মনোহরদী প্রতিনিধি। রবিবার (১৬ মার্চ) নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ সংক্রান্তে প্রেস ব্রিফিং প্রদান করেন নরসিংদীর পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল হান্নান।
অফিসার ইনচার্জ, মনোহরদী থানা, নরসিংদীর নেতৃত্বে এসআই(নিঃ) মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অবৈধ অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের নিমিত্তে বিশেষ অভিযান করাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংবাদ পান যে, কতিপয় লোকজন অবৈধ অস্ত্র-গুলি ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাতে মনোহরদী থানাধীন চঙ্গভান্ডা সাকিনস্থ মুরগী বাজারের পূর্ব পার্শ্ব হতে ২জন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করেন। আটককৃত আসামীদের নিকট হতে ২টি বিদেশী সচল পিস্তল, ২ রাউন্ড তাজা গুলি ও ১টি মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা
মো: মামুন প্রধান (৩৬), পিতা- মন্তাজ উদ্দিন প্রধান এবং
আজিম খান (২৫), পিতা- মৃত দেলোয়ার হোসেন খান।
জুবায়ের আহমেদ রাসেল : গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শেরপুর জেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে, কোথাও আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা থাকে না। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে জেলার বাসিন্দাদের।
ঝিনাইগাতী উপজেলার যোগাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা নবর আলী বিরক্তিভরা কণ্ঠে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে ৮-১০ বার বিদ্যুৎ যায়। আধা ঘণ্টা থাকলে তিন-চার ঘণ্টা থাকে না। রাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। গরমে ঘুমানো যায় না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এলাকায় সাবমার্সিবল মোটর ছাড়া পানি তোলা খুব কষ্টকর। তাই নদী থেকে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলতে হয়। কিন্তু এখন তেলেরও সংকট। কারেন্ট না থাকায় ভাড়ায় মোটর চালিয়ে কোনোভাবে সেচ দিতে হচ্ছে। আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি।
শুধু নবর আলী নন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একদিকে তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গ্রামীণ এলাকায় দিনে-রাতে গড়ে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। এর মধ্যে চলছে এসএসসি পরীক্ষা, ফলে শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) শেরপুর সূত্রে জানা যায়, জেলায় পিডিবির মোট গ্রাহক প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার। বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪২ মেগাওয়াট, তবে গত তিন-চার দিন ধরে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মেগাওয়াট। এতে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। কিছুদিন আগে সরবরাহ আরও কম ছিল বলে জানা গেছে। পিডিবির আওতায় জেলায় প্রায় ৫ হাজার সেচ সংযোগ এবং ৯০টি শিল্প সংযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার। এ খাতে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। জেলায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে কৃষি সেচ সংযোগ রয়েছে ১০ হাজার ৮৭৯টি।
স্থানীয়রা জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রামাঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়েছেন। ইরি ধানে সঠিকভাবে সেচ দিতে না পারায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পোল্ট্রি খামারিরাও বিপাকে পড়েছেন।
এছাড়া শেরপুরের তিনটি পাহাড়ি উপজেলায় পরিস্থিতি আরও নাজুক। পাহাড়ি এলাকা ও গাছপালায় ঘেরা অঞ্চলে সামান্য ঝড়ো বাতাস হলেই ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না, যা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া গ্রামের কৃষক মিজান উদ্দিন বলেন, আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো ছিল। এখন দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রাতে ১১টার পর এক-দুই ঘণ্টা থাকে, তারপর আবার নেই। এতে ইরি ধানের সেচ দেওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এসএসসি পরীক্ষার্থী আলতাফ হোসেন বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পড়াশোনা করতে পারছি না। গরমে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়।
নালিতাবাড়ী উপজেলার ব্যবসায়ী আরমান মিয়া বলেন, লোডশেডিং এত বেশি যে আইপিএসের চার্জও শেষ হয়ে যায়। দোকান অন্ধকার হয়ে যায়, গরমে ক্রেতারা বসতে চায় না। ফলে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শেরপুর জেলা শাখার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ ওঠানামা করে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমরা চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাচ্ছি, যার কারণে দৈনিক প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে জাতীয় গ্রিডে সমস্যার কারণে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে গত তিন-চার দিন ধরে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে, ফলে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। তারপরও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষও দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।নির্বাহী প্রকৌশলী।
বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও ত্বরান্বিত করতে হিলি স্থলবন্দরে পরির্শন করেছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ শনিবার (২৫এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি হিলি স্থলবরে পৌঁছান। এ সময় কাস্টমস ও পানামা পোর্ট কর্তৃপক্ষ তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
পরে মন্ত্রী বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং বন্দরের অভ্যন্তরে ব্যবসায়ী, কাস্টমস ও পানামা পোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন এবং ব্যবসায়ীরে বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
এময় উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা,উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরৗেস রহমান, সাধারণ সম্পাক শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, যুগ্ম সম্পাক রেজা আহম্মে বিপুল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাক নাজমুল হোসেন, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান আলীসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ সময় ব্যবসায়ীরে মুখে বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনে মন্ত্রী হিলি স্থলন্দরের একটি ব্যবসা বান্ধব বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বন্দর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকার প্রয়োজনীয় পক্ষেপ গ্রহণ করবে।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১ নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পুনরায় ৪৮ ঘন্টা পর উৎপাদনে ফিরেছে।
কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট পুনরায় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১০টার থেকে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে, বিকাল ৪ টা থেকে ফায়ারিং কাজ চলছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কতৃপক্ষ।
তিনি জানান, কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার কারণে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টার বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। মেরামত কাজ শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে বয়লারে ফায়ারিং শুরু করা হয় এবং রাত ১০টার দিকে পুনরায় উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হবে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সূত্রে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে।
কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রথম ইউনিটে কয়লার সাথে পাথর আসার কারনে গত ২২ এপ্রিল রাত ১০টা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট পুনরায় উৎপাদনে আসায় পার্বতীপুর উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন কিংবা লোডশেডিংয়ের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে আসবে।
আপনার মতামত লিখুন