেসব উদ্যোক্তা ব্যবসা শুরু করেছেন, তাদের ব্যবসায় মনোযোগী হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে হবে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে হবে। ।।##
রাজশাহী তানোরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেটজ্ বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতায় ডাসকো ফাউন্ডেশন বাস্তবায়িত জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত অবক্ষয়ের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠির অধিকার সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে (এনগেজ) প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং জনগোষ্ঠীর পরিবেশগত সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ (আগস্ট) বিকেল ৩:৩০টায় রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রাম এবং পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ ও উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে রাজশাহী জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) নাফেয়ালা নাসরিন অংশগ্রহণ করেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন এবং উঠান বৈঠকে উপস্থিত জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এ সময় পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সিএসও সদস্য এবং শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, ভূমিক্ষয় রোধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে সবুজায়ন বৃদ্ধিতে সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উঠান বৈঠকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপিত গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণে উৎসাহিত করা হয়। সরকারি প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার, সিএসও সদস্য, শিক্ষার্থী ও জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অংশগ্রহণ কর্মসূচিটিকে আরও কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলে।
ENGAGE প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার চারটি উপজেলা—তানোর, গোদাগাড়ী, মান্দা ও মহাদেবপুর – এর বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় সুশীল সমাজ সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিবেশ ও জলবায়ু-সহনশীলতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সবুজায়ন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাচি শাশুড়িকে মারধর, মানসিক নির্যাতন এবং তার বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম হলদিবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, স্বামী অন্যত্র বিয়ে করার পর প্রায় এক বছর ধরে তার ভাতিজিজামাই মনিরুজ্জামান বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রাত-বিরাতে তাকে উত্ত্যক্তও করতেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। পরে স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি জানালে মনিরুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বসতঘর ভাঙচুর করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা লাভলী বেগম বলেন, মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে উত্ত্যক্ত করতেন। সোমবার তাকে মারধরের পাশাপাশি ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিস নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মনিরুজ্জামান বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। বরং তার স্ত্রীকে ওই পক্ষের লোকজন মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, তার স্বামী প্রায় দেড় বছর আগে অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর ২০২৪ সালে মনিরুজ্জামান তার শাশুড়ির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় তার শাশুড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করলে মনিরুজ্জামানকে র্যাব গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। জামিনে বের হওয়ার পর তাকে একইভাবে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে নির্যাতন ও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার হাতীবান্ধা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন