জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আব্দুর রহিম বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে এ আদেশ দেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন, সদরের পাকুল্যা মধ্যেপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মো. ফারুক হোসেন, আলী আকবরের ছেলে মুনছুর আলী, একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন।
অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছে একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, বিগত ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই রাতে সদর উপজেলার মেছেরচোরা মোড়ে স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে আসামিরা। এ ঘটনার পরদিন ধর্ষিতা গৃহবধূ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আসামিদের অনুপস্থিতিতে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে।y
জার্মান ডক্টরস্ এর আর্থিক সহায়তায় ডাসকো ফাউন্ডেশন-এর A-EMPOWER প্রকল্প এবং নওগাঁ জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের আয়োজনে নওগাঁ জেলার ১১ টি উপজেলার মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) এবং ১১ টি মডেল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত সেবাদানকারী (এসএসিএমও, এফডব্লিউভি ও ফার্মাসিস্ট) এবং প্রকল্প স্টাফদের নিয়ে দুইদিন ব্যাপি যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং মনোসামাজিক সহায়তা বিষয়ক রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেছেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জনাব গোলাম মোঃ আজম-উপপরিচালক, জনাব মৌসুমী প্রামানিক-সহকারী পরিচালক (সিসি), জনাব মোছাঃ শামীমা আকতার-সহকারী পরিচালক এবং ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষকবৃন্দ । প্রশিক্ষণে রিসোর্স পার্সন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব ড. কস্তুরী আমিনা কুইন, পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, রাজশাহী বিভাগ।
পরিচালক মহোদয় প্রশিক্ষণটি আয়োজনের জন্য ডাসকো ফাউন্ডেশন-এর A-EMPOWER প্রকল্প কে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রশিক্ষণ গ্রহনের ফলে সেবাদানকারীগণ মনোসামাজিক সহায়তা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছে যার ফলে আরো বেশী সংখ্যক কিশোর-কিশোরী মান সম্পন্ন সেবার আওতায় আসবে।
জামালপুরে ইসলামপুর অবস্থিত ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনে গোপনে জ্বালানি তেল বিক্রি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১১টার দিকে ইসলামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজুওয়ান ইফতেকারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। এ ঘটনায় গোপনে তেল বিক্রি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৫ ধারায় ৫০ হাজার টাকা এবং ৪৬ ধারায় ঝর্ণা ফিলিং স্টেশনকে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মিজানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার মোস্তফা মনোয়ার জানান, দুইটি ডিওতে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল মিলিয়ে মোট ২৬ হাজার লিটার থাকার কথা ছিল। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে মাত্র ১৩ হাজার ২০০ লিটার জ্বালানি পায়।
ইসলামপুর থানা-এর অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাইয়ুম গাজী জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় কার্যকরের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে থানায় এনে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
হোসেন শাহ ফকির, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি : সরকারি বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে এবং প্রশাসনিক শিষ্টাচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কোয়াটার ও ডরমিটরি অফিস(অফিসার,কর্মচারী) পরিত্যক্ত ভবন। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাসভবনে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলাসী সংস্কারের মহোৎসব চলছে। যে ভবনটিকে দাপ্তরিকভাবে ‘বসবাসের অযোগ্য’ ও ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করে নিলামে বিক্রির সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সরকারি কোষাগারের অর্থ ঢেলে চাকচিক্য বাড়ানোর এই অনৈতিক আয়োজন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ১ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে (স্মারক নং ৫৪৫) পাঁচটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হেলানা পারভীন গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনসমূহ ‘কনডেমড’ ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
উক্ত আদেশে উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসারের বাসভবন (প্রাক্কলিত মূল্য ৩,৫১,৩৪২ টাকা),ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কোয়ার্টার (প্রাক্কলিত মুল্য ৩,৩৫,২৪২ টাকা) ও ডরমিটরি অফিস অফিসার কর্মচারী(প্রাক্কলিত মুল্য ১,৫৭,৬২৪ টাকা) নিলামে বিক্রির প্রশাসনিক অনুমতি প্রদান করা হয়। মন্ত্রণালয়ের আদেশে ভবনগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর করা হয়নি। উল্টো গত ১২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ভবন গুলো পরিত্যক্ত হওয়ার চূড়ান্ত স্বীকৃতির পরও সেখানে সংস্কারের নামে নতুন করে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে—যা সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
সরেজমিনে দেখা গেছে,ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং নোনা ধরা দেয়ালের ওপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আধুনিক ফিটিংস এবং উচ্চমূল্যের রঙের প্রলেপ। আইন অনুযায়ী,কোনো স্থাপনা ‘কনডেমড’ বা পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পর সেখানে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল। সচেতন মহলের মতে সরকারি অর্থের এই অপচয় কেবল ক্ষমতার অপব্যবহারই নয়, বরং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ।
কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ালেও এর ধসে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখানে বড় ধরনের প্রাণহানির সম্ভাবনা থাকলেও খোদ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন।
এতে একদিকে যেমন সরকার নিয়মিত বাসা ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে,অন্যদিকে জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের কারণে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে,সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমোদন ব্যতিরেকেই ‘ক্ষুদ্র মেরামত’ খাত থেকে এই বিশাল অংকের অর্থ সমন্বয় করছে। যেখানে পুরাতন কাঠামো ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানোর কথা, সেখানে সংস্কারের নামে বিপুল অর্থ লোপাটের চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজন পদস্থ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের জন্য রাষ্ট্রের অর্থের এমন অপচয়কে নীতিভ্রষ্টতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে ইসলামপুর পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম আবু সাঈদ জানান,ভবনটি পরিত্যক্ত কি না সে বিষয়ে আমাদের দাপ্তরিকভাবে জানানো হয়নি। উপজেলা প্রশাসন থেকে আবেদন করলে আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবো।” তবে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরিত্যক্ত বাসভবন ব্যবহার করেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইন বলেন আপনি যে স্মারক নম্বর পরিত্যক্ত ভবন বললেন তা খতিয়ে দেখতে হবে।
উপজেলাবাসী ও সুধী সমাজ এই নজিরবিহীন অনিয়মের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা দাবী জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন