ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
কালীগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। বর্তমানে কাঁচা ও আধাপাকা ধানের শীষ দুলছে বাতাসে। বোর মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা ধানের চারা রোপণ করতে পারায় কালীগঞ্জে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষেত জুড়ে দুলছে আধা-পাকা সোনালী ধানের শীষ। সারা বছরের জমাটবাঁধা দুঃখ কষ্ট পেরিয়ে এখন ফসল ঘরে তোলার পালা। তাই কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠেছে। আবার কোনো ক্ষেতে ধানের শীষ কেবল সোনালি হতে শুরু করেছে। বাম্পার ফলনে পাকা সোনালি ধান গোলায় তোলার স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা। বৈশাখের শুরুতেই ধান কাটার মৌসুম। বৈশাখ এলেই উপজেলা জুড়ে শুরু হয় ধান কাটার উৎসব।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর এঅঞ্চলে ব্রিধান-৮৮, ব্রিধান-৮৯, ব্রিধান-৯২, ব্রিধান-৯৬, ব্রিধান-১০০, ব্রিধান-১০২, ব্রিধান-১০৪, ব্রিধান-১০৫, ব্রিধান-১০৮ জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। ব্রিধান-২৮ এর পরিবর্তে স্বল্প জীবনকালের ব্রিধান-৮৮, ব্রিধান-৯৬ চাষ করা হয়েছে। উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ২৮৭৫ হেক্টর ও উফশী জাত ৬৯৩৫ হেক্টর জমিতে বোর ধানের আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলার বক্তারপুর, জাঙ্গালিয়া, মোক্তারপুর, বাহাদুরশাদী, জামালপুর, নাগরী ও তুমলিয়াসহ মোট সাতটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা রয়েছে। বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এখন ধানের গন্ধে মাতোয়ারা। তুমলিয়া ইউনিয়নের কৃষি জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে থাকায় এই এলাকায় পর্যায়ক্রমে বছরে তিনবার চাষাবাদ হয়ে থাকে। বন্যার পানি উঠায় অন্যান্য এলাকার জমি এক ফসলি হিসেবে পরিচিত। বৈশাখ মাসে ধান গোলায় উঠাতে পারলেই কৃষক পরিবারের আনন্দ। নয়তো বিষাদের ছায়া নামে তাদের চেহারায়।
বক্তারপুর বাজার পাড়া এলাকার চাযী মো. জয়নাল হোসেন বলেন, ধান এখন আধাপাকা হয়ে আসছে। বোরো মৌসুমে এলাকার খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। মৌসুমের শুরুতে এবার আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় নেই কোন উৎকণ্ঠা। ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় আগে থেকেই ধান কাটার প্রস্তুতি রয়েছে।
তুমলিয়া ইউনিয়নের টিওরী গ্রামের কৃষক মো. আলী হোসেন খোকন বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভিতরে ধানের চারা রোপন দেরীতে হওয়ায় ধান কাটতেও কিছুটা দেরী হবে। ধানের শীষে মাত্র কেবল সোনালি রঙ ধরেছে। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে শুরু হবে ধান কাটা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসলিম প্রতিবেদককে বলেন, এবার উপজেলায় ৯৮১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮০৫ হেক্টর। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা (চালে) হাইব্রিড ৫.২ মেট্রিক টন এবং উফশী জাত ৪.১ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে। শস্য কর্তনের মাধ্যমে ব্রিধান-৯৬ প্রতি বিঘাতে প্রায় ২৫ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আগাম জাতের ধানগুলো কৃষকরা কর্তন শুরু করেছে এবং আশানুরুপ ফলন হয়েছে।
কালীগঞ্জ, গাজীপুর
01553354284
১৬/০৪/২৫ইং


আপনার মতামত লিখুন