খুঁজুন
সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

ভোগান্তিতে ঘোড়াশাল পৌরসভার নাগরিকরা

পলাশ প্রতিনিধি (নরসিংদী):
প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৪, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ভোগান্তিতে ঘোড়াশাল পৌরসভার নাগরিকরা

পলাশ প্রতিনিধি (নরসিংদী): বার বার প্রশাসক পরিবর্তনে ঝিমিয়ে পড়েছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর সভার নাগরিক সেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সেবা প্রত্যাশীরা। নিয়মিত প্রশাসক ও কাউন্সিলর উপস্থিত না থাকায় জন্ম- মৃত্যু সনদ, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদপত্র পেতে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সেবা গ্রহিতাদের। এ অবস্থায় দ্রুত স্থায়ী সমাধান চান পৌরসভার নাগরিকরা।

ঘোড়াশাল পৌরসভা কার্যালয় থেকে ১৪ ধরনের নাগরিক সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে অন্যতম সেবা হচ্ছে জন্ম, নাগরিক ও মৃত্যুর নিবন্ধন।

এছাড়া চারিত্রিক, উত্তরাধিকারী, আয়, পারিবারিক সদস্য, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার সত্যায়িত সনদও দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রত্যয়ন, অনাপত্তিপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর দিতে হয় কাউন্সিলরকে। নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে মশক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের তদারকি এবং টিসিবির পণ্য বিতরণের কাজও পরিচালিত হতো কাউন্সিলরদের মাধ্যমে। কিন্তু গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরই সারাদেশের ন্যায় পলাশের ঘোড়াশাল পৌরসভার মেয়র-কাউন্সিলরদের অপসারণ করে সরকার। সমস্যা সমাধানে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তর্র্বতী সরকার। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টনের তিন মাস পার হলেও স্থবিরতা কাটেনি নরসিংদীর প্রথম শ্রেণির ঘোড়াশাল পৌরসভায়। এই পৌরসভায় গত তিন মাসে প্রশাসক পরিবর্তন হয়েছে ৪ বার। এরই মধ্যে পৌর নাগরিকরা তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে প্রশাসক না পেয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে চরম ভাবে। পৌরসভা থেকে প্রাপ্ত জন্ম-মৃত্যু সনদ, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদপত্র পেতেও ঘুরতে হচ্ছে দিনের পর দিন। সাড়ে ২৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ঘোড়াশাল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে আড়াই লাখ মানুষের বসবাস। এখানে নাগরিকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিনিয়ত পৌরসভায় সরাপর্ণ হতে হয়। জনপ্রতিনিধি অপসারণের পর পৌরসভাটিতে ৪ দফা প্রশাসক পরির্বতন করা হলেও স্থায়ী হয়নি একটিও। এতে করে কাজের ব্যাঘাত পেতে হচ্ছে কর্মকর্তা কর্মচারিদেরও।

এদিকে কাউন্সিলর না থাকায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাউন্সিলরের নাগরিক সেবা নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এদিকে কাউন্সিলররা না থাকায় টিসিবি পণ্য বিতরণেও নানা অনিয়ম হচ্ছে। আগে টিসিবি পণ্য বিতরণের জন্য কাউন্সিলররা ওয়ার্ডের সকল কার্ডধারী উপকারভোগীদের জানাতেন। বর্তমানে ওয়ার্ডের অনেক কার্ডধারী নাগরিক জানেন না কোনদিন টিসিবি পণ্য বিতরণ হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘোড়াশাল পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে পাওয়া যায় কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে। বেশির ভাগই এসেছেন জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে। অন্যদিকে আরো অনেকে নাগরিকত্ব সনদ, উত্তরাধিকার সনদ এবং বয়স্ক ও বিধবা ভাতার প্রত্যয়নপত্রের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

নাগরিক সেবা নিয়ে কথা হয় ঘোড়াশাল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আমার ছেলে বর্তমানে প্রবাসে বসবাস করছেন। তার পাসপোর্টেও মেয়াদ শেষ হওয়ার জরুরি ভিক্তিতে তার ছেলের ডিজিটাল জন্ম সনদের প্রয়োজন। গত ১মাস যাবৎ ঘুরতেছি কিন্ত ছেলের জন্ম সনদ পাই না, প্রতিদিন অফিসে গেলে বলে স্যার নেই,স্বাক্ষর হয়নি।এদিকে আমার ছেলের পাসপোর্টেও মেয়াদও শেষের পথে। কি করবো বুঝতে পারছি না।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কমল মিয়া, সোহেল মিয়া ও মজিদা বেগম বলেন, গত কয়েকদিন আগে দুপুর ১টার দিকে আমরা হঠাৎ খবর পাই আটিয়া স্কুলে টিসিবি পণ্য বিতরণ হচ্ছে। দৌঁড়ে সেখানে যাই। সেখানে গিয়ে ডিলারকে পণ্য দেওয়ার কথা বললে পণ্য শেষ হয়ে গেছে বলেন। বিগত দিনে কাউন্সিলর থাকাবস্থায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলা হতো এবং পৌরসভার ফেসবুক পেইজে টিসিবি পণ্য বিতরণের বিষয়টি জানানো হতো।

কিন্তু কাউন্সিলর থাকাবস্থায় কোনদিনই টিসিবি পণ্য না নিয়ে বাড়ি ফিরিনি। সাবেক পৌর কাউন্সিলররা বলেন, ‘আগে এক দিনে জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে দিতাম। এখন লাগে এক সপ্তাহ। নাগরিকত্বের সনদ দিতে আগে লাগত পাঁচ মিনিট, এখন লাগে পাঁচ-ছয় দিন।’ এছাড়া টিসিবি পণ্য বিতরণ হলে আমরা ওয়ার্ডের কার্ডধারী সকল নাগরিকদের জানিয়ে দিতাম।

পৌরসভায় সেবা নিতে আসা নাগরিকদের আরও অভিযোগ, জন্ম-মৃত্যু, নাগরিকত্ব সনদসহ ১৪টি সনদ সহজে পাওয়া এখন দুষ্পাপ্য হয়ে পড়েছে। আগে কাউন্সিলর থাকতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সেবা পাওয়া যেত। বর্তমানে সেবা প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের। যারা কিনা পৌরসভার নাগরিকদের ভালো করে চিনেন না।

এজন্য বিভিন্ন সনদ নিতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে। সনদের জন্য প্রথমে যেতে হচ্ছে যাচাই বাছাইয়ের জন্য পৌর প্রশাসকের সহায়তার জন্য গঠিত পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বরত পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে,তাদের স্বাক্ষর নিয়ে যেতে হচ্ছে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের দায়িত্বরত উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে। তাদের স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হয় পৌরসভায়।

পরে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বরত উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বাক্ষর করলে পাওয়া যায় কাঙ্খিত সনদ। বর্তমানে পলাশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার,উপজেলা চেয়ারম্যানের ও পৌরসভার প্রশাসকের পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন,ওয়ার্ডের নাগরিকদের তথ্য যাচাই বাছাইয়ের জন্য বিভিন্ন সময়ে নাগরিক সেবা দিতে একটু বিলম্ব হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, যাচাইকারী হিসেবে আগে কাউন্সিলররা স্বাক্ষর করতেন, এখন সেটি আমাদের করতে হচ্ছে।তাই অনেক সময় তাদের আমরা চিনি না, এলাকায় গিয়ে যাচাই বাছাই করে স্বাক্ষর দিতে হয়।

এ ব্যাপারে পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজেল হোসেন হাওলাদার বলেন,পৌর নাগরিকদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আমরা দ্রুত সেবা দিয়ে থাকি তাদের।

ঘোড়াশাল পৌরসভার (ভারপ্রাপ্ত) পৌর প্রশাসক এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন বলেন, আগে কাউন্সিলররা যাচাইকারী হিসেবে স্বাক্ষর করতেন, এখন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তারা এ কাজটি করতে হচ্ছে।তারা সবাইকে না চেনার ফলে যাচাই-বাছাই করতে একটু বিলম্ব হয়। তবে আমার কাছে আসার পর দ্রুত আমি পৌরসভার কাজ গুলো করে দিচ্ছি।

এদিকে নাগরিক সেবা ভোগান্তি বন্ধসহ দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌরসভাটিতে স্থায়ী প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থা নিবে সরকার এমনটাই আশা পৌর নাগরিকদের।

নওগাঁর মান্দায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ওয়াশ প্লান্ট উদ্বোধন

মান্দা উপজেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
নওগাঁর মান্দায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ওয়াশ প্লান্ট উদ্বোধন

নওগাঁর মান্দায় ব্রাকের ওয়াশ কর্মসূচি আওতায় ওয়াশ প্লান্ট শুভ উদ্বোধন করেন ডাঃ ইকরামুল বারি টিপু এমপি।

রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১২ টা উপজেলার গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ওয়াশ প্লান্ট এর হ্যান্ড ওয়াশিং স্টেশন, ড্রিংকিং স্টেশন, হাইজিন কর্নার এর উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মান্দা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ মোখলেসুর রহমান মকে,৭ নং প্রসাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, মান্দা উপজেলা যুবদলের সভাপতি আব্দুল জলিল, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এমদাদুল হক, মান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, রাজশাহী কলেজ মুসলিম ছাত্রাবাসের সাবেক সহ-সভাপতি জামির হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা নুর এনায়েত নুরুজ্জামান হারুন, মান্দা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক সালেকুজ্জামান সালেক, প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব শামসুর রহমান, সাবেক প্রসাদপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি লুৎফর রহমান,গোটগাড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক শাহজামান, ব্রাক ওয়াশ কর্মসূচির ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলমগীর হোসেন, ব্রাক প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মোহাম্মদ আজিম হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।

এছাড়াও ব্রাক কর্তৃক উপজেলায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দশটি স্কুলের নিরাপদ পানি,স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাটিন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে কার্যক্রম চলমান।

ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা আটক ২

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা আটক ২

 

বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা করে একই এলাকার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে
দুই যুবক। হত্যার পর খুনিরা গোসল করে এবং শরীরের উত্তেজনা কমাতে শষা ও খেজুর খায়। এরপর তাদের কাছে থাকা একটি ইয়াবা তারা সেখানেই সেবন করে।
গতকাল রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। এর আগে রোববার ভোরের দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায়। তারা দুজনে সম্পর্কে মামাতো ও খালাতো ভাই। সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানে কাজ করতেন এবং মুগ্ধ মাছের দোকানে কাজ করতেন তারা।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধার্ত ও মুগ্ধ রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তির বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলো। ইয়াবা সেবন দেখে ফেলেন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তি। সমাজে ইয়াবা সেবনের কথা প্রকাশের ভয়ে তারা গণপতি চক্রবর্তিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গামছা পেছিয়ে তাকে হত্যা করা হয। হত্যার সময় গোঙানির শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদের উপর উঠার চেষ্টা করে। এমন সময় তারা সিড়িতেই প্রীতিলতা চক্রবর্তীকেও গলায় রশি পেচিয়ে হত্যা করে। মা কে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী। তারা তাকেও রশি পেছিয়ে হত্যা করেন। খুনি দুজনেই একই এলাকার হওয়ায় ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদেরকে আগে থেকেই চেনেন এবং জানেন। খুনের বিষয় যাতে কেউ টের না পান এজন্য ১২ বছরের আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মকে প্রথমে রশি পেচিয়ে এবং পরে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন। একে একে চারজনকে হত্যার পর তারা দুইজনেই শরীরের উত্তেজনা কমাতে গোসল করেন। পরে তারা দুজনে ডাইনিং টেবিলে বসে শশা, খেজুর ও ইয়াবা সেবন করেন। হত্যার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষে তারা বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেন এবং স্বর্ণের চুরি আগুন দিয়ে পরিক্ষা করেন, সেটি আসল না নকল। পরে বাকী রাতটুকু চেয়ারে বসে বিশ্রাম নেন তারা। বাড়িতে থেকে বের হওয়ার সময় যাতে কেউ দেখে না ফেলে এজন্য তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। এরই মধ্যে ওই বাড়িতে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট পাউডারের পানিতে ভিজিয়ে রাখেন, যাতে মোবাইলে কোন আঙুৃলের ছাপ না থাকে। শুক্রবার জুমার নামাজ শুরু হওয়ায় রাস্তা ফাঁকা দেখে তারা ওই বাড়ি থেকে সটকে পরে।

এ ঘটনার পরপর পুলিশ তালাবদ্ধ ওই বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের লাশ উদ্ধার করে। পরে রাতেই ইয়াবা সেবনের আলামত ও পারিপাশ্বিক বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দ্জুনেই একই এলাকার বাসিন্দা।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হযেছে। গ্রেফতারকৃতরা হত্যার কথা শিকার করেছেন।

উল্লেখ্য,শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গত তিনদিন ধরে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখতে পান এলাকাবাসী। এদিকে কয়েকদিন ধরে কোন রকম যোগাযোগ করতে না পেরে ওই শিক্ষকের আত্মীয় স্বজন এলাকায় এসে বাড়িতে তালাবদ্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তী, সিঁড়ির কাছে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তি ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ পাওয়া যায় এবং একটি কক্ষের ভেতরে খাটের নিচ থেকে তাদের ছোট ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন এবং বাড়ির জিনিস পত্র তছনছ ও ছড়ানো ছিটানো ছিলো।

জানা যায়, রংপুর জিলা স্কুল থেকে শিক্ষকতা পেশা থেকে চলতি বছরের ২ জানুয়ারী অবসরে যান গণপতি চক্রবর্তী। তিনি নগরীর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন। হত্যার শিকার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জামালপুরে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে গৃহবধূর মরদেহ,দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
জামালপুরে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে গৃহবধূর মরদেহ,দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার

জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে ইসরাত জাহান (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে আটকে থাকা তাঁর দুই শিশু সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাউসার আহাম্মেদ শাওন (৩৫) পলাতক রয়েছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শেখের ভিটা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দুই শিশু বারবার পানি চাইতে থাকে। তাদের কান্নাকাটি শুনে আশপাশের মানুষের সন্দেহ হলে বিষয়টি ভবনের মালিককে জানানো হয়। পরে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া রয়েছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শিশু দুটিকে উদ্ধার করেন। পরে ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে ইসরাত জাহানের নিথর দেহ দেখতে পান তারা। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত ইসরাত জাহান ও কাউসার আহাম্মেদ শাওন দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাদের মেয়ে স্নেহার বয়স ১০ বছর এবং ছেলে মমিন শাহরিয়ারের বয়স ৫ বছর।

স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার বলেন, জানালা দিয়ে বাচ্চা দুটি পানি চাইলে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। পরে ভেতরে ওই নারীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার পেছনের রহস্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত চলছে।

নওগাঁর মান্দায় ব্র্যাকের উদ্যোগে ওয়াশ প্লান্ট উদ্বোধন ইয়াবা সেবনে বাঁধা দেওয়ায় রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ জনকে হত্যা আটক ২ জামালপুরে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে গৃহবধূর মরদেহ,দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার নানা সমস্যায় কালীগঞ্জের তাঁতশিল্পের উদ্যোক্ততা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। কুয়াকাটায় দুই দোকান উচ্ছেদ, বেড়িবাঁধের সরকারি জমি দখল নিয়ে প্রশ্ন?