সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জে হিন্দু,মুসলিম,বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সামাজিক, ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী,গণমাধ্যমকর্মী, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত সকলেই শান্তির জেলা সুনামগঞ্জের সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখাতে সহনশীল আচরণ ও বিশৃংখলা রোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রেজাউল করিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, পি.পি এড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড.শেরেনুর আলী,মাওলানা আনোয়ার হোসেন,জেলা হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি দীপক চন্দ্র ঘোষ,বিজয় তালুকদার বিজু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
১০.১২.২০২৪
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে লোকমোর্চা কমিটির ষান্মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) মান্দা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বরেন্দ্রভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিও) ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
লোকমোর্চা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা কোঅর্ডিনেটর আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাদেবপুর উপজেলা কোঅর্ডিনেটর ময়না রানী এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মান্দা লোকমোর্চার সাধারণ সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহাদত হোসেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মাস্টার দেলোয়ার হোসেন, প্রধান শিক্ষক বাদেশ আলী, সিনিয়র সাংবাদিক জিল্লুর রহমান, সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম এবং প্রসাদপুর বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় লোকমোর্চার চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকায় আবাদকৃত বোরো আবাদের কষ্টের ফসল বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ভয়ে আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছে কৃষকরা। উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া, নয়াবিল ও পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকাজুড়ে কৃষক বোরোধান আবাদ করেছেন। এসব আবাদের ফসল এখন পাকতে শুরু করেছে। আবার কোন কোন এলাকায় এখনো ভালোভাবে ফসল পাকেনি। কিন্তু এসব এলাকার কোন না কোন স্থানে বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে হামলা চালিয়ে আসছে। কৃষক তাদের ফসল রক্ষা করতে প্রায় সময় বন্যহাতির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। এতে কখনো হাতির পায়ে পৃষ্ট হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। আবার ফসল রক্ষায় কৃষকের দেওয়া বৈদ্যুতিক ফাঁদে হাতিও মারা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ এমতাবস্থা চলে আসলেও এর কোন সমাধান হচ্ছে না এদিকে, বোরোধান কাটার মৌসুমকে সামনে রেখে বন্যহাতির দ্বিগুণ তান্ডব বেড়েছে। মুলত বোরোধান লাগানোর পর থেকেই বন্যহাতির পাল কয়েক দফায় তান্ডব চালিয়ে ধান খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে ফসল নষ্ট করেছে। আবার কিছু এলাকায় ফসলী জমির ক্ষতি কাটিয়ে এখন ঘরে তুলার উপযুক্ত সময় হয়েছে। তবে থেমে নেই বন্যহাতির অত্যাচার। প্রায় প্রতিদিনই বিকেল কিংবা সন্ধ্যা বেলায় খাবারের সন্ধানে গহীন অরণ্য থেকে ধান খেতে দলবেঁধে নেমে আসছে হাতিরা। কৃষক তাদের কষ্টের সোনার ফসল রক্ষা করতে ধানক্ষেতে টঙ ঘর বানিয়ে রাতদিন পাহাড়া দিচ্ছে। ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে বন্যহাতির অত্যাচার বেড়েছে দ্বিগুণ। কোনভাবেই ক্ষুধার্ত হাতিগুলোকে দমানো যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে এলাকার কৃষকরা ইতোমধ্যে আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন।
উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামের গারো আদিবাসী কৃষক মেজেস সাংমা বলেন, মাঝে মধ্যেই বন্যহাতি আমাদের বোরোধান খেতে হামলা করে। তাই ফসল বাঁচাতে আমরা খেতের পাশে টঙ ঘর বানিয়ে রাতদিন পাহাড়া দেই। হাতি তাড়ানোর জন্য আমারা ডাকচিৎকার, হৈ-হুল্লোড় করে, টিন পিটিয়ে শব্দ করে আবার কখনো মশাল জ্বালিয়ে থাকি। কিন্তু বর্তমানে কেরোসিন তেলের সরবরাহ কম থাকায় ও দাম বেশি হওয়ায় হাতি তাড়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বন বিভাগ থেকে ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও তা সবাই পায় না। বিশেষ করে জমির কাগজপত্রের কারনে বর্গাচাষীরা পায় না। তাছাড়া ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় ক্ষতিপূরণ কম পাওয়া যায়।
একই এলাকার দাওধারা গ্রামের কৃষক মো. হালিম উদ্দিন বলেন, বন্যহাতি যা ক্ষতি করে সরকার তার চারভাগের একভাগও ক্ষতিপূরণ দেয় না। যদিও মাঝে মধ্যে কিছু সংখ্যক কৃষক ক্ষতিপূরণ পায় তাও আবার দীর্ঘদিন পরে। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি আরো সহজ করা দরকার। এছাড়া হাতি আক্রান্ত এলাকায় উচ্চ শক্তি সম্পন্ন লাইটিং করার দাবিও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বনবিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, আমরা বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি। এতে কৃষকের বেশ আর্থিক সহযোগিতা হচ্ছে। একইসাথে বন্যহাতি ও মানুষের মাঝে সহাবস্থানের জন্য আমরা এলাকার মানুষদেরকে সচেতন করছি। তিনি আরো বলেন, কৃষক যাতে সহজে তাদের ক্ষতিপূরণ পায় সে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
জামালপুর জেলার মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলায় ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান উপকরণ ইট। ইটভাটার কালো ধোঁয়া:পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ‘নীরব ঘাতক’ তবে এই ইটের জোগান দিতে গিয়ে গড়ে ওঠা ইটভাটা এখন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইটভাটা গুলো আবাসিক এলাকার পাশেই ও ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে। ইটভাটায় ইট পোড়াতে বায়ু দূষণের কারণে হাঁপানি,শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়াও এর প্রভাব পড়ছে ফসলে। তবে পরিবেশ দূষণরোধে উপজেলায় গুলো নেই কোন অভিযান। প্রশাসন যেন নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে।
জানা গেছে,মারাত্মক বায়ু দূষণের বড় উৎস ইটভাটা বৈশ্বিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউ
এয়ারের তথ্যমতে,বাযু দূষনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইটভাটা। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ। কৃষিজমির মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে ইট তৈরিতে। ইট পোড়াতে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে গাছ। ভাটার কালো ধোঁয়ায় মাটির উর্বরতা,গাছ গাছালি নষ্ট হয়ে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। দূষিত পরিবেশে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আক্রান্ত হচ্ছেন হাঁপানি,শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাধিতে।
পরিবেশ অধিদফতর তালিকা অনুযায়ী মেলান্দহ ২৪টি ও ইসলামপুর ১০টি ইটভাটা রয়েছে।বর্তমানে ৩৪টি ইটভাটা মধ্যে ১১টি ইটের ভাটা বন্ধ রয়েছে। অবৈধ ৩৪টি ইটভাটার কোনটারি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নাই বলে পরিবেশ অধিদফতর জামালপুর সুত্রে জানা যায।
জেলা বিভিন্ন উপজেলার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইটভাটায় ইট তৈরি ও পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়া কয়লার কারণে চিমনি দিয়ে অনবরত কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। এ জেলার বেশীর ভাগ ইটভাটা নিয়ম না মেনেই ঘনবসতি পূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে। যেগুলোর পাশেই রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,আবাসিক স্থাপনা,জনসাধারনের চলাচলের পাকারাস্তা,দেওয়ানগঞ্জ – জামালপুর মহাসড়ক ফসলী মাঠ।
ডেফলা ব্রিজের পূর্ব পাশে আমডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযরে পাশে রয়েছে জান্নাত মেসার্স ব্রিক্সস ইটভাটা ও মেসার্স মদিনা ব্রিক্সস ইটভাটার। এছাড়াও মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকস ইট ভাটার অল্প দূর পাশেই বানিয়া বাড়ী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ও পাচঁ পয়লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাবিবুর রহমান ডিগ্রী কলেজ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। যদিও স্কুল-কলেজের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ভাটা তৈরির নিয়ম নেই। তবুও সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দেদারসে গড়ে ওঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা।
মেসার্স এম আর বি ব্রিকস ইটের ভাটা বানিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয,শিমুলতলী পলিটেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ ও ঢেংগাড়গর আলিম মাদ্রাসাস শিক্ষকরা বলেন,স্কুল সংলগ্ন ইটভাটা গড়ে উঠায় স্কুলের কমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে। মেসার্স সওদাগর ব্রিকস-২ হাড়িয়াবাড়ি আব্দুল সাত্তার দাখিল মাদ্রাসা ও হাড়িয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়,হাড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সব সময় ইট বহন কারি টলি ও ট্রাক চলাচল করায় জীবনের ঝুকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ভাটা থেকে ক্লাশ রুমে, অফিস রুমে ও সমস্ত স্কুল চত্বরে ধুলা-বালি,ইটের গুড়া ও কালো ধোয়া এসে ভর্তি হয়ে যায়। এতে করে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে কমলমতি শিক্ষার্থীরা।
ঢেংগাড়গর এলাকার আমির হোসেন বলে,ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় গাছের পাতা মরে যায়,ফসলি জমির ক্ষতি হয়। আমের মুকুলের ক্ষতি হচ্ছে। এলাকায় ইটভাটার জন্য দূষণের কারণে ফসল ভালো হয় না।
আরেক বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বাংলাদেশী বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া আর ধূলাবালিতে এলাকায় চলাফিরা চলা করা যায় না। অনেক মানুষ শ্বাসকষ্ট,হাঁপানিতে ভুগছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ এবং শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
এলাকাবসীর অভিযোগ রয়েছে ইটভাটার কলো ধোয়া আর ধূলাবালিতে পরিবেশ দুষন,রোগে আক্রান্ত ও ফসলের ক্ষতি হলেও প্রশাসন এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করে না। ম্যানেজ করে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা করছেন মালিকপক্ষ এমন তথ্য এলাকাবাসীর।
দূষণরোধে ইটভাটায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে জামালপুর জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র কেমিস্ট এ,কে,এম,ছামিউল আলম কুরসি বলেন,অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এখনো অভিযান চলমান। জেলা ও উপজেলা প্রসাশনের সাথে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করে ইট প্রস্তুুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯ এর ধারা ৫(২) ধারা ও দন্ডের ধারা ১৫(১) এর (খ) অনুয়ায়ী দুই উপজেলায় মেলান্দহ ও ইসলামপুরে ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন