খুঁজুন
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ়, ১৪৩৩

কালীগঞ্জে কেঁচো সার প্রকল্পে দুর্নীতি, কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লুটের অভিযোগ

পাবলিক বাংলা :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে কেঁচো সার প্রকল্পে দুর্নীতি, কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ লুটের অভিযোগ

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনাবাদী পতিত জমি ও বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনের লক্ষে কমিউনিটি বেইজ ভার্মিকম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের অনিয়মে সরাসরি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কৃষকদের।
প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে কেঁচো সার উৎপাদনে উপজেলায় ১২ টি প্রকল্প রয়েছে। জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে ১১ টি এবং মোক্তারপুর ইউনিয়নে রয়েছে একটি প্রকল্প।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত ভাংতি বিবরনী সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি প্রকল্পের জন্য চারি ৪ হাজার টাকা, ভার্মিকম্পোস্ট হাউজ ১০ হাজার টাকা, আমদানীকৃত কেঁচো ১০ হাজার টাকা, টিন ১৫ হাজার টাকা, কাঠ,বাশ,সিমেন্টের খুটি ও স্ক্রু বাবাদ ১৫ হাজার টাকা, পলিব্যাগ ৫ হাজার টাকা, পলিব্যাগ সিলিং মেশিন দুটি ৬ হাজার টাকা, সাইনবোর্ড ১৫ শত টাকা এবং আনুষাঙ্গিক ৩ হাজার ৫শত টাকাসহ মোট ৭০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা রয়েছে। যাহা ১২ প্রকল্পের জন্য মোট ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দ রয়েছে।
২৭ ফুট দৈর্ঘ ও ৮ ফিট প্রস্থ বিশিষ্ট এক চালা টিনের শেড তৈরির জন্য কাঠ, বাশ, সিমেন্টের খুটি, স্ক্রুসহ অন্যান্য খরচ বাবদ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলে ১২ প্রকল্পে এক লাখ ৮০ হাজার কোন হদিশ নেই। শেড তৈরিতে কোন বরাদ্দ নেই বলে কৃষকদের নিজ খরচে শেড তৈরি করতে বলে কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা। এতে প্রতি কৃষককে নিজ অর্থায়নে গুনতে হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। ঘরের চাল নির্মানের জন্য ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের ১২ টি প্রকল্পের বিপরীতে এক লাখ ৮০ হাজার টাকার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণের কথা থাকলেও, তা পায়নি কৃষকরা। এই পরিমান অর্থ প্রকল্প শুরুর আগেই লুট করে সেই কৃষি কর্মকর্তা।
কেঁচো সার উৎপাদন প্রকল্পের কৃষকদের কাছে জানতে চাইলে জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের আজমতপুরের কুলথুন এলাকার কৃষক আব্দুছ সাত্তার, দেওতলা এলাকার ফকির মোস্তফা ও আজমতপুর এলাকার মো. মোস্তফা খান প্রতিবেদককে বলেন, প্রকল্পে ধার্যকৃত কাঠ,বাশ,সিমেন্টের খুটি ও স্ক্রু বাবাদ ১৫ হাজার টাকা কৃষি অফিস খরচ করেনি। আমরা নিজ অর্থে ঘরের কাজ করতে হয়েছে। বাকি প্রকল্পে একই অবস্থা করেছে। তারা আমাদের ঠকিয়েছে।
ঘর বা শেড নির্মানে ঠিকাদার নিয়োগে রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি ও ঘাপলা। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দরপত্র বা কোটেশন ছাড়াই স্থানীয় সার ব্যবসায়ী কৃষি কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত সোহেল এন্টারপ্রাইজ এর রমিজকে কাজ পাইয়ে দিয়েছে। তার মাধ্যমেই যত অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছে সেই কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষি কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, খরচের বিষয়ে ম্যাডাম আমাদেরকে কিছু বলেন না। একাই তিনি সকল সিদ্ধান্ত নেন। শুধুমাত্র প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও কাজ দেখাশোনা করা ছাড়া আমাদের কোন দায়িত্ব নেই। তাছাড়া কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ বা কিভাবে খরচ হচ্ছে তা আমাদের অজানা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম ২০২০ইং সাল হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত একই কর্মস্থলে অবস্থান করার কারনে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নিতির মাধ্যমে সে রামরাজত্ব কায়েম করেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। অবিলম্বে তার বদলীর দাবী জানান তারা।
অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কৃষকদের নিজের টাকা দিয়ে ঘর বা শেড নির্মান করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই কৃষকদের নিজ অর্থে শেড নির্মানের কাজ করতে বলা হয়েছে। তবে এই খাতে বরাদ্দকৃত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা কোন কাজে ব্যয় করেছেন তার কোন সদুত্তর তিনি দিতে পারেন নি। একাধিক ঠিকাদারের মাধ্যমে মৌখিক দরপত্র কথা বললেও অন্য ঠিকাদারদের নাম ঠিকানা সম্পর্কে কোন তাৎক্ষণিক ব্যাখা দিতে পারে নি।
এলাকার সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কৃষি উন্নয়নমূলক প্রকল্পে এ ধরনের দুর্নীতি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। সরাসরি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা, প্রকল্পের তদারকিতে প্রত্যক্ষ ভ‚মিকা থাকায় অনিয়মের বিষয়টি এতদিন গোপন থাকে। তারা দ্রত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা মনে করেন দুর্নীতির মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের সরকারি সহায়তা হরণ করা হয়েছে। তারা প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরেছি। সরেজমিন পরিদর্শন করব। তবে আর্থিক খাদ থেকে টাকা সরানোর কোন সুযোগ নেই।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোঃ জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে জেলার কর্মকর্তার সাথে কথা বলব। কৃষি কর্মকর্তা দুষি প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলব।
২১/১০/২৫ইং

গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার কুয়াকাটায়

কুয়াকাটা ( পটুয়াখলী ) প্রতিনিধি: 
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার কুয়াকাটায়

 

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার গঙ্গামতি উপকূলের গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর কুয়াকাটা থেকে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত জেলে শাহাবুদ্দিন মাঝি (৬০) লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার চর গাছিয়া এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন ভোর ৫টার দিকে ধূলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি মৎস্যঘাট থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যান জেলেরা। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। এ সময় জাল তোলার সময় প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে জালাল মুন্সির ট্রলার থেকে শাহাবুদ্দিন মাঝি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর সহকর্মী জেলেরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়।

আজ ( ২৫ জুন ) বৃহস্পতিবার গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় শাহাবুদ্দিন মাঝির মরদেহ দেখতে পান লেম্বুর বনঘাট এলাকার কয়েকজন জেলে। তারা বিষয়টি স্বজনদের জানালে নিহতের পরিবারের সদস্যরা অন্য একটি নৌকার সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে যান। পরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে গভীর সমুদ্র থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ   ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।

এ ঘটনায় জেলে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় জেলেদের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

তিস্তার ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
তিস্তার ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

 

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও কুড়িগ্রামে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়াবহ নদীভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত ৩০টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে কুড়িগ্রাম জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন নদীর পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে পানি কমলেও নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালির মেলা এলাকার কৃষক মোঃ রব্বানী ও মোঃ রহিউদ্দিন জানান, তিস্তার পানি ঢুকে তাদের এক বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আউশ ধানেরও ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীপারের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে বসতঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ ময়দুল ইসলাম রনি বলেন, গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। স্থানীয়ভাবে নতুন করে অতিবৃষ্টি না হলে আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত পানি নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে। কৃষকদের জমিতে পানি নেমে যাওয়ার পর বিশেষ পরিচর্যা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের ভাঙনকবলিত মানুষ এখন জরুরি সরকারি সহায়তা ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন

মেহেদী হাসান সোহাগ-কলাপাড়া,কুয়াকাটা-প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন

 

পটুয়াখালীর মহিপুরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি এবং হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মহিপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. মুসা গাজী। তিনি জানান, তার বাবা মো. মজিবুর রহমান গাজী দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। প্রবাসে অর্জিত অর্থে ২০২৪ সালে তিনি ৪০ নং ইউসুফপুর মৌজার বিএস ৮১৬ খতিয়ানের ২৩০৩ ও ২৩০৭ দাগের জমি ক্রয় করেন এবং বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি ইমরান হাওলাদার ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সহযোগিতায় ওই জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালান। বিষয়টি নিয়ে মহিপুর থানায় সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে গত ১২ জুন ইমরান হাওলাদার মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেল্লাল ইসলাম গালিব (মাইকেল), মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইউব আলী আকন ফিরোজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাউয়াব সরদার ও রাসেল মাহমুদ ভেকুকে দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মুসা গাজী দাবি করেন, তাদের স্বজনরা বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তার চাচা আব্দুল মতিন গাজী মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-আর ১১৬/২৬) করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২১ জুন কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলেও বিবাদীরা ২৩ জুন পুনরায় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল মতিন গাজী, শহিদুল গাজী ও দেলোয়ার দুয়ারির ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আব্দুল মতিন গাজী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারটির দাবি, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান হাওলাদার বলেন, আমার জমিতে আমি কাজ করেছি। কারও কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি। আদালতের কোনো নোটিশও আমি পাইনি।

মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল গালিব বলেন, বাজারে যাওয়ার পথে বিরোধপূর্ণ জমিতে লোকজনের ভিড় দেখে সেখানে যাই। পরে আমাদের জড়িয়ে আদালতে মামলা ও থানায় জিডি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।

এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার বলেন, এটি জমিজমা সংক্রান্ত আদালতের বিষয়। মালিকপক্ষ আদালতে স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করে ফয়সালা করবেন। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার কুয়াকাটায় তিস্তার ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, উদ্ধার কাভার্ড ভ্যান ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক মোরশেদ, ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন