খুঁজুন
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নিলুফা ইয়াছমিন খান

মোঃ সবুজ সরকার সৌরভ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি। 
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী   নিলুফা ইয়াছমিন খান

তীয়তাবাদী রাজনীতির সুদীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নেওয়া মোসাঃ নিলুফা ইয়াছমিন খান আজ টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক পরিচিত ও সম্মানিত নাম। ৩০ জুন ১৯৬৫ সালে টাঙ্গাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করা এই সাহসী নারী ছোটবেলা থেকেই আদর্শ, নীতি ও দলীয় চেতনায় বেড়ে উঠেছেন। তাঁর পিতা মৃত হবিবুর রহমান খান ছিলেন শ্রমিক আন্দোলনের একজন সংগঠক ও বাংলাদেশ সড়ক শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল জেলা সড়ক পরিবহন ফেডারেশন ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক। সেই পরিবারেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বীজ বপন হয় যা পরবর্তীতে নিলুফা ইয়াছমিন খানের জীবনদর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

পারিবারিকভাবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিলুফা ইয়াছমিন খান শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন রাজাফৈর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে এসএসসি এবং ফুলবাড়িয়া মহাবিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পাসের মাধ্যমে। ব্যক্তিজীবনে তিনি মোঃ জয়নাল আবেদীনের সহধর্মিণী। তবে সংসার ও সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতিই তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, টাঙ্গাইল জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ২০১০ সালে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১২, ২০১৭ এবং ২০২৩ সালে ধারাবাহিকভাবে জেলা মহিলা দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা। একইসঙ্গে তিনি জেলা বিএনপির সদস্য এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দলীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
দলের কঠিন সময় রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও আন্দোলন সংগ্রামের দিনগুলোতে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নে নারী কর্মীদের সংগঠিত করতে এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শকে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তাঁর নিরলস পরিশ্রম দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি একজন নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী ও সাহসী নেত্রী হিসেবে।
শুধু রাজনীতিতেই নয়, সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রেও তিনি রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। ঘাটাইল উপজেলার শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া নিলুফা ইয়াছমিন খান টাঙ্গাইল জেলা বাস-কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রথম নারী সদস্য। এছাড়া বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সারা দেশের প্রথম নারী সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তাঁর দৃঢ় অবস্থানের পেছনে রয়েছে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার। তাঁর বড় ভাই লুৎফর রহমান খান আজাদ, বর্তমান সংসদ সদস্য, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের প্রতিনিধি। তিনি চারবারের সংসদ সদস্য ও তিনবারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতায় নিলুফা ইয়াছমিন খানও নিজেকে গড়ে তুলেছেন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পরীক্ষিত সৈনিক হিসেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তাঁর নাম ইতোমধ্যে দলীয় অঙ্গনে আলোচনায় রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও আদর্শিক দৃঢ়তার কারণে তিনি সংরক্ষিত আসনের জন্য যোগ্য প্রার্থী। নারী নেতৃত্ব বিকাশে তাঁর ভূমিকা এবং দলের জন্য আত্মত্যাগ তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিশ্বাস বেতকা গ্রামে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানায় বসবাসকারী এই নেত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। সামাজিক-মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বেড়ে ওঠা, পরিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং নিজস্ব সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয়ে মোসাঃ নিলুফা ইয়াছমিন খান সংরক্ষিত মহিলা আসনে বিএনপির জন্য একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য মুখ হতে পারেন।
দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং নারী সংগঠনকে সুসংগঠিত করার মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এখন সময় এসেছে জাতীয় সংসদের মঞ্চে তাঁর নেতৃত্বকে তুলে ধরার এমন প্রত্যাশাই করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। জাতীয়তাবাদী চেতনায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এই নারী নেত্রীর সামনে নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের দুয়ার খুলতে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

রংপুর মেডিকেলে রোগীদের ছুটি দিয়ে তালাবদ্ধ কিডনি ওয়ার্ড, চিকিৎসাবিহীন রোগীরা

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
রংপুর মেডিকেলে রোগীদের ছুটি দিয়ে তালাবদ্ধ কিডনি ওয়ার্ড, চিকিৎসাবিহীন রোগীরা

 

হাসপাতাল হলো মানুষের শেষ আশ্রয়ের জায়গা, যেখানে ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে যায় মুমূর্ষু রোগীদের সেবায়। কিন্তু রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। ঈদ উদযাপনের অজুহাতে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের ‘বাধ্যতামূলক ছুটি’ দিয়ে খোদ কিডনি (নেফ্রোলজি) ওয়ার্ডেই তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। গত চার দিন ধরে বন্ধ থাকা এই ওয়ার্ডের কারণে রংপুর অঞ্চলের কিডনি রোগীদের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা।

শনিবার (৩০ মে) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালের ৪০ নম্বর কিডনি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। হাসপাতালের প্রধান ফটকটি ভেতর থেকে বন্ধ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভেতর থেকে এক নার্স ইশারায় জানিয়ে দিলেন, “বড় স্যারদের আদেশে ওয়ার্ড বন্ধ, কোনো রোগী নেই।” অথচ ভেতরের জানালা দিয়ে দেখা গেল, সারি সারি শয্যা শূন্য পড়ে আছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত সোমবার (২৫ মে) পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ রোগী ভর্তি ছিলেন। কিন্তু ঈদের দোহাই দিয়ে তাদের একপ্রকার জোর করেই হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি আগামী ১ জুনের আগে নতুন কোনো রোগী ভর্তি না করার মৌখিক নির্দেশনাও দিয়ে রেখেছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

একই ছাদের নিচে কিডনি ওয়ার্ড তালাবদ্ধ থাকলেও পাশের ডায়ালাইসিস ইউনিটটি খোলা রয়েছে। সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন তিন শিফটে ৬২ জন রোগীকে ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, ডায়ালাইসিস চলাকালীন কোনো রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই, কারণ মূল কিডনি ওয়ার্ডটি বন্ধ। এই অবস্থাকে ‘পুরোপুরি অমানবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন খোদ ডায়ালাইসিস ইউনিটের এক কর্মকর্তা।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা এসে দেখছেন হাসপাতালের দরজায় তালা। গাইবান্ধা থেকে আসা রোগী রুহুল আমিন আক্ষেপ করে জানান, চিকিৎসা না পেয়ে তিনি এখন বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন তা তিনি কল্পনাও করেননি।

এই নজিরবিহীন ঘটনার বিষয়ে জানতে কিডনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ কোনো চিকিৎসককে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের বর্তমান দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায়সারাভাবে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ এভাবে উৎসবের নামে বন্ধ করে দেওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতি ও মানবিকতার চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ। দ্রুত এই ওয়ার্ড খুলে দিয়ে সেবা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে সর্বত্র।

সেনবাগে লটারিতে লাখপতি ২ ও স্বপ্নের বাজারে ৯অসহায় মানুষ বিজয়ী।

মোঃ ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ রিপন, নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১০:২৯ অপরাহ্ণ
সেনবাগে লটারিতে লাখপতি ২ ও স্বপ্নের বাজারে ৯অসহায় মানুষ বিজয়ী।

 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ৫ নম্বর অর্জুনতলা ইউনিয়নে মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের বার্ষিক সাধারণ সভা, নতুন লাখপতি নির্বাচন এবং ‘স্বপ্নের বাজার’ কর্মসূচির বিজয়ীদের নাম ঘোষণা অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) বাদ মাগরিব অর্জুনতলার সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন হাফেজ কামরুল হাসান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টপ স্টার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমির সিইও আবদুস সাত্তার বিএসসি, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে লটারির মাধ্যমে চলতি বছরের দুইজন নতুন লাখপতি নির্বাচিত হন। তারা হলেন অর্জুনতলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাকপ্রতিবন্ধী মাসুদ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হরমুজা বেগম। বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হলে উপস্থিত মানুষের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

একইসঙ্গে ‘স্বপ্নের বাজার’ কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে লটারির মাধ্যমে ৯ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীরা হলেন— ১নং ওয়ার্ডের মনিরের স্ত্রী, ২নং ওয়ার্ডের পুষ্প বেগম, ৩নং ওয়ার্ডের মো. হেদায়েত উল্লাহ, ৪নং ওয়ার্ডের রেজিয়া বেগম, ৫নং ওয়ার্ডের আবদুল হক চৌকিদার, ৬নং ওয়ার্ডের জেসমিন আক্তার, ৭নং ওয়ার্ডের নুরুল আমিন, ৮নং ওয়ার্ডের মো. ইউসুফ এবং ৯ নং ওয়ার্ডের মো. সামা।

অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের সাবেক সদস্য আবু নাইম ১নং ও ৯নং ওয়ার্ডের স্বপ্নের বাজার বিজয়ীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাজার করে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন এ পর্যন্ত ৯ জন অসচ্ছল মানুষকে লাখপতি হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। পাশাপাশি ‘স্বপ্নের বাজার’ কর্মসূচির আওতায় আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করে তাদের পছন্দ অনুযায়ী মাছ, মাংস, কাঁচাবাজার, মুদি সামগ্রী ও ফলমূল কিনে দেওয়া হয়। চলতি বছরের ৯ জনসহ এ পর্যন্ত ১৮ জন এই সুবিধা পেয়েছেন।

এছাড়া শিক্ষা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে সংগঠনটি। বিভিন্ন সময়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান ও সনদ প্রদান করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এ সুবিধা পেয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে সেনবাগ উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রীকে গোল্ড মেডেল প্রদানের কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।

ফাউন্ডেশন সূত্রে আরও জানা যায়, অর্জুনতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা নিয়মিত প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী এবং ২০০-এর বেশি রোগী আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আগামী এক বছরের জন্য সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের নতুন আহ্বায়ক হিসেবে মাহমুদুর রহমান রাকিব এবং সদস্য সচিব হিসেবে মাইন উদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিধিমালা অনুসারে বিদায়ী সদস্যদের সংবর্ধনা, সনদপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে সেনবাগের সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে এক আনন্দঘন পরিবেশে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এতে সৈয়দ রুহুল আমিন স্মৃতি একাডেমি প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।##

হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।।

বিশেষ প্রতিনিধি।।
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।।

পবিত্র ঈদুল আযহার তৃতীয় দিনে হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। গতকাল বিকেল থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। আজ সকাল থেকে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।

তবে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি, বিগত বছরগুলোর ঈদ মৌসুমের তুলনায় এবার পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম। প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটক না আসায় হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশার ছাপ দেখা গেছে।

অন্যদিকে সৈকতে আগত পর্যটকদের মাঝে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের আবহ। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে সমুদ্রের নোনা জলে গা ভাসিয়ে উপভোগ করছেন ঢেউয়ের স্পর্শ, কেউ সৈকতের বেঞ্চিতে বসে উপভোগ করছেন সাগর ও প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য। অনেকেই বালুকাবেলায় খেলাধুলা, ছবি তোলা ও আড্ডায় মেতে উঠেছেন। সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ভিড় জমিয়েছেন দর্শনার্থীরা।

সব মিলিয়ে দেশের একমাত্র সমুদ্রসৈকত হিসেবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য স্থান কুয়াকাটায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও পর্যটকদের সেবায় কাজ করছে।

ঈদের ছুটির বাকি দিনগুলোতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রের গর্জন আর নির্মল পরিবেশে ঈদের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের উপস্থিতি।
পটুয়াখালী/কুয়াকাটা/৩০.০৫.২০২৬

রংপুর মেডিকেলে রোগীদের ছুটি দিয়ে তালাবদ্ধ কিডনি ওয়ার্ড, চিকিৎসাবিহীন রোগীরা সেনবাগে লটারিতে লাখপতি ২ ও স্বপ্নের বাজারে ৯অসহায় মানুষ বিজয়ী। হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।। হাকিমপুর হিলিতে কাঁকড়াপালি আলোকিত মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত গৃহবধুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ