খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভোগান্তিতে ঘোড়াশাল পৌরসভার নাগরিকরা

পলাশ প্রতিনিধি (নরসিংদী):
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ভোগান্তিতে ঘোড়াশাল পৌরসভার নাগরিকরা

পলাশ প্রতিনিধি (নরসিংদী): বার বার প্রশাসক পরিবর্তনে ঝিমিয়ে পড়েছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর সভার নাগরিক সেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সেবা প্রত্যাশীরা। নিয়মিত প্রশাসক ও কাউন্সিলর উপস্থিত না থাকায় জন্ম- মৃত্যু সনদ, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদপত্র পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সেবা গ্রহিতাদের। এ অবস্থায় দ্রুত স্থায়ী সমাধান চান পৌরসভার নাগরিকরা।

ঘোড়াশাল পৌরসভা কার্যালয় থেকে ১৪ ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম সেবা হচ্ছে জন্ম, নাগরিক ও মৃত্যুর নিবন্ধন।

এছাড়া চারিত্রিক, উত্তরাধিকারী, আয়, পারিবারিক সদস্য, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়িত সনদও দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রত্যয়ন, অনাপত্তিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর দিতে হয় কাউন্সিলরকে। নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে মশক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের তদারকি এবং টিসিবির পণ্য বিতরণের কাজও পরিচালিত হতো কাউন্সিলরদের মাধ্যমে। কিন্তু গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরই সারাদেশের ন্যায় পলাশের ঘোড়াশাল পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের অপসারণ করে সরকার। সমস্যা সমাধানে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তর্র্বতী সরকার। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টনের তিন মাস পার হলেও স্থবিরতা কাটেনি নরসিংদীর প্রথম শ্রেণির ঘোড়াশাল পৌরসভায়। এই পৌরসভায় গত তিন মাসে প্রশাসক পরিবর্তন হয়েছে ৪ বার। এরই মধ্যে পৌর নাগরিকরা তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে প্রশাসক না পেয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চরম ভাবে। পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত জন্ম-মৃত্যু সনদ, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদপত্র পেতেও ঘুরতে হচ্ছে দিনের পর দিন। সাড়ে ২৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ঘোড়াশাল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে আড়াই লাখ মানুষের বসবাস। এখানে নাগরিকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত পৌরসভায় সরাপর্ণ হতে হয়। জনপ্রতিনিধি অপসারণের পর পৌরসভাটিতে ৪ দফা প্রশাসক পরির্বতন করা হলেও স্থায়ী হয়নি একটিও। এতে করে কাজের ব্যাঘাত পেতে হচ্ছে কর্মকর্তা কর্মচারিদেরও।

এদিকে কাউন্সিলর না থাকায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাউন্সিলরের নাগরিক সেবা নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এদিকে কাউন্সিলররা না থাকায় টিসিবি পণ্য বিতরণেও নানা অনিয়ম হচ্ছে। আগে টিসিবি পণ্য বিতরণের জন্য কাউন্সিলররা ওয়ার্ডের সকল কার্ডধারী উপকারভোগীদের জানাতেন। বর্তমানে ওয়ার্ডের অনেক কার্ডধারী নাগরিক জানেন না কোনদিন টিসিবি পণ্য বিতরণ হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘোড়াশাল পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে পাওয়া যায় কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে। বেশির ভাগই এসেছেন জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে। অন্যদিকে আরো অনেকে নাগরিকত্ব সনদ, উত্তরাধিকার সনদ এবং বয়স্ক ও বিধবা ভাতার প্রত্যয়নপত্রের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

নাগরিক সেবা নিয়ে কথা হয় ঘোড়াশাল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আমার ছেলে বর্তমানে প্রবাসে বসবাস করছেন। তার পাসপোর্টেও মেয়াদ শেষ হওয়ার জরুরি ভিক্তিতে তার ছেলের ডিজিটাল জন্ম সনদের প্রয়োজন। গত ১মাস যাবৎ ঘুরতেছি কিন্ত ছেলের জন্ম সনদ পাই না, প্রতিদিন অফিসে গেলে বলে স্যার নেই,স্বাক্ষর হয়নি।এদিকে আমার ছেলের পাসপোর্টেও মেয়াদও শেষের পথে। কি করবো বুঝতে পারছি না।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কমল মিয়া, সোহেল মিয়া ও মজিদা বেগম বলেন, গত কয়েকদিন আগে দুপুর ১টার দিকে আমরা হঠাৎ খবর পাই আটিয়া স্কুলে টিসিবি পণ্য বিতরণ হচ্ছে। দৌঁড়ে সেখানে যাই। সেখানে গিয়ে ডিলারকে পণ্য দেওয়ার কথা বললে পণ্য শেষ হয়ে গেছে বলেন। বিগত দিনে কাউন্সিলর থাকাবস্থায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলা হতো এবং পৌরসভার ফেসবুক পেইজে টিসিবি পণ্য বিতরণের বিষয়টি জানানো হতো।

কিন্তু কাউন্সিলর থাকাবস্থায় কোনদিনই টিসিবি পণ্য না নিয়ে বাড়ি ফিরিনি। সাবেক পৌর কাউন্সিলররা বলেন, ‘আগে এক দিনে জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে দিতাম। এখন লাগে এক সপ্তাহ। নাগরিকত্বের সনদ দিতে আগে লাগত পাঁচ মিনিট, এখন লাগে পাঁচ-ছয় দিন।’ এছাড়া টিসিবি পণ্য বিতরণ হলে আমরা ওয়ার্ডের কার্ডধারী সকল নাগরিকদের জানিয়ে দিতাম।

পৌরসভায় সেবা নিতে আসা নাগরিকদের আরও অভিযোগ, জন্ম-মৃত্যু, নাগরিকত্ব সনদসহ ১৪টি সনদ সহজে পাওয়া এখন দুষ্পাপ্য হয়ে পড়েছে। আগে কাউন্সিলর থাকতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা পাওয়া যেত। বর্তমানে সেবা প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের। যারা কিনা পৌরসভার নাগরিকদের ভালো করে চিনেন না।

এজন্য বিভিন্ন সনদ নিতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে। সনদের জন্য প্রথমে যেতে হচ্ছে যাচাই বাছাইয়ের জন্য পৌর প্রশাসকের সহায়তার জন্য গঠিত পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বরত পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে,তাদের স্বাক্ষর নিয়ে যেতে হচ্ছে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের দায়িত্বরত উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে। তাদের স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হয় পৌরসভায়।

পরে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বরত উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বাক্ষর করলে পাওয়া যায় কাঙ্খিত সনদ। বর্তমানে পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার,উপজেলা চেয়ারম্যানের ও পৌরসভার প্রশাসকের পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন,ওয়ার্ডের নাগরিকদের তথ্য যাচাই বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন সময়ে নাগরিক সেবা দিতে একটু বিলম্ব হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, যাচাইকারী হিসেবে আগে কাউন্সিলররা স্বাক্ষর করতেন, এখন সেটি আমাদের করতে হচ্ছে।তাই অনেক সময় তাদের আমরা চিনি না, এলাকায় গিয়ে যাচাই বাছাই করে স্বাক্ষর দিতে হয়।

এ ব্যাপারে পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজেল হোসেন হাওলাদার বলেন,পৌর নাগরিকদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আমরা দ্রুত সেবা দিয়ে থাকি তাদের।

ঘোড়াশাল পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) পৌর প্রশাসক এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন বলেন, আগে কাউন্সিলররা যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর করতেন, এখন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তারা এ কাজটি করতে হচ্ছে।তারা সবাইকে না চেনার ফলে যাচাই-বাছাই করতে একটু বিলম্ব হয়। তবে আমার কাছে আসার পর দ্রুত আমি পৌরসভার কাজ গুলো করে দিচ্ছি।

এদিকে নাগরিক সেবা ভোগান্তি বন্ধসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌরসভাটিতে স্থায়ী প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থা নিবে সরকার এমনটাই আশা পৌর নাগরিকদের।

নন্দীগ্রামে ছাত্রদল নেতা নবীর শেখের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

আব্দুল আহাদ, নন্দীগ্রাম :
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
নন্দীগ্রামে ছাত্রদল নেতা নবীর শেখের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

 

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত নন্দীগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নবীর শেখের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বগুড়া জেলা ছাত্রদল।গত মঙ্গলবার জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সোহান ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নবীর শেখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার সাংগঠনিক পদের সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়েছে। বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান এবং সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর নবীর শেখ দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,দল যে আস্থা ও সুযোগ দিয়েছে, তা রক্ষা করতে আমি সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবো।

লালমনিরহাটে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, স্ত্রী আটক

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
লালমনিরহাটে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, স্ত্রী আটক

 

লালমনিরহাট জেলা শহরের বাবুপাড়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহত যুবক বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত যুবকের নাম হৃদয় ইসলাম (২৬)। তিনি লালমনিরহাট শহরের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং এরশাদ আলীর ছেলে।
অভিযুক্ত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (১৯) আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী এলাকার রুহুল কুদ্দুসের মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন হৃদয় ইসলাম। এসময় তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ধারালো ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। আকস্মিক হামলায় গুরুতর জখম হন হৃদয়। তার আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরে দ্রুত তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শ্বাসনালীতে গভীর ক্ষত হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থার অবনতি হয়েছে।
ঘটনার পরপরই উত্তেজিত স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

আহত হৃদয়ের বাবা এরশাদ আলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে হৃদয় ও জান্নাতুলের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম দিকে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। তবে গত ১৪ থেকে ১৫ মাস ধরে দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নানাভাবে আমার ছেলেকে মানসিকভাবে নির্যাতন করত জান্নাতুল। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন একাধিকবার বসেছিল। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। বুধবার সকালে আমরা পাশের কক্ষে ছিলাম। হঠাৎ হৃদয়ের চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি সে রক্তাক্ত গলা চেপে ধরে আছে, আর তার পাশে ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে জান্নাতুল।”

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. করিম বাদশা বলেন, “আহত যুবকের গলায় গভীর ক্ষত রয়েছে। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সাদ আহমেদ জানান, অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুরে থানায় বৈঠক করতে গিয়ে আ.লীগ নেত্রী আটক

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
সৈয়দপুরে থানায় বৈঠক করতে গিয়ে আ.লীগ নেত্রী আটক

 

নীলফামারীর সৈয়দপুর থানায় একটি সালিশি বৈঠকে গিয়ে পৌর মহিলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলার কাজী জাহানারা পারভীনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সৈয়দপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাতে একটি সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে কাজী জাহানারা বেগম থানায় আসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। পরে তিনি থানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে থানার ভেতরেই আটক করে।

আটকের পরও থানায় উপস্থিত মহিলা দলের নেত্রীদের সঙ্গে ফের তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তাকে নীলফামারী সদর থানার একটি মামলায় আটক দেখিয়ে সেখানে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে পুলিশ।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় কাজী জাহানারা বেগম ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার।’ এ ঘটনায় থানায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই সৈয়দপুর থানায় তার সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থান নেন।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা জানান, নীলফামারীর একটি মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে।

তবে কোন মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পরে তাকে নীলফামারী সদর থানায় সোপর্দের জন্য পাঠানো হয়।

নন্দীগ্রামে ছাত্রদল নেতা নবীর শেখের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার লালমনিরহাটে ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, স্ত্রী আটক সৈয়দপুরে থানায় বৈঠক করতে গিয়ে আ.লীগ নেত্রী আটক নতুনতারা আয়োজিত ১৬৫তম রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উৎসব বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে জামাতের পক্ষ থেকে গাভী উপহার