খুঁজুন
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩

রংপুর বিভাগে জাতীয় পার্টির ৩৩ টি আসন উদ্ধারের চেষ্টা

পাবলিক বাংলা :
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
রংপুর বিভাগে জাতীয় পার্টির ৩৩ টি আসন উদ্ধারের চেষ্টা

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর : জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। তারা কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন প্রচারণায়। ইতোমধ্যে রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩টির মধ্যে ৩২টিসহ মোট ২৪৩টি আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধার দুটি আসনে প্রার্থী হচ্ছেন। জাপার দুর্গ বলে পরিচিত রংপুর বিভাগে এবার কমপক্ষে ১২ থেকে ১৫টি আসনে জয়ী হওয়ার আশা করছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

ঢাকায় অবস্থানরত জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির শুক্রবার রাতে বলেছেন, ‘দীর্ঘ ১৮ বছর পর জাতীয় পার্টি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য একসঙ্গে ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করতে পেরেছে। আমরা আর কোনও দলের আজ্ঞাবহ হয়ে রাজনীতি করতে চাই না। “আধা বিএনপি” “আধা আওয়ামী লীগা”র এই লাইন থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পেরেছি। এখন আমাদের দলে কোনও বিএনপি আর আওয়ামীপন্থি নেতা নেই, সবাই এরশাদপন্থি।’

এদিকে, জাতীয় পার্টির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘আমরা আপাতত কোনও দলের সঙ্গে জোট করছি না। বিএনপির শীর্ষ নেতার সঙ্গে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতার অনুষ্ঠানিক কথা হয়েছে। তারা ২০টি আসন দিতে চেয়েছিল, কিন্তু জাতীয় পার্টি রাজি হয়নি। তবে বিএনপির সঙ্গে জোট না হলেও তারা চায় জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকুক।’ যদি প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারে তাহলে আসন্ন নির্বাচনে ভালো ফল করবে বলে আশা এই শীর্ষ নেতার।

রংপুরকে জাতীয় পার্টির দুর্গ বলে দাবি করা দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ৩২টিতে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ আসনে দলের প্রার্থী বাইপাস অপারেশনসহ শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় ওই আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়নি। বাকি ৩২টি আসনেই প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পার্টির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজমল হোসেন লেবু জানিয়েছেন, রংপুরের ছয়টি আসনে এবার শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ (সদর) আসনে এবারও প্রার্থী হচ্ছেন। ইতোমধ্যেই তার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র রেডি করার জন্য তার কাছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রংপুর-১ আসনে এবার সাবেক মন্ত্রী ও তিন বারের সংসদ সদস্য মশিয়ার রহমান রাঙ্গার স্থলে এলাকার জনপ্রিয় ব্যক্তি ব্যারিস্টার আঞ্জুমকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি ভালো করবেন। একই ভাবে রংপুর-৪ আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দুই মাস আগে থেকে তিনি ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। অন্যদিকে, রংপুর-২ আসনে সাবেক এমপি আনিস মন্ডল, রংপুর-৫ আসনে আবারও দলে ফিরেছেন জনপ্রিয় নেতা শিল্পপতি ফকরুজ্জামান জাহাঙ্গীর। রংপুর-৬ আসনে নুর আলম যাদুর অবস্থাও ভালো। ফলে রংপুরের ৬টি আসনের মধ্যে ৪টি আসনে আমাদের প্রার্থীরা জয়ী হবে বলে আমরা আশা করছি।’

এদিকে, জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী, দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে আবারো ক্ষমা প্রার্থনা করে দলে ফিরে আসা রংপুর-১ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য মশিয়ার রহমান রাঙ্গাকে এবার লালমনিরহাট-১ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে রাঙ্গার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার পৈত্রিক নিবাস লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধায়। ওই আসনে জাতীয় পার্টি মনোনয়ন দেওয়ায় আমি সন্তুষ্ট। আমি আশাবাদী এই আসনে নির্বাচনে ভালো ফল করবো।’ ইতোমধ্যে দলের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে গণসংযোগসহ প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা জাপার সদস্যসচিব আব্দুর রাজ্জাক জানান, রংপুর ৩ (সদর) আসনে ১৯৯১ সালের পর সব নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হয়েছে। জিএম কাদের এর আগেও জয়ী হয়েছেন, এবারও তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, জাতীয় পার্টির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ করার শর্তে শুক্রবার রাতে বলেন, ‘রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ৩২টিতে আমরা প্রার্থী দিয়েছি। আমরা আশা করছি, ১০ থেকে ১২টি আসন। হয়তো তার থেকে বেশি আসনে আমরা জয়ী হবো। জাতীয় পার্টির বাইরেও আরও অন্য দলের সমর্থকরাও আমাদের ভোট দেবে।’

তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে এবং ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারলে এবার তারা বিগত তিনটি নির্বাচনের চাইতে ভালো ফল পাবেন বলে দাবি করেন তিনি।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, দলের রংপুর মহানগর সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এবার দলের প্রতি এত অবিচার, হামলা-মামলার পরেও দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ করেছি। অনেক আসনে ৩-৪ জন করে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এটা ভালো লক্ষন।’

নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করলে আর জাতীয় পার্টিকে অবজ্ঞা করার প্রবণতা থেকে সরে আসলে এবার জাতীয় পার্টি চমক দেখাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মাতোয়ারা বেগমকে সভাপতি এবং সোনিয়া বেগমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সভাপতি হামিদা বেগম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আজিজ মুসল্লী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দলীয় কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নবনির্বাচিত সভাপতি মাতোয়ারা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আগামী দিনে ওয়ার্ড পর্যায়ে মহিলা দলের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা হবে।

কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ( ফ্যামেলী প্লানিং ) সেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা। সেবা নিতে আসা প্রত্যন্ত এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষসহ অনেকেই কাঙ্খিত পরিবার পরিকল্পনা (ফ্যামেলী প্লানিং) সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরঞ্জামের সংকটে প্রয়োজনীয় উপকরণ না পেয়ে তারা বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে অনেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী না পাওয়ায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নি¤œআয়ের মানুষের জন্য সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এসব সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরঞ্জাম সংকট তাদের দুর্ভোগ আরোও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেবা প্রার্থী উত্তর সোম এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারী হাসপাতালে নিজ পরিবারের জন্য কম খরচে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাওয়ার আশায় এখানে আসি। কিন্তু বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা উপকরণ না থাকায় গত তিন মাস যাবৎ কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। ফলে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পরিবার পরিকল্পনা সেবা মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবার পরিকল্পনা সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের পর্যাপ্ত মজুত থাকা জরুরী। সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে মাঠ পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমও ব্যাহত হবে। যদি দীর্ঘ সময় এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সরঞ্জাম সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে মজুত পর্যালোচনা ও সেবা কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও ভোগান্তি কমানোর দাবি জানান তারা।
উল্লেখ যে, চলতি বছরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এসময় কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পায় এবং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ত্রুটি ও অনিয়মও মন্ত্রীর নজরে আসে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হোসনেয়ারা বেগম সরঞ্জাম সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ২/৩ মাস যাবৎ সকল প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম মহিলাদের জন্য পিল, পূরুষদের কনডমসহ ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডি কার্যক্রমের সংকট বিদ্যমান।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছাঃ নাহিদা খাতুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় এরকম জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী অক্টোবরে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার কথা রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ দিলে প্রযোজনীয় সরঞ্জামাদী সরবরাহ করা হবে।
সেবা প্রত্যাশীদের প্রশ্ন, সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে না কেন? সরঞ্জামাদী নিয়মিত সরবরাহ ও মজুত ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকলে এর দায়ভার কে নেবে? শুধু কাগজে-কলমে নয় পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ নিশ্চিত করে বাস্তবে সেবা পৌঁছে দেওয়া হোক।

পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা

প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্দারিয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১০০ বিঘা পতিত জমিতে মাছ চাষ করে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লাভ করছেন ছাইদুর রহমান মোল্লা।

নিচু জমি হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকত এসব জমি। ধান কাটার পর জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকলেও সেই জমিতেই মাছ চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি।

মাছ চাষের পাশাপাশি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান মোল্লা ইটভাটার ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। বছরের ছয় মাস ইটভাটার ব্যবসা এবং বাকি ছয় মাস মাছ চাষ করে ব্যস্ত সময় কাটে তাঁর। মাছ চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্দারিয়াপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জমিগুলো নিচু হওয়ায় বৈশাখ মাসে ধান কাটার পর বর্ষার পানি জমে যায়। ফলে এসব জমিতে বছরের অধিকাংশ সময় আর কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হতো না। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব অনাবাদি জমিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন ছাইদুর রহমান মোল্লা। পর্যায়ক্রমে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি।

বর্তমানে এসব জলাবদ্ধ ও নিচু জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। মাছ বিক্রি করে প্রতিবছর ভালো আয় হচ্ছে তাঁর। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লাভ করেন বলে জানান ছাইদুর রহমান মোল্লা।

ছাইদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘যেসব জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকত এবং কোনো কাজে আসত না, সেসব জমিকে মাছ চাষের আওতায় এনে ভালো ফল পেয়েছি। ইটভাটার ব্যবসা ছয় মাস করি, আর ছয় মাস মাছ চাষের পেছনে সময় দিই। মাছ চাষে লাভের পাশাপাশি অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কার পাওয়ায় আমি আরও উৎসাহিত হয়েছি। আমার এই উদ্যোগ দেখে এলাকার অনেক তরুণ মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একসময় বছরের পর বছর পড়ে থাকা এসব নিচু জমি এখন মাছের খামারে পরিণত হয়েছে। ছাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে এলাকার তরুণদের মধ্যেও মাছ চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে মাছ চাষের পদ্ধতি ও খরচ-লাভের হিসাব সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর পাল বলেন এ ধরনের অনাবাদি ও জলাবদ্ধ জমিকে মাছ চাষের আওতায় এনে আরও বেশি কর্মসংস্থান ও আয় সৃষ্টি করা সম্ভব, ছাইদুর রহমান মোল্লার উদ্যোগটি শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্য নয়, বছরের অধিকাংশ সময় অনাবাদি পড়ে থাকা নিচু জমিকে কীভাবে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করা যায়—তারও একটি দৃষ্টান্ত।

তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় তরুণরা মাছ চাষে এগিয়ে এলে এলাকার অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা মান্দায় আন্তঃক্লাব ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল জোকাহাট ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন সাপাহারে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা