ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ রিপন, নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সেনবাগে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে উপজেলার ২নং কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট গ্রাম থেকে গাজা, ইয়াবা,নগদ টাকা ও ৯ টি মোবাইল সেট সহ স্বামী স্ত্রী কে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন – বীরকোট গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে বেলাল হোসেন (৪৫) ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার বকুল(৩৩)।
পুলিশ জানায়- বেলাল একজন পেশাদার মাদক কারবারি। বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১২ টি মামলা রয়েছে।
শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১০ কেজি গাজা,৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ৬৩ হাজার টাকা ও মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের নয়টি মোবাইল সেট সহ স্বামী- স্ত্রী দু’জনকে আটক করা হয়।
গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের একটি দল বাসন থানার ভোগড়া এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ কামরুল হাসান ও এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আলামিন হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা জনৈক কামাল হোসেনের গাড়ির ওয়ার্কশপের সামনে অবস্থানরত কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখেন।
একপর্যায়ে মাদক বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থানকালে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালিয়ে সর্বমোট ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ড-১৪-০৩৬১) জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার দাসকান্দি এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে মোঃ ইমন শাহরিয়ার (২৮) এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মোঃ শরিফ (২৮)।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইমন শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা এবং শরিফের বিরুদ্ধে একটি দস্যুতা মামলা রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) অশোক কুমার পাল, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মহানগর এলাকায় মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পূর্ব সারডুবী এলাকার বাসিন্দা মোরশেদ আলম একজন ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক। দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত আয়েই চলছিল তার ছয় সদস্যের পরিবারের জীবিকা। কিন্তু একটি ভ্যান চুরির ঘটনায় আজ তিনি ও তার পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা যায়, গত ২০ জুন রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার মিলন বাজার এলাকায় নিজের ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি রেখে দিনের ভাড়ার টাকা তুলতে যান মোরশেদ আলম। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ভ্যানগাড়িটি চুরি করে নিয়ে গেছে। ভ্যানটি খুঁজে পেতে তিনি বাজারের বিভিন্ন স্থান ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।
সরেজমিনে মোরশেদ আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ একটি ঘরে মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। ঘরের পাশাপাশি রান্নাঘরের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ভাঙা টিনের বেড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।
উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে বর্তমানে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে মোরশেদ আলমকে। পরিবার-পরিজনের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তার।
মোরশেদ আলমের প্রত্যাশা, এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা তার দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান পেলে তিনি পুনরায় কর্মে ফিরতে পারবেন এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, “মোরশেদ আলম অত্যন্ত দরিদ্র একজন মানুষ। ভ্যান চালিয়েই তার সংসার চলতো। ভ্যানটি চুরি হওয়ার পর তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রশাসনের কাছে তার জন্য একটি ভ্যানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের দাবি, অসহায় এই পরিবারের পাশে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে মোরশেদ আলম আবারও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।
দাতা সংস্থা নেটস্ বাংলাদেশ ও বিএমজেড সহায়তায় ডাসকো ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তায়িত অগ্রযাত্রা প্রকল্পের উদ্যোগে (২৪ জুন) বুধবার নাচোল উপজেলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস -২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপজেলার ৪ নং নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজন করা হয়েছে।
দিবস পালন অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন অত্র পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল হক, ইউপি সদস্য মোঃ আঃ জব্বার, মোঃ বাবুল হক, মোঃ এমদাদুল হক ও নারী সদস্য মোসাঃ গুলনাহার বেগম।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসের শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কর্মী মোঃ শহিদুল ইসলাম ও ইউনিয়ন সমাজকর্মী মোঃ জহির উদ্দিন। প্রকল্পের এ্যাডভোকেসী ফ্যাসিলিটেটর মোসাঃ নিলুফার ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় শুরু হয় এবং লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম বাস্তাবায়ন ও দিবস পালন প্রত্যাশা উপস্থাপন করেন নাচোল ইউনিটের ইউনিট ম্যানেজার আবু হেনা মোহাম্মদ ফিরোজ ইউএম মোঃ রায়হান মন্ডল, এফ এফ মোঃ রেজাউল করিম ও মোঃ নাসির ।
দিবস পালনের কর্মসূচীর মধ্যে র্যালী, আলোচনা সভা ও সদস্যদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচীতে প্রকল্পের সুফলভোগী ও জনপ্রতিনিধি সহ প্রায় ১০০ এর অধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল।
আপনার মতামত লিখুন