খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তাশহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাতবার্ষিকী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তাশহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাতবার্ষিকী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মুঃ সোহরাব আলী সরকার কালীগঞ্জ উপজেলা (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ বাংলার রাখাল রাজা খ্যাত, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনায় সামান্য সময় পেয়েছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম বিদেশে শ্রমিক পাঠান। বিভিন্ন সামগ্রী রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন। আজকে বাংলাদেশের কৃষি, গার্মেন্টস এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে এর অবদান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। এই সামান্য সময়ের মধ্যে তিনি দেশে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। ১৯৮১ সালের আজকের এই দিনে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে একদল পথভ্রষ্ট সেনা তাকে রাতের আঁধারে নির্মম ভাবে হত্যা করে। জিয়াউর রহমানের হত্যার মধ্য দিয়ে দেশ এক ধাপ পিছিয়ে যায়। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সগযোগী সংগঠনের যৌথ আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন এসব বলেন।
রবিবার বিকেলে উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাষ্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টার।
পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান সহ জেলা, উপজেলা, পৌরসভার বি এন পি , যুবদল , ছাত্র দলের ও অংশ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পরিশেষে উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা মো. আলী হোসেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক মিলন এর সুস্বাস্থ্য ও কর্মবহুল দীর্ঘায়ু কামনাসহ দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য পবিত্র মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন।

আলোকিত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই: প্রাথমিক শিক্ষাস্তরেই প্রয়োজন বই পড়ার অভ্যাস

মান্দা উপজেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
আলোকিত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই: প্রাথমিক শিক্ষাস্তরেই প্রয়োজন বই পড়ার অভ্যাস

আখতার জাহান সাথী
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মান্দা, নওগাঁ

“আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা, তোমরা এ যুগে সেই বয়সে লেখাপড়া করো মেলা।
আমরা যখন আকাশের তলে উড়িয়েছি শুধু ঘুড়ি, তোমরা এখন কলের জাহাজ চালাও গগন জুড়ি।
উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরু সব তোমাদের জানা, আমরা শুনেছি সেখানে রয়েছে জ্বিন, পরী, দেও, দানা।
পাতালপুরীর অজানা কাহিনী তোমরা শোনাও সবে, মেরুতে মেরুতে জানা পরিচয় কেমন করিয়া হবে।”
কবি সুফিয়া কামালের লেখা “আজকের শিশু” কবিতাটিতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার কথা যেমন বলা হয়েছে, তেমনি আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। আমরা সবাই জেনে এসেছি আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রাথমিক পর্যায় হতেই আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। আলোকিত মানুষ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এবার আলোচনা করা যাক, আমাদের দেশে বই পড়ার হার কেমন। ২০২৪ সালের International reading habits survey এর তথ্য অনুসারে বিশ্বের ১০২টি দেশের মধ্যে বই পড়ার হারে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭ তম। পরিসংখ্যানটি যদি সত্য হয়ে তবে বিষয়টি মোটেই আশা জাগানিয়া কোন ঘটনা নয়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তুলনামূলক আলোচনা করলে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের শিশুদের বই পড়ার হার ৪৭%, বছরে গড়ে বই পড়ার সংখ্যা ২-৫ টি। ভারতে বই পড়ার হার ৯২%, বছরে গড়ে শিশুরা ৮-১২ টি বই পড়ে। চীনে বই পড়ার হার ৮০%, বছরে গড়ে শিশুরা ১০-১২ টি বই পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে বই পড়ার হার ৭৮%, শিশুরা সেখানে বছরে গড়ে ৮-১০ টি বই পড়ে। আমাদের শিশুরা বই পড়ার দিক হতে অনেক পিছিয়ে আছে। যেসকল দেশের পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে তাঁরা সকলে পৃথিবী রাজত্ব করে চলছে। একটি দেশের অতীত ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতার ক্রমবিকাশ, সমৃদ্ধির ধাপ জানতে হলে যেমন বই পড়া জরুরী ঠিক তেমনি যুগের সাথে তাল মেলাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশ সম্পর্কে ধারণা পেতে, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে এগিয়ে থাকতেও বই পড়ার বিকল্প নাই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে পরিসংখ্যানের দিকে নজর দেয়া যাক। International reading habits survey এর তথ্য অনুসারে প্রতি বছর বাংলাদেশে ৬২ ঘণ্টা বই পড়ায় ব্যয় করা হয়। সপ্তাহ প্রতি এই সময় দাঁড়ায় ১.২ ঘণ্টা। গড়ে একজন ব্যক্তি বছরে ২.৭৫টি বই পড়লে প্রতি ১০০ জনে বই পড়ে ২৭৫টি এবং প্রতি ১০০০ জনে পড়ে ২৭৫০টি বই। শুধুমাত্র পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, মাথাপিছু বই পড়ার পরিমাণ বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের প্রায় ০৬ গুণ বেশি। স্পষ্টত যে বই পড়ার পরিমাণ বাড়াতে সবার আগে প্রয়োজন পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা। এই অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য অভিভাবক এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পরিবারে বাবা-মা বা বড়রা নিয়মিত বই পড়েন সেখানে ৪৭.১% শিশু কিশোর নিয়মিত বই পড়ে। যেসব পরিবারে বড়রা বই পড়েন না সেখানে এই হার নেমে আসে ৩১.৮% এ। বর্তমান সময়ে অভিভাবকেরা অনেক ব্যস্ত সময় পার করেন। দাপ্তরিক কাজের বাইরে যতটুকু সময় পান সে সময়টুকু দেন মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর বাইরে টিভিতে সিরিয়াল কিংবা বিভিন্ন চ্যানেলে ব্রাউজিং তো আছেই। শিশুরা স্বভাবতই বাবা মায়ের কাছে তাঁর নিজের জন্য কিছু সময় এবং প্রশংসা বা অনুপ্রেরণা প্রত্যাশা করে। এমনকি তাঁরা চায় অভিভাবকেরা স্কুলের হোম ওয়ার্কে তাঁদের সাহায্য করুক এবং তাঁরা বিভিন্ন শিল্পকর্ম যেমন তাঁদের আঁকা ছবি, তাঁদের লেখা কোন গল্প কিংবা সৃজনশীল অন্য কিছু বাবা মাকে দেখাতে চায়। কিন্তু অভিভাবকেরা যখন এই সময়টুকু দেন না তখন সন্তানদের মধ্যে আত্মপ্রত্যয় কমে যায়। শিশুদের খাওয়ানোর জন্য বাবা মায়েরা মোবাইল ফোনটিকে গেমসের খেলার জন্য সন্তানের হাতে তুলে দেয় অথবা টিভিতে কার্টুনের চ্যানেল দিয়ে দেন। এসব স্ক্রিনে চলমান বিষয়গুলোর ভাষা অনেক সময় সন্তানের মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং তাঁদের আচার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। বাবা মায়েরা সন্তানের হাতে উপহার হিসেবে বই না দিয়ে রঙিন খেলনা, ভিডিও গেমসের তুলে দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।অথচ এই শিশুদের ঘুমানোর সময় কিংবা খাওয়ানোর সময় অভিভাবকেরা গল্প শুনাতে পারতেন, সারাদিন স্কুলে সন্তানদের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারতেন, বাসার বৈঠক ঘরের এক কোণায় সন্তানকে বই রাখার তাক তৈরি করে দিতে পারতেন। পৃথিবীতে বই পড়ার মত নির্মল আনন্দ আর কিছুতেই নেই—এই বিষয়টি যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ বুঝতে না পারে ততক্ষণ পর্যন্ত বই পড়ার প্রতি আগ্রহ আসে না। একটা সময় ছিল যখন সকল বনেদী পরিবারে পারিবারিক লাইব্রেরি ছিল। জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর বাড়িতেও ছিলো পাঠাগার। এটা মোটামুটি পরিষ্কার যে পরিবারে বই পড়ার অভ্যাস থাকলে শিশুদের মধ্যেও সেই অভ্যাস গড়ে ওঠে। বিদ্যালয় অধ্যায় শুরু করার পর শিশুরা দিনের বেশি ভাগ সময় কাটায় বন্ধু এবং শিক্ষকদের সাথে। প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর জীবন গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিশুর মানসিক বিকাশ সাধনে, প্রগতিশীল ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সকল শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা খুবই জরুরী। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর রয়েছে এক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা। জাপানের দিকে নজর দেয়া যাক। জাপানের স্কুলগুলোতে ছোটবেলা হতে শিশুদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে “আসা-দোকু” বা “Morning Reading” এবং “কামিশিবাই” বা “সচিত্র বই” নামক চমৎকার নিয়ম অনুসরণ করা হয়। “আসা-দোকু” বা “Morning Reading” এর মাধ্যমে ক্লাস শুরুর আগে ১০-১৫ মিনিট স্কুলের সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিজেদের পছন্দের বই নীরবতা ও মনোযোগের সাথে পড়েন। “কামিশিবাই” বা “সচিত্র বই” এর দ্বারা কিন্ডারগার্টেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বড় ছবির কার্ড দেখিয়ে গল্প বলা বা গল্পকে উপস্থাপন করা হয়, যা তাঁদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ করে তোলে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সমৃদ্ধ লাইব্রেরি থাকা প্রয়োজন। এই লাইব্রেরিগুলোতে বয়স ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলাদা তাকে বই সংগ্রহ করতে হবে। যাতে শিশুরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী বই নির্বাচন করতে পারে। পঠন বিষয়ক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি ধারণা উল্লেখ করছি। বুক রিভিউ এর মাধ্যমে নিজের পছন্দের বইয়ের বিষয়বস্তু অন্য বন্ধুদের মধ্যে উপস্থাপন করা যেতে পারে, বুক ফেস্ট এর মাধ্যমে বইয়ের প্রদর্শনী করা যেতে পারে, নির্দিষ্ট একটি বই নিয়ে আলোচনার জন্য বুক গ্রুপ স্টাডির ব্যবস্থা করা যেতে পারে, পঠিত বইয়ের উপর কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। সপ্তাহে অন্তত একদিন পাঠাগারে গিয়ে শিশুদের বই পড়ার সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে। বই শেয়ারিং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি বই হাত বদল হতে থাকবে এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরা একত্রে বসে পঠিত সেই বইগুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারবে। এর মাধ্যমে শুধু মেধা ও প্রজ্ঞাই বৃদ্ধি পায় না, বরং বই পাঠে শিশু হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল, সহনশীল ও সহমর্মী। বই পাঠে শিশুদের মধ্যে কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তাঁদের মধ্যে সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটে। যার সুফল শুধু শিশুটির পরিবার নয় বরং সমগ্র দেশ উপভোগ করে।
আজকের শিশুর হাতে যত বেশি বই তুলে দেওয়া যাবে, তত বেশি নিজ দেশের শিল্পসাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং বিজ্ঞান চর্চা ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে তাঁরা সম্যক ধারণা পাবে এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য দেশের সাথে নিজেদের তুলনা করার সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয় রাখতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা। আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তৈরি হোক বই পড়ার পরিবেশ। বাংলাদেশের প্রতিটি পরিবারে ছোট আকারে পারিবারিক পাঠাগারের সংস্কৃতি গড়ে উঠুক। পবিত্র কোরআনের প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে “ইকরা বিসমি রাব্বিকাল্লাজি খালাক” অর্থাৎ “পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন”। সুতরাং একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই। আমাদের সকলকে আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর হতেই সন্তানদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে।

শরীয়তপুর থেকে কুয়াকাটা ঘুরতে এসে বাইক দুর্ঘটনায় কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু।।

বিশেষ প্রতিনিধি।।
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
শরীয়তপুর থেকে কুয়াকাটা ঘুরতে এসে বাইক দুর্ঘটনায় কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু।।

কুয়াকাটা, পটুয়াখালী: শরীয়তপুর থেকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ভ্রমণে এসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জিসান (১৭) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত জিসান শরীয়তপুর জেলার পালং থানার কাশাপুর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার কুয়াকাটার মেইন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে লেম্বুরবন পর্যটন স্পটের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ এক নারী রাস্তা পারাপার করছিলেন। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মোটরসাইকেলের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। পরে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে থাকা একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা তিন আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে তুলাতলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিসানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুইজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঈদের ছুটিতে আনন্দ ভ্রমণে এসে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাজুড়েও এ ঘটনায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে মহিপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত জিসানের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
মোহাম্মদ রুমী শরীফ
বিশেষ প্রতিনিধি।
০১৯১১১৪৫০৯১
১/৬/২০২৬

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলো মা

জুবায়ের আহমেদ রাসেল (শেরপুর)
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ণ
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলো মা

 

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় মাঠে ঘাস খাওয়ার সময় বোরো আবাদের ছিঁড়া সেচলাইন থেকে বিদ্যুতায়িত হওয়া একটি গরু বাঁচাতে গিয়ে মো. হাছান আলী (৫০) নামে এক কৃষক আহত হন। আহত ছেলে হাছান আলীকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা গেছেন বৃদ্ধা মা হাওয়া বেগম (৭০)। একইসাথে ওই গরুটিও মারা যায়।

সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের দুধকুড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত হাওয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের দুধকুড়া গ্রামের মো. আলী হোসেনের বোরো আবাদের সেচলাইন ঝড়ের তান্ডবে ছিঁড়ে মাটিতে পড়েছিল। সোমবার সকাল আনুমানিক সাতটার দিকে মাঠে চড়াতে দেওয়া হাছান আলীর একটি গরু ঘাস খাওয়ার সময় ওই তারে জড়িয়ে যায়। পরে তা দেখে হাছান আলী তার গরু বাঁচাতে গেলে তিনি নিজেও বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়েন। একই সময়ে তাকে বাঁচাতে গিয়ে বিধবা মা হাওয়া বেগম এগিয়ে এলে বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. ওমর আলী ও নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বিদ্যুতায়িত হয়ে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে

আলোকিত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে বই পড়ার বিকল্প নেই: প্রাথমিক শিক্ষাস্তরেই প্রয়োজন বই পড়ার অভ্যাস বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তাশহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাতবার্ষিকী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত শরীয়তপুর থেকে কুয়াকাটা ঘুরতে এসে বাইক দুর্ঘটনায় কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু।। শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলো মা হিলিতে পুলিশি অভিযানে তিনটি মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার