খুঁজুন
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩

মান্দার এনসিপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হামিদের রাজনীতিতে আসার গল্প

মান্দা উপজেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:০১ অপরাহ্ণ
মান্দার এনসিপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হামিদের রাজনীতিতে আসার গল্প

নতুন রাজনীতির পথে এক উদ্যোক্তা, পরিবেশযোদ্ধা ও সমাজসেবকের যাত্রা।বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় নওগাঁ–৪ (মান্দা) আসনে উঠে এসেছেন এক নতুন মুখ—ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হামিদ। একজন উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী, ইনোভেটর, গবেষক এবং সমাজসেবক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এবার তিনি বেছে নিয়েছেন নতুন রাজনৈতিক শক্তি NCP (নাগরিক কমিটি পার্টি)–কে।

তার পুরো যাত্রাই যেন এক অনুপ্রেরণার গল্প—ব্যক্তিগত সাফল্য থেকে সমাজের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার।

নওগাঁর মান্দা উপজেলার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা আব্দুল হামিদ ছোটবেলা থেকেই দেশের জন্য বড় পরিসরে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন। মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা থেকে এইচএসসি, এরপর বুয়েটে ইঞ্জিনিয়ারিং—সব পথই তাকে আরও দৃঢ় করেছে মানুষের জন্য কাজ করার চিন্তায়।

বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার অগণিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশেই থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যান। কিন্তু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই তার প্রধান চালিকা শক্তি ছিল।

পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি এবং হার্ভার্ড বিজনেস অনলাইন থেকে লিডারশিপ সার্টিফিকেট অর্জন করে নিজের দক্ষতা আরও শানিত করেন।

কৃষকদের জন্য প্রথম বড় উদ্যোগ—এগ্রি-ইনপুট প্রকল্প

নিজের গ্রামে কৃষকদের আয়ের উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি বিস্তারের জন্য তিনি চালু করেন একটি উদ্ভাবনী এগ্রি-ইনপুট প্রকল্প। স্থানীয় কৃষির প্রয়োজন অনুযায়ী তিনি তৈরি করেন এনজাইম–ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব একটি সমাধান, যা কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এই উদ্ভাবনের জন্য তিনি রাজশাহী বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন এবং পরে আমন্ত্রণ পান ভারতের মুম্বাইয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপনার জন্য। সেখানে বিভিন্ন ইমপ্যাক্ট–বেজড প্রতিষ্ঠান তার প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখায়।

যদিও ২০১৩–১৪ সালে রাজনৈতিক চাপ ও সরকারি অসহযোগিতার কারণে প্রকল্পটি বড় পরিসরে বাস্তবায়ন হয়নি—এটিই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় হতাশাগুলোর একটি।

এছাড়াও পরিবেশ রক্ষা তার কাছে যেমন নৈতিক দায়িত্ব, তেমনি মানুষের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি বাপা–এর জীবন সদস্য হন।

মান্দা এলাকায় অবৈধ ইটভাটা, কৃষিজমি দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে তিনি বহুবার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিবন্ধকতা এলেও তিনি পিছপা হননি।

তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ

তরুণদের নিয়ে তার মূল দর্শন—“দক্ষ তরুণ কখনো বেকার হয় না।”এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়া, প্রযুক্তি শেখা ও স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়ে অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন।

সামাজিক ও মানবিক কাজে নিয়মিত ভূমিকায় মান্দা উপজেলায় বহু বছর ধরে তিনি,মসজিদ–মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা,স্থানীয় সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সহ রাস্তা–ঘাট উন্নয়নে সরকারি দপ্তরে আবেদন করে আসছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নীরব পৃষ্ঠপোষকতার ভূমিকা পালন করেছেন।ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে চলমান জুলাই আন্দোলনে তিনি ঢাকায় বহু তরুণকে নীরবে সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।অনেক “জুলাই যোদ্ধা” আজও তার সঙ্গে যুক্ত আছেন।এই আন্দোলন তাকে বুঝিয়েছে—সমাজের জন্য কাজ করতে হলে শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজন।

ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হামিদের রাজনীতিতে জেলা সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করেন। জুলাই আন্দোলনের পর তিনি যখন পুরনো রাজনৈতিক দলের নোংরা রাজনীতি দেখলেন, তখন উপলব্ধি করলেন—নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দরকার, যেখানে সৎ ও দক্ষ মানুষ নেতৃত্ব দেবে।সেই ভাবনা থেকেই তিনি এনসিপি–তে যুক্ত হন এবং নওগাঁ জেলায় দ্রুত বিস্তার ঘটান তরুণদের নিয়ে।

জুলাই পদযাত্রায় রেখেছেন বড় ভূমিকা।মান্দার মতো একটি উপজেলা থেকে ২০০–র বেশি তরুণকে নিয়ে তিনি নওগাঁর ঐতিহাসিক জুলাই পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করান।এটি ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের এক বড় সাফল্য।

সূচনা

এনসিপির জেলা সদস্য হিসেবে তিনি ‘মান্দার পথে প্রান্তরে -NCP’ প্রোগ্রাম শুরু করেন।সেখানে নতুন রাজনীতির ধারণা প্রচার,সৎ ও দক্ষ তরুণ নেতৃত্ব গঠনসহ লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার, সোশ্যাল মিডিয়া সব মাধ্যমে যোগাযোগ বিস্তার করেন। মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে প্রতিনিধি নিয়োগ এবং স্বয়ংক্রিয় ডেটাবেজ তৈরির মাধ্যমে সংগঠন দ্রুত বিস্তৃত করছেন।

বিজনেস আইডিয়া জেনারেশন চ্যাম্পিয়ন হন। যেটি তার জীবনের জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় অর্জন।নিজের ল্যাবে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি যে নতুন ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করেন, তা জাতীয় প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়।এই সাফল্য তাকে আরও দৃঢ় করেছে—দেশে ইনোভেশন ও যুবশক্তিকে এগিয়ে নিতে তিনি বড় ভূমিকা রাখতে চান।

জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দেওয়া উপর এ পর্যন্ত তিনি লিখেছেন ৯ টি বই প্রকাশ করেছেন।যার মধ্যে ৬ টি Amazon Kindle–এ ৩ টি বাংলাদেশে প্রকাশিত পেপারব্যাক।তার লেখার মূল উদ্দেশ্য—মানুষকে আত্মনির্ভরশীল, দক্ষ এবং অনুপ্রাণিত করা।

এনসিপি করার মধ্যেমে আব্দুল হামিদ বিশ্বাস করেন—

“পুরনো রাজনৈতিক ধারা দিয়ে বাংলাদেশে পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

তার মতে এনসিপি হলো—নতুন রাজনীতি,সৎ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব,আধুনিক ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক কাঠামো, তরুণ–নির্ভর উন্নয়নের প্ল্যাটফর্ম।

৪৯ নওগাঁ–৪ (মান্দা) আসনের জন্য তার পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক পরিকল্পনা হচ্ছে -তিনি মানুষকে বোঝাতে চান,রাজনীতি মানে ক্ষমতা নয়,রাজনীতি মানে উন্নয়ন, সেবা, জবাবদিহিতা।প্রতিটি ভোটারের কাছে সরাসরি যাওয়া,প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে প্রতিনিধি দেওয়া প্রতিটি বাড়ি–ঘরে বার্তা পৌঁছে দেওয়া,সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলা।

তিনি বিশ্বাস করেন- ভোটারের মনস্তত্ত্ব বুঝে দায়িত্বশীল যোগাযোগ ভুল প্রতিশ্রুতি দেওয়া নয়।“সমস্যার বাস্তব সমাধান”–এটাই তার মূল নীতি।

এলাকার বড় সমস্যাগুলোর সমাধানে -অবকাঠামো, বেকারত্ব, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, মাদক, দারিদ্র্য, সরকারি সেবা বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মাতোয়ারা বেগমকে সভাপতি এবং সোনিয়া বেগমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সভাপতি হামিদা বেগম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আজিজ মুসল্লী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দলীয় কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নবনির্বাচিত সভাপতি মাতোয়ারা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আগামী দিনে ওয়ার্ড পর্যায়ে মহিলা দলের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা হবে।

কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ( ফ্যামেলী প্লানিং ) সেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা। সেবা নিতে আসা প্রত্যন্ত এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষসহ অনেকেই কাঙ্খিত পরিবার পরিকল্পনা (ফ্যামেলী প্লানিং) সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরঞ্জামের সংকটে প্রয়োজনীয় উপকরণ না পেয়ে তারা বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে অনেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী না পাওয়ায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নি¤œআয়ের মানুষের জন্য সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এসব সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরঞ্জাম সংকট তাদের দুর্ভোগ আরোও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেবা প্রার্থী উত্তর সোম এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারী হাসপাতালে নিজ পরিবারের জন্য কম খরচে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাওয়ার আশায় এখানে আসি। কিন্তু বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা উপকরণ না থাকায় গত তিন মাস যাবৎ কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। ফলে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পরিবার পরিকল্পনা সেবা মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবার পরিকল্পনা সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের পর্যাপ্ত মজুত থাকা জরুরী। সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে মাঠ পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমও ব্যাহত হবে। যদি দীর্ঘ সময় এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সরঞ্জাম সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে মজুত পর্যালোচনা ও সেবা কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও ভোগান্তি কমানোর দাবি জানান তারা।
উল্লেখ যে, চলতি বছরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এসময় কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পায় এবং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ত্রুটি ও অনিয়মও মন্ত্রীর নজরে আসে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হোসনেয়ারা বেগম সরঞ্জাম সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ২/৩ মাস যাবৎ সকল প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম মহিলাদের জন্য পিল, পূরুষদের কনডমসহ ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডি কার্যক্রমের সংকট বিদ্যমান।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছাঃ নাহিদা খাতুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় এরকম জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী অক্টোবরে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার কথা রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ দিলে প্রযোজনীয় সরঞ্জামাদী সরবরাহ করা হবে।
সেবা প্রত্যাশীদের প্রশ্ন, সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে না কেন? সরঞ্জামাদী নিয়মিত সরবরাহ ও মজুত ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকলে এর দায়ভার কে নেবে? শুধু কাগজে-কলমে নয় পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ নিশ্চিত করে বাস্তবে সেবা পৌঁছে দেওয়া হোক।

পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা

প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্দারিয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১০০ বিঘা পতিত জমিতে মাছ চাষ করে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লাভ করছেন ছাইদুর রহমান মোল্লা।

নিচু জমি হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকত এসব জমি। ধান কাটার পর জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকলেও সেই জমিতেই মাছ চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি।

মাছ চাষের পাশাপাশি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান মোল্লা ইটভাটার ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। বছরের ছয় মাস ইটভাটার ব্যবসা এবং বাকি ছয় মাস মাছ চাষ করে ব্যস্ত সময় কাটে তাঁর। মাছ চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্দারিয়াপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জমিগুলো নিচু হওয়ায় বৈশাখ মাসে ধান কাটার পর বর্ষার পানি জমে যায়। ফলে এসব জমিতে বছরের অধিকাংশ সময় আর কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হতো না। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব অনাবাদি জমিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন ছাইদুর রহমান মোল্লা। পর্যায়ক্রমে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি।

বর্তমানে এসব জলাবদ্ধ ও নিচু জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। মাছ বিক্রি করে প্রতিবছর ভালো আয় হচ্ছে তাঁর। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লাভ করেন বলে জানান ছাইদুর রহমান মোল্লা।

ছাইদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘যেসব জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকত এবং কোনো কাজে আসত না, সেসব জমিকে মাছ চাষের আওতায় এনে ভালো ফল পেয়েছি। ইটভাটার ব্যবসা ছয় মাস করি, আর ছয় মাস মাছ চাষের পেছনে সময় দিই। মাছ চাষে লাভের পাশাপাশি অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কার পাওয়ায় আমি আরও উৎসাহিত হয়েছি। আমার এই উদ্যোগ দেখে এলাকার অনেক তরুণ মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একসময় বছরের পর বছর পড়ে থাকা এসব নিচু জমি এখন মাছের খামারে পরিণত হয়েছে। ছাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে এলাকার তরুণদের মধ্যেও মাছ চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে মাছ চাষের পদ্ধতি ও খরচ-লাভের হিসাব সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর পাল বলেন এ ধরনের অনাবাদি ও জলাবদ্ধ জমিকে মাছ চাষের আওতায় এনে আরও বেশি কর্মসংস্থান ও আয় সৃষ্টি করা সম্ভব, ছাইদুর রহমান মোল্লার উদ্যোগটি শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্য নয়, বছরের অধিকাংশ সময় অনাবাদি পড়ে থাকা নিচু জমিকে কীভাবে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করা যায়—তারও একটি দৃষ্টান্ত।

তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় তরুণরা মাছ চাষে এগিয়ে এলে এলাকার অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা মান্দায় আন্তঃক্লাব ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল জোকাহাট ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন সাপাহারে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা