খুঁজুন
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩

রাজা-রানীকে দেখতে রংপুর চিড়িয়াখানায় ভিড়

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ পূর্বাহ্ণ
রাজা-রানীকে দেখতে রংপুর চিড়িয়াখানায় ভিড়

রংপুর চিড়িয়াখানায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার রোমিও জুলিয়েট দম্পতির ঘরে জন্ম নিয়েছে দুই শাবক। যাদের নাম রাখা হয়েছে রাজা-রানী। জন্মের তিন মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। আর এই দুই শাবককে দেখতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।

চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা যায়, দেশের দুটি সরকারি চিড়িয়াখানার মধ্যে রংপুর চিড়িয়াখানাটি অন্যতম। এখানে প্রজননের জন্য আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির প্রাণীর বংশ বৃদ্ধি হয় এই রংপুর চিড়িয়াখানায়। রংপুর চিড়িয়াখানায় বাঘ, ভালুক, সিংহ, হরিণ ও জলহস্তিসহ নানা প্রজাতির পাখির বংশবৃদ্ধি হয়েছে ইতোমধ্যে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর চিড়িয়াখানায় ১৯৯১ সালে উন্মুক্ত হওয়ার পর থেকে কয়েকটি শাবক জন্ম নিয়েছে। জন্ম নেওয়া শাবকদের ঢাকা চিড়িয়াখানাসহ বেশ কয়েকটি দেশে উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

রয়েল বেঙ্গল টাইগার রোমিও জুলিয়েট দম্পতির ঘর আলো করে তিন মাস আগে দুটি শাবক জন্ম নেয়। শাবক দুটির নাম রাখা হয়েছে রাজা ও রানী। জন্মের পর থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দুই শাবককে বিশেষ যতেœর সাথে দেখভাল করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। শাবক দুটি যাতে নিরিবিলিভাবে মায়ের দুগ্ধ পান করতে পারে সে জন্য মা জুলিয়েটের সাথে আলাদা করে রাখা হয়। এসময় বাবা রোমিওকে আলাদাভাবে রাখা এই তিন মাস। তাদের খুবই যতেœর সাথে এবং গুরুত্বের সাথে চিকিৎসা সেবাও প্রদান করা হয়। এভাবেই নিবিড় পরিচর্যার মধ্য দিয়ে ৩ মাস অতিবাহিত হবার পর ২১ ডিসেম্বর রোববার থেকে শাবক দুটিকে তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে একসঙ্গে দেওয়া হয়।

এদিকে, রয়েল বেঙ্গল টাইগার রোমিও জুলিয়েট দম্পতির দুই শাবককে দেখতে রংপুর চিড়িয়াখানায় বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থীদের উপচে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শীতকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুরা এসেছে শাবককে একনজর দেখতে। সন্তানদের নিয়ে বাঘের শাবকদের দেখতে এসেছেন অসংখ্য বাবা-মা। শাবক দুটির জন্য আগের থেকে কয়েকগুণ বেড়েছে দর্শনার্থী। বড় খাঁচায় বাবা মাকে একসঙ্গে পেয়ে রাজা-রানীও বেশ আনন্দিত। শাবক দুটির ছোটাছুটি ও মা বাবার সাথে খুনসুটি বেশ উপভোগ করছে দর্শনার্থীরা। বাঘের বাচ্চা দেখতে এসে খুশি শিশুরা। নাদুস-নুদুস বাঘের শাবক দুটি বিনোদনের যেন খোরাক হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের।

কুড়িগ্রাম থেকে বাঘের শাবক দেখতে আসা শারমিন আক্তার জানান, তিনি তার দুই মেয়েকে নিয়ে বাঘের শাবক দুটিকে দেখতে এসেছেন। খাঁচার মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দুটি শাবক দেখে খুবই ভালো লাগছে বলে জানান তিনি। মেয়েরাও খুশি। তবে শাবক দুটিকে ভালোভাবে লালন পালন, পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করে রংপুরেই রাখবে কর্তৃপক্ষ এমন অনুরোধও করেছেন তিনি। একইভাবে পীরগঞ্জ থেকে রেজাউল করিম মানিক এসেছেন বাঘের শাবক দুটিকে দেখতে দুই ছেলে মেয়ে কে নিয়ে। বাঘের শাবক দেখে খুবই আনন্দিত তার ছেলে মেয়ে।

রংপুর নগরীর কামাল কাছনা এলাকার ফরহাদ হোসেন এসেছেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে। বাঘের বাচ্চাকে দেখে ভালোই লাগছে। বাচ্চা দুটির খুনসুটি তাদের বেশি ভালো লাগছে বলে জানান তিনি। ফরহাদ হোসেনের মতো শাবক দুটিকে দেখতে এসেছেন সদ্য বিবাহিত বৌ কে নিয়ে মুলাটোল নজরুল চত্তর এলাকার কামরুল হাসান । তিনিও আনন্দিত শাবক দুটিকে দেখে।

রংপুর চিড়িয়াখানার ইজারাদার হজরত আলী জানান, আল্লাহর অশেষ রহমতে বাঘের বাচ্চা দুটি ভালো আছে। তাদের বিশেষ যতœ নেওয়া হচ্ছে। বাঘের বাচ্চা দুটিকে দেখার জন্য প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করে দর্শনার্থীরা আসছেন। দর্শনার্থীদের জন্য পশু পাখি দিয়ে কীভাবে আরো সমৃদ্ধ করা যায়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কিউরেটর। আশা করছি অল্প দিনের মধ্যে জিরাফ আনা চিড়িয়াখানায়।

রংপুর চিড়িয়াখানার চিকিৎসক ডা: শাহাদত হোসেন বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার দম্পতি এর আগেও দুবার গর্ভবতী হয়েছিল কিন্তু মিসকারেজ হওয়ায় বাচ্চা নষ্ট হয়েছে। এ জন্য এবারে বিশেষভাবে যতœ নেওয়া হয়। নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়। যার ফলে দুটি শাবকের জন্ম দিয়েছে দম্পতি। আলহামদুলিল্লাহ শাবক দুটি ভালো আছে। শীতকাল হওয়ায় আলাদা করে যতœ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রংপুর চিড়িয়াখানাটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও তা ১৯৯১ সালে উন্মুক্ত করা হয়। উন্মুক্তের সময় ২৩ প্রজাতির প্রাণী প্রদর্শন করা হয়েছিল। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ২৭ প্রজাতির প্রায় আড়াইশ প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, গন্ডার, জলহস্তী, হরিণ, বানর, চিতাবাঘ, ভালুক, কুমির, অজগর, কচ্ছপ, ময়না, টিয়া, ময়ূর, কাকাতুয়া, কবুতর, বকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মাতোয়ারা বেগমকে সভাপতি এবং সোনিয়া বেগমকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়াকাটা পৌর মহিলা দলের সভাপতি হামিদা বেগম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল আজিজ মুসল্লী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার। এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দলীয় কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

নবনির্বাচিত সভাপতি মাতোয়ারা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আগামী দিনে ওয়ার্ড পর্যায়ে মহিলা দলের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা হবে।

কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ( ফ্যামেলী প্লানিং ) সেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা। সেবা নিতে আসা প্রত্যন্ত এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষসহ অনেকেই কাঙ্খিত পরিবার পরিকল্পনা (ফ্যামেলী প্লানিং) সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরঞ্জামের সংকটে প্রয়োজনীয় উপকরণ না পেয়ে তারা বেসরকারি ক্লিনিক কিংবা ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সেবা প্রার্থীদের অভিযোগ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে অনেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী না পাওয়ায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নি¤œআয়ের মানুষের জন্য সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এসব সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরঞ্জাম সংকট তাদের দুর্ভোগ আরোও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেবা প্রার্থী উত্তর সোম এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারী হাসপাতালে নিজ পরিবারের জন্য কম খরচে পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাওয়ার আশায় এখানে আসি। কিন্তু বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বা উপকরণ না থাকায় গত তিন মাস যাবৎ কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। ফলে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পরিবার পরিকল্পনা সেবা মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবার পরিকল্পনা সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণের পর্যাপ্ত মজুত থাকা জরুরী। সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকলে মাঠ পর্যায়ের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমও ব্যাহত হবে। যদি দীর্ঘ সময় এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সরঞ্জাম সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে মজুত পর্যালোচনা ও সেবা কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করা ও ভোগান্তি কমানোর দাবি জানান তারা।
উল্লেখ যে, চলতি বছরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী। এসময় কয়েকজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পায় এবং স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ত্রুটি ও অনিয়মও মন্ত্রীর নজরে আসে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হোসনেয়ারা বেগম সরঞ্জাম সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত ২/৩ মাস যাবৎ সকল প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম মহিলাদের জন্য পিল, পূরুষদের কনডমসহ ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডি কার্যক্রমের সংকট বিদ্যমান।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোছাঃ নাহিদা খাতুনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেনি। পরে হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় এরকম জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী অক্টোবরে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার কথা রয়েছে। অর্থ বরাদ্দ দিলে প্রযোজনীয় সরঞ্জামাদী সরবরাহ করা হবে।
সেবা প্রত্যাশীদের প্রশ্ন, সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকবে না কেন? সরঞ্জামাদী নিয়মিত সরবরাহ ও মজুত ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি থাকলে এর দায়ভার কে নেবে? শুধু কাগজে-কলমে নয় পরিবার পরিকল্পনা সেবার প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ নিশ্চিত করে বাস্তবে সেবা পৌঁছে দেওয়া হোক।

পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা

প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের আন্দারিয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১০০ বিঘা পতিত জমিতে মাছ চাষ করে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লাভ করছেন ছাইদুর রহমান মোল্লা।

নিচু জমি হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকত এসব জমি। ধান কাটার পর জমিগুলো অনাবাদি পড়ে থাকলেও সেই জমিতেই মাছ চাষ করে সাফল্য দেখিয়েছেন তিনি।

মাছ চাষের পাশাপাশি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান মোল্লা ইটভাটার ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। বছরের ছয় মাস ইটভাটার ব্যবসা এবং বাকি ছয় মাস মাছ চাষ করে ব্যস্ত সময় কাটে তাঁর। মাছ চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্দারিয়াপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকার জমিগুলো নিচু হওয়ায় বৈশাখ মাসে ধান কাটার পর বর্ষার পানি জমে যায়। ফলে এসব জমিতে বছরের অধিকাংশ সময় আর কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হতো না। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এসব অনাবাদি জমিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন ছাইদুর রহমান মোল্লা। পর্যায়ক্রমে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি।

বর্তমানে এসব জলাবদ্ধ ও নিচু জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। মাছ বিক্রি করে প্রতিবছর ভালো আয় হচ্ছে তাঁর। সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা লাভ করেন বলে জানান ছাইদুর রহমান মোল্লা।

ছাইদুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘যেসব জমি বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ডুবে থাকত এবং কোনো কাজে আসত না, সেসব জমিকে মাছ চাষের আওতায় এনে ভালো ফল পেয়েছি। ইটভাটার ব্যবসা ছয় মাস করি, আর ছয় মাস মাছ চাষের পেছনে সময় দিই। মাছ চাষে লাভের পাশাপাশি অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সফল মৎস্য চাষির পুরস্কার পাওয়ায় আমি আরও উৎসাহিত হয়েছি। আমার এই উদ্যোগ দেখে এলাকার অনেক তরুণ মাছ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একসময় বছরের পর বছর পড়ে থাকা এসব নিচু জমি এখন মাছের খামারে পরিণত হয়েছে। ছাইদুর রহমানের সাফল্য দেখে এলাকার তরুণদের মধ্যেও মাছ চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে মাছ চাষের পদ্ধতি ও খরচ-লাভের হিসাব সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপঙ্কর পাল বলেন এ ধরনের অনাবাদি ও জলাবদ্ধ জমিকে মাছ চাষের আওতায় এনে আরও বেশি কর্মসংস্থান ও আয় সৃষ্টি করা সম্ভব, ছাইদুর রহমান মোল্লার উদ্যোগটি শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্য নয়, বছরের অধিকাংশ সময় অনাবাদি পড়ে থাকা নিচু জমিকে কীভাবে অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করা যায়—তারও একটি দৃষ্টান্ত।

তাঁর সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় তরুণরা মাছ চাষে এগিয়ে এলে এলাকার অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মহিলা দলের কমিটি গঠন। সভাপতি মাতোয়ারা, সাধারণ সম্পাদক সোনিয়া বেগম কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট, প্রশ্নের মুখে সরবরাহ ব্যবস্থা পতিত ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ, বছরে লাভ ৫০ লাখ টাকা মান্দায় আন্তঃক্লাব ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল জোকাহাট ফুটবল একাদশ চ্যাম্পিয়ন সাপাহারে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা