খুঁজুন
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ়, ১৪৩৩

নোয়াখালীতে মেডিকেলে চান্স পাওযা শিক্ষার্থীর লেখা পড়ার দায়িত্ব নিলেন- বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

পাবলিক বাংলা :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
নোয়াখালীতে মেডিকেলে চান্স পাওযা শিক্ষার্থীর লেখা পড়ার দায়িত্ব নিলেন- বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

মো: ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ (রিপন), নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সেনবাগের ৩নং ডমুরুয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কৈইয়াজলা গ্রামের আনসার আলী ভুঁইয়া বাড়ির মৃত আব্দুল ওয়াদুদ ও শাহিদা আক্তার দম্পতির বড় মেয়ে জান্নাতুল আরফিন এবছর সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার এই সাফল্যে আনন্দিত শিক্ষক ও এলাকাবাসী। তবে দুশ্চিন্তায় রয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল আরফিন ও তার পরিবার। ইতিমধ্যে বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি গোচর হলে তিনি ঐ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীর লেখাপড়া দায়িত্ব নেন।

এ উপলক্ষে মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল আরফিনের সেনবাগের ডমুরুয়া ইউনিয়নে কৈয়াজলা গ্রামের বাডিতে আজ সোমবার বিকেল ৩ টায় তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল আরফিনের লেখাপড়ার খরচের টাকার চেক আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চেক হস্তান্তর করেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চীফহুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন,সেনবাগ উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী সেনবাগ পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদ উল্লাহ, উপজেলা বিএনপি’র নেতা মিয়া মোহাম্মদ ইলিয়াস,বাহার উল্লাহ বাহার, উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী সুফিয়া আক্তার সহ বিএনপি ও সহযোগী অংগ সংগঠনের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী।

তারেক রহমানের এ মহতি উদ্যোগে দারুণ ভাবে খুশি শিক্ষার্থী পরিবার ও এলাকাবাসী। মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল আরফিনের সকল লেখা পড়ার দায়িত্ব বিএনপির ভারাপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেওয়ায় কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে বলেন, তিনি নিয়মিত লেখা পড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে,বিশেষ করে তারেক জিয়ার মতো মানবিক মানুষ হয়ে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে জনকল্যানে কাজ করতে পারেন এজন্য সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন।

জানা গেছে, মেধাবী শিক্ষার্থী জান্নাতুল আরফিন সেনবাগের ডমুরুয়া ইউনিয়নের গাজীরহাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও আত্মীয়দের সহায়তায় ফেনী জিয়া মহিলা কলেজে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকেও জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পিতার মৃত্যুর পর মা শাহিদা আক্তার চার সন্তান নিয়ে অথৈই সাগরে পড়েন । বাড়িতে সেলাই মেশিনের কাজ করে, টিউশনি করিয়ে, আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেন তিনি।মা শাহিদা আক্তার স্বামীর ভাগে পাওয়া মাত্র ৫ শতাংশ ধানের জমি ২০২৩ সালে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেন । সেই অর্থেই বড় মেয়ের কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয় মেটানো হয়েছে এতদিন।

এইচএসসি শেষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রথম দফায় কোচিং বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রথম বার কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন আরফিন। পরবর্তীতে দ্বিতীয়বার চট্টগ্রামে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করেন। কঠোর পরিশ্রম, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাসের ফল হিসেবে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় আরফিন ৪০৪১তম স্থান অর্জন করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। তবে ভর্তি, বইপত্র ও অন্যান্য খরচ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আরফিন ও তার পরিবার।

শাহিদা আক্তার বলেন, পরিবারের শেষ সম্বল ধানের জমি বিক্রি করে মেয়েকে কোচিং সেন্টারে ভর্তি করিয়েছি। এখন ভর্তি, বইসহ অনেক খরচ। সামনে কিভাবে পড়াশোনা চলবে তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এটি এখন নতুন করে কপালে ভাজ পড়েছে। মেয়ে মানুষ এত দূরে থাকবে পড়ালেখা করবে সেটি এখনও স্বপ্ন। আল্লাহর কাছে চাই তিনি যেন একটা ব্যবস্থা করে দেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জান্নাতুল আরফিন প্রথমেই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, স্বপ্নের মেডিকেলে চান্স পাওয়ায় আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া। অষ্টম শ্রেণিতে বাবাকে হারানোর পর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় শুরু হয়। অনেক সময় মনে হয়েছে পড়াশোনা চালানো সম্ভবই হবে না। কিন্তু আমার মা আমাকে কখনো হাল ছাড়তে দেননি। তিনি একাই আমার বাবা এবং মায়ের ভূমিকা পালন করেছেন।

জান্নাতুল আরফিন আরও বলেন, প্রথমবার মেডিকেলে চান্স না পেয়ে মানুষিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হয়েছিল আমাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না। কিন্তু আমার পড়াশোনার জন্য মা জমি বিক্রি করেছেন। এই বিষয়টি আমাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল করেছে। দ্বিতীয়বার চট্টগ্রামে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে গিয়ে তিন মাসে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনা অনেক ব্যয়বহুল। সেটি কিভাবে ম্যানেজ হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এই সাফল্য শুধু আমার একার নয়। এটি আমার মা, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত অর্জন। ভবিষ্যতে একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। যারা আমার জন্য দোয়া ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন সবার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। আমি যেন সবার উপকারে আসি সেই দোয়া চাই। একজন মানবিক ডাক্তার হতে পারি।

গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার কুয়াকাটায়

কুয়াকাটা ( পটুয়াখলী ) প্রতিনিধি: 
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার কুয়াকাটায়

 

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার গঙ্গামতি উপকূলের গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর কুয়াকাটা থেকে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত জেলে শাহাবুদ্দিন মাঝি (৬০) লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার চর গাছিয়া এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন ভোর ৫টার দিকে ধূলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি মৎস্যঘাট থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যান জেলেরা। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। এ সময় জাল তোলার সময় প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে জালাল মুন্সির ট্রলার থেকে শাহাবুদ্দিন মাঝি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর সহকর্মী জেলেরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়।

আজ ( ২৫ জুন ) বৃহস্পতিবার গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় শাহাবুদ্দিন মাঝির মরদেহ দেখতে পান লেম্বুর বনঘাট এলাকার কয়েকজন জেলে। তারা বিষয়টি স্বজনদের জানালে নিহতের পরিবারের সদস্যরা অন্য একটি নৌকার সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে যান। পরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে গভীর সমুদ্র থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ   ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।

এ ঘটনায় জেলে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় জেলেদের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

তিস্তার ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
তিস্তার ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

 

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও কুড়িগ্রামে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়াবহ নদীভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত ৩০টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে কুড়িগ্রাম জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন নদীর পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে পানি কমলেও নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালির মেলা এলাকার কৃষক মোঃ রব্বানী ও মোঃ রহিউদ্দিন জানান, তিস্তার পানি ঢুকে তাদের এক বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আউশ ধানেরও ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীপারের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে বসতঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ ময়দুল ইসলাম রনি বলেন, গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। স্থানীয়ভাবে নতুন করে অতিবৃষ্টি না হলে আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত পানি নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে। কৃষকদের জমিতে পানি নেমে যাওয়ার পর বিশেষ পরিচর্যা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের ভাঙনকবলিত মানুষ এখন জরুরি সরকারি সহায়তা ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন

মেহেদী হাসান সোহাগ-কলাপাড়া,কুয়াকাটা-প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন

 

পটুয়াখালীর মহিপুরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি এবং হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মহিপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. মুসা গাজী। তিনি জানান, তার বাবা মো. মজিবুর রহমান গাজী দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। প্রবাসে অর্জিত অর্থে ২০২৪ সালে তিনি ৪০ নং ইউসুফপুর মৌজার বিএস ৮১৬ খতিয়ানের ২৩০৩ ও ২৩০৭ দাগের জমি ক্রয় করেন এবং বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি ইমরান হাওলাদার ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সহযোগিতায় ওই জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালান। বিষয়টি নিয়ে মহিপুর থানায় সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে গত ১২ জুন ইমরান হাওলাদার মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেল্লাল ইসলাম গালিব (মাইকেল), মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইউব আলী আকন ফিরোজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাউয়াব সরদার ও রাসেল মাহমুদ ভেকুকে দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মুসা গাজী দাবি করেন, তাদের স্বজনরা বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তার চাচা আব্দুল মতিন গাজী মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-আর ১১৬/২৬) করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২১ জুন কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলেও বিবাদীরা ২৩ জুন পুনরায় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল মতিন গাজী, শহিদুল গাজী ও দেলোয়ার দুয়ারির ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আব্দুল মতিন গাজী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারটির দাবি, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান হাওলাদার বলেন, আমার জমিতে আমি কাজ করেছি। কারও কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি। আদালতের কোনো নোটিশও আমি পাইনি।

মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল গালিব বলেন, বাজারে যাওয়ার পথে বিরোধপূর্ণ জমিতে লোকজনের ভিড় দেখে সেখানে যাই। পরে আমাদের জড়িয়ে আদালতে মামলা ও থানায় জিডি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।

এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার বলেন, এটি জমিজমা সংক্রান্ত আদালতের বিষয়। মালিকপক্ষ আদালতে স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করে ফয়সালা করবেন। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার কুয়াকাটায় তিস্তার ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, উদ্ধার কাভার্ড ভ্যান ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক মোরশেদ, ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন