খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

নালিতাবাড়ীতে বন্যহাতির ভয়ে আধাপাকা ধান কাটছে কৃষক

জুবায়ের আহমেদ রাসেল
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
নালিতাবাড়ীতে বন্যহাতির ভয়ে আধাপাকা ধান কাটছে কৃষক

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকায় আবাদকৃত বোরো আবাদের কষ্টের ফসল বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ভয়ে আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছে কৃষকরা। উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া, নয়াবিল ও পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকাজুড়ে কৃষক বোরোধান আবাদ করেছেন। এসব আবাদের ফসল এখন পাকতে শুরু করেছে। আবার কোন কোন এলাকায় এখনো ভালোভাবে ফসল পাকেনি। কিন্তু এসব এলাকার কোন না কোন স্থানে বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে হামলা চালিয়ে আসছে। কৃষক তাদের ফসল রক্ষা করতে প্রায় সময় বন্যহাতির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। এতে কখনো হাতির পায়ে পৃষ্ট হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। আবার ফসল রক্ষায় কৃষকের দেওয়া বৈদ্যুতিক ফাঁদে হাতিও মারা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ এমতাবস্থা চলে আসলেও এর কোন সমাধান হচ্ছে না এদিকে, বোরোধান কাটার মৌসুমকে সামনে রেখে বন্যহাতির দ্বিগুণ তান্ডব বেড়েছে। মুলত বোরোধান লাগানোর পর থেকেই বন্যহাতির পাল কয়েক দফায় তান্ডব চালিয়ে ধান খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে ফসল নষ্ট করেছে। আবার কিছু এলাকায় ফসলী জমির ক্ষতি কাটিয়ে এখন ঘরে তুলার উপযুক্ত সময় হয়েছে। তবে থেমে নেই বন্যহাতির অত্যাচার। প্রায় প্রতিদিনই বিকেল কিংবা সন্ধ্যা বেলায় খাবারের সন্ধানে গহীন অরণ্য থেকে ধান খেতে দলবেঁধে নেমে আসছে হাতিরা। কৃষক তাদের কষ্টের সোনার ফসল রক্ষা করতে ধানক্ষেতে টঙ ঘর বানিয়ে রাতদিন পাহাড়া দিচ্ছে। ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে বন্যহাতির অত্যাচার বেড়েছে দ্বিগুণ। কোনভাবেই ক্ষুধার্ত হাতিগুলোকে দমানো যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে এলাকার কৃষকরা ইতোমধ্যে আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন।

উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামের গারো আদিবাসী কৃষক মেজেস সাংমা বলেন, মাঝে মধ্যেই বন্যহাতি আমাদের বোরোধান খেতে হামলা করে। তাই ফসল বাঁচাতে আমরা খেতের পাশে টঙ ঘর বানিয়ে রাতদিন পাহাড়া দেই। হাতি তাড়ানোর জন্য আমারা ডাকচিৎকার, হৈ-হুল্লোড় করে, টিন পিটিয়ে শব্দ করে আবার কখনো মশাল জ্বালিয়ে থাকি। কিন্তু বর্তমানে কেরোসিন তেলের সরবরাহ কম থাকায় ও দাম বেশি হওয়ায় হাতি তাড়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বন বিভাগ থেকে ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও তা সবাই পায় না। বিশেষ করে জমির কাগজপত্রের কারনে বর্গাচাষীরা পায় না। তাছাড়া ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় ক্ষতিপূরণ কম পাওয়া যায়।

একই এলাকার দাওধারা গ্রামের কৃষক মো. হালিম উদ্দিন বলেন, বন্যহাতি যা ক্ষতি করে সরকার তার চারভাগের একভাগও ক্ষতিপূরণ দেয় না। যদিও মাঝে মধ্যে কিছু সংখ্যক কৃষক ক্ষতিপূরণ পায় তাও আবার দীর্ঘদিন পরে। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি আরো সহজ করা দরকার। এছাড়া হাতি আক্রান্ত এলাকায় উচ্চ শক্তি সম্পন্ন লাইটিং করার দাবিও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বনবিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, আমরা বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি। এতে কৃষকের বেশ আর্থিক সহযোগিতা হচ্ছে। একইসাথে বন্যহাতি ও মানুষের মাঝে সহাবস্থানের জন্য আমরা এলাকার মানুষদেরকে সচেতন করছি। তিনি আরো বলেন, কৃষক যাতে সহজে তাদের ক্ষতিপূরণ পায় সে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক মোরশেদ, ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন

সিরাজুল ইসলাম-লালমনিরহাট।
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক মোরশেদ, ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন

 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পূর্ব সারডুবী এলাকার বাসিন্দা মোরশেদ আলম একজন ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক। দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত আয়েই চলছিল তার ছয় সদস্যের পরিবারের জীবিকা। কিন্তু একটি ভ্যান চুরির ঘটনায় আজ তিনি ও তার পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, গত ২০ জুন রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার মিলন বাজার এলাকায় নিজের ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি রেখে দিনের ভাড়ার টাকা তুলতে যান মোরশেদ আলম। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ভ্যানগাড়িটি চুরি করে নিয়ে গেছে। ভ্যানটি খুঁজে পেতে তিনি বাজারের বিভিন্ন স্থান ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।

সরেজমিনে মোরশেদ আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ একটি ঘরে মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। ঘরের পাশাপাশি রান্নাঘরের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ভাঙা টিনের বেড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।
উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে বর্তমানে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে মোরশেদ আলমকে। পরিবার-পরিজনের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তার।

মোরশেদ আলমের প্রত্যাশা, এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা তার দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান পেলে তিনি পুনরায় কর্মে ফিরতে পারবেন এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, “মোরশেদ আলম অত্যন্ত দরিদ্র একজন মানুষ। ভ্যান চালিয়েই তার সংসার চলতো। ভ্যানটি চুরি হওয়ার পর তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রশাসনের কাছে তার জন্য একটি ভ্যানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

স্থানীয়দের দাবি, অসহায় এই পরিবারের পাশে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে মোরশেদ আলম আবারও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।

নাচোলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত

গোলাম রাব্বানী :
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
নাচোলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত

দাতা সংস্থা নেটস্ বাংলাদেশ ও বিএমজেড সহায়তায় ডাসকো ফাউন্ডেশন কর্তৃক বাস্তায়িত অগ্রযাত্রা প্রকল্পের উদ্যোগে (২৪ জুন) বুধবার নাচোল উপজেলায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস -২০২৬ পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপজেলার ৪ নং নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজন করা হয়েছে।
দিবস পালন অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন অত্র পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল হক, ইউপি সদস্য মোঃ আঃ জব্বার, মোঃ বাবুল হক, মোঃ এমদাদুল হক ও নারী সদস্য মোসাঃ গুলনাহার বেগম।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসের শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কর্মী মোঃ শহিদুল ইসলাম ও ইউনিয়ন সমাজকর্মী মোঃ জহির উদ্দিন। প্রকল্পের এ্যাডভোকেসী ফ্যাসিলিটেটর মোসাঃ নিলুফার ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় শুরু হয় এবং লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম বাস্তাবায়ন ও দিবস পালন প্রত্যাশা উপস্থাপন করেন নাচোল ইউনিটের ইউনিট ম্যানেজার আবু হেনা মোহাম্মদ ফিরোজ ইউএম মোঃ রায়হান মন্ডল, এফ এফ মোঃ রেজাউল করিম ও মোঃ নাসির ।
দিবস পালনের কর্মসূচীর মধ্যে র‌্যালী, আলোচনা সভা ও সদস্যদের মাঝে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচীতে প্রকল্পের সুফলভোগী ও জনপ্রতিনিধি সহ প্রায় ১০০ এর অধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল।

ইসলামপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক নাজমুল হুসাইন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
ইসলামপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক নাজমুল হুসাইন

মো : হোসন শাহ্‌ ফকির ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি: ইসলামপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক নাজমুল হুসাইন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৩ টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে পৌর কার্যালয়ে এ বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পৌরসভার প্রশাসক ও ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল হুসাইন।

বাজেট অধিবেশনে পৌর নিবার্হী প্রকৌশলী মোফাখখারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, পৌর বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম ঢালী, উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাজিম হোসেন নোমান, ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল রানা খোকন, ইসলামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আওয়াল খান লোহানী, যুবনেতা এনামুল করিম ডেবিট, পৌর বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক হোসেন শাহ ফকির, মুনতাসির খান লোহানী সিয়ামসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন।

এসময় পৌর সভার কর্মকর্তা, সাংবাদিক, গণ্যমান্য বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।২৩.০৬.২০২৬

ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক মোরশেদ, ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন নাচোলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত ইসলামপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক নাজমুল হুসাইন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত।। ত্রিশাল পৌরসভার ২০২৬/২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা