খুঁজুন
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে উচ্ছেদ, ফের বেড়িবাঁধে শত শত স্থাপনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে উচ্ছেদ, ফের বেড়িবাঁধে শত শত স্থাপনা

উপকূলীয় প্রতিনিধি : পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের স্লোপ দখল করে নির্মিত ৬৭৩টি স্থাপনা উচ্ছেদে একসময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা। উদ্দেশ্য ছিল কুয়াকাটা-গঙ্গামতি পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা, বাঁধকে টেকসই করা এবং সাগরের ভাঙন থেকে উপকূলীয় জনপদ ও মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা। কিন্তু সেই বাঁধেই ফের শুরু হয়েছে দখল ও স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৮ নম্বর ফোল্ডারের আওতাধীন প্রায় ৩৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুনরাকৃতিকরণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও ভাঙনরোধে ২০১৯ সালে উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধের মেরামত, পুনরাকৃতিকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়।

কুয়াকাটা সৈকতসংলগ্ন এলাকায় সাগরের ভাঙন ঠেকাতে স্থাপন করা হয় কংক্রিটের ব্লক। বাঁধের রিভার ও কান্ট্রি সাইটে করা হয় বনায়ন এবং তৈরি করা হয় ঘাসের আবরণ। একই প্রকল্পের আওতায় নয়টি স্লুইসগেটও মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। পর্যটন এলাকার সৌন্দর্যের পাশাপাশি লতাচাপলী, কুয়াকাটা পৌরসভা ও ধুলাসার ইউনিয়নের একাংশের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই ছিল এসব উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কিন্তু কয়েক বছরের ব্যবধানেই আবার দখল

সরেজমিনে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা সৈকতের মিরাবাড়ি থেকে ঝাউবাগান পর্যন্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেড়িবাঁধের রিভার সাইটে ছোট-বড় অসংখ্য স্থাপনা গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে দুই শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বা নির্মাণাধীন রয়েছে।

সেখান থেকে গঙ্গামতি সেতু এলাকার ধোলাই মার্কেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নতুন করে স্থাপনা গড়ে উঠতে দেখা যায়। বিশেষ করে ধোলাই মার্কেটের দুই পাশে এখনও নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বাঁধের স্লোপে থাকা বন বিভাগের সৃজিত গাছপালা কেটে জায়গা পরিষ্কার করে সেখানে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পত্তি দখল হচ্ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে বাঁধের সবুজ আবরণ ও পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থা।

উচ্ছেদে কোটি টাকা, আবারও একই চিত্র—দায় কার?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—যে ৬৭৩টি স্থাপনা অপসারণে সরকারকে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৩৭ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে পুনরাকৃতিকরণ করা সেই বাঁধে আবার কীভাবে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো?

সচেতন মহলের প্রশ্ন, একবার উচ্ছেদ ও ক্ষতিপূরণের পরও যদি একই জায়গায় আবার দখল শুরু হয়, তাহলে আগের সরকারি ব্যয় ও উচ্ছেদ কার্যক্রমের কার্যকারিতা কোথায়? নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কী ভূমিকা পালন করেছে—এ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

অভিযোগ রয়েছে, বাঁধের গাছপালা কেটে স্থাপনা নির্মাণ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না। এতে দখলদাররা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বাঁধ দুর্বল হলে ঝুঁকিতে পর্যটন এলাকা

স্থানীয় সচেতন মানুষের আশঙ্কা, এভাবে বাঁধের স্লোপ দখল, মাটি কাটা ও গাছপালা ধ্বংস অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাঁধের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে সাগরের ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঝুঁকি বাড়তে পারে কুয়াকাটা ও আশপাশের জনপদের।

অন্যদিকে বাঁধের ওপর ও পাশে অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে উঠলে কুয়াকাটার পর্যটন এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, একদিকে সরকারি অর্থ ব্যয়ে বাঁধ রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধন, অন্যদিকে সেই বাঁধের ওপরই প্রকাশ্যে দখলের নতুন প্রতিযোগিতা—এ যেন সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে দখলদারির পাল্টা প্রতিযোগিতা।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ

স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, একটি রাজনৈতিক দলের কথিত চিহ্নিত একটি চক্র এসব দখলদারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের বক্তব্যও পাওয়া প্রয়োজন।

সচেতন মহল বলছে, দখলদার যে পরিচয়েরই হোক না কেন, সরকারি বাঁধ ও স্লোপ দখল এবং বন বিভাগের গাছ কাটার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম জানান, কুয়াকাটা সৈকতের পাশে যেসব স্থাপনা তোলা হয়েছে, সেগুলো অপসারণে মাইকিং করা হয়েছে। এছাড়া ধোলাই মার্কেট এলাকায় নির্মিত স্থাপনা অপসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কুয়াকাটা সি-বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, এসব স্থাপনা অপসারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে বাঁধের স্লোপের গাছপালা কেটে কীভাবে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হলো—এ বিষয়ে গঙ্গামতি বিটের বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান।

এখন প্রশ্ন—উচ্ছেদ হবে, নাকি দখলই চলবে?

স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাইকিং কিংবা উচ্ছেদের ঘোষণা নয়, নতুন করে গড়ে ওঠা প্রতিটি অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারণ, বাঁধের স্লোপ দখলের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং গাছ কাটার অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় দখল না হয়, সেজন্য বাঁধের ৩৯ কিলোমিটার এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও সীমানা চিহ্নিতকরণের দাবি উঠেছে।

কারণ প্রশ্নটি শুধু কয়েকটি দোকান বা স্থাপনা অপসারণের নয়—প্রশ্ন হলো, জনগণের অর্থে নির্মিত কোটি কোটি টাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ আবারও কি দখলদারদের হাতে চলে যাবে? নাকি এবার সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

সি বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের সারথী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
সি বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের সারথী

Oplus_131072

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ সেন্ট মেরী’স গার্লস স্কুল ও কলেজের প্রধান সি. বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও (সিস্টার মেরী খ্রীস্টিনা) শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ছাত্রীদের গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলার তুমিলিয়া মিশন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অবস্থান। মেয়েদের শিক্ষা বিস্তারে প্রতিষ্ঠানের গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ২০০৯ সন হতে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালে কলেজ শাখা চালু হলে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। তিনি শ্রেনীকক্ষে পাঠদান করা থেকে শিক্ষার আলো ছড়াতে ও আলোকিত প্রজন্ম বুননের নীরব কারিগর। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের সারথি হয়ে, কখনো শিক্ষার্থীর অভিভাবক, কখনো পথপ্রদর্শক, আবার কখনো হয়ে ওঠেন অনুপ্রেরণার বাতিঘর। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে এমনই এক দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসাকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সি. বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সি. বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও উপজেলার পৌরসভার বাঙ্গালহাওলা গ্রামের বাসিন্দা। অত্র প্রতিষ্ঠান হতে মাধ্যমিক পর্যায় অধ্যয়ন ে শেষে ঢাকার তেজগাঁও কলেজ থেকে প্রথম শ্রেনীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাষ্ট্রার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা পেশা দিয়েই ১৯৮৪ সাল থেকে দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ তিনি শিক্ষকতা পেশায় ‍রয়েছেন। কলেজের সাইন্সল্যাব ও গার্লস গাইড পরিচালনা ও ওয়াইসিএস এর মডারেটর হিসেবে গত ১০ বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কর্মজীবনের শুরুতে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ধানজুড়ি সেন্ট ফ্রান্সসিস উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তার ঝুড়িতে রয়েছে অসংখ্য পূরস্কার। জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শিক্ষা ব্যক্তিত্ব, নেপাল-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পুরস্কার, মাদার তেঁরেসা স্বর্ণ পদকসসহ বিভিন্ন সম্মাননা পূরষ্কারে ভুষিত হোন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সেবার জন্য জীবন উৎসর্গ (সন্যাস জীবন) করেন।
অত্র বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা বলেন, প্রিন্সিপাল ম্যাডাম আমাদের একজন অভিভাবকের মত। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এবং শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে আন্তরিক। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে বিনা ম্যাডাম অত্যন্ত দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। এক কথায় তিনি একজন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, বিচক্ষন, কর্মঠ ও নীতিবান শিক্ষক এবং সকল সময় আমাদের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শিক্ষকরা আরোও বলেন, এস্কুলে যোগদানের পর থেকেই তিনি শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করাই শুধু তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল না, বরং তাদের সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল।
একান্ত সাক্ষাতকারে সি.বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও প্রতিবেদককে বলেন, প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করা তাঁর প্রধান দায়িত্ব। শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শুরু করে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে সমন্বয় সাধন, শিক্ষা কার্যক্রমে ছাত্রীদের পাঠদানের পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব¡ দিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, পরীক্ষার ফলাফল এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমসহ সকল ক্ষেত্রেই তদারকি করেন তিনি। তার আমলে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়নে, স্কুল শাখাকে কলেজে উন্নিতকরণ করা হয়। বর্তমানে সেন্ট মেরী’স গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিতর্ক প্রতিযোগীতা, পাঠচক্র, বই পড়া, সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করাও তার উদ্যোগেই চালু হয়। নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই একমাত্র লক্ষ্য।
তথ্যে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার ৭০০শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এবং শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৬০ জন। এবারের এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৭ জন, যার পাশের শতকরা হার প্রায় ৯৭ ভাগ। মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাচীর বেষ্ঠিত গেইট, কিশোরীদের মধ্যে মাদক, মোবাইল আসক্তি ও ফেইসবুকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে অবহিতকরণ, মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরি, মাদক সেবনের কুফল সম্পর্কে নিয়মিত কাউন্সিলিং এর ব্যবস্থা করা, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড ও সৃজনশীল কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের কীভাবে উৎসাহিত প্রদান করা সে বিষয়ে নজরদারী করে থাকেন সি.বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও।
কালীগঞ্জ, গাজীপুর।

জুলাই আন্দোলন বিরোধী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী সন্ত্রাসী অন্তরের প্রকাশ্যে যুবদল নেতা পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
জুলাই আন্দোলন বিরোধী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী সন্ত্রাসী অন্তরের প্রকাশ্যে যুবদল নেতা পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার

Oplus_131072

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ও জুলাই আন্দোলন বিরোধী শীর্ষ সন্ত্রাসী অন্তর হোসেন ওরফে অন্তর মোল্লা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার বাড়ী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নের মালেঙ্গা গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত মিজান মোল্লার ছেলে। তার খুটির জোর কোথায় এ নিয়ে গোপালগঞ্জে এখন সরগরম অবস্থা বিরাজমান রয়েছে।
জানা গেছে তিনি বর্তমানে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি পরিচয়ে বহাল তবিয়তে এলাকায় দারুন প্রভাব বিস্তার করে চলছেন। অন্তর ও তার বাহিনী যাকেতাকে হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করাসহ মারপিট করে বেড়াচ্ছে।
অন্তরের বিরুদ্ধে এযাবৎ ৪ টি মামলার তথ্য জানা গেছে। তার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ মামলার এফআইআর নং-৫২,জিআর নং-৮০৮, তাং-২০/০৯/২০২৪ ইং। ধারা: ৩০২/১১৪/১০৯ দি পেনাল কোড-১৮৬০। অন্তর এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারী অন্তর মোল্লাকে একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয় যার গোপালগঞ্জ সদর থানার এফআইআর নাম্বার ৩১,জিআর নং-২৯৪,তাং- ২৯/০৭/২০২৫ ইং। ধারা:৭/৬/১১/১২/১৩/১০ সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ তৎসহ ১৪৩/১৮৬/৩৩২/৩৩৩/১৪৭/ ১৪৮/১৪৯/৩৫৩/৩০৭/৪২৭/৪৩৬/১১৪/৩৪ দি পেনাল কোড ১৮৬০ তৎসহ ৩/৬/৪ দি এক্সপ্লোসিভ সাবসট্যান্স। সন্ত্রাসী অন্তর মোল্লা গোপালগঞ্জ সদর থানার এফআইআর নং- ৩৪/১৫২, তাং-১৮/০৩/২০১৭, ধারা:১৪৩/১৪৭/৩২৩
/৩২৫/৩৮৫/৫০৬(২) দি পেনাল কোড ১৮৬০ এবং গোপালগঞ্জ সদর থানার এফআইআর নং-১৮, তাং- ০৮/১২/২০১২,ধারা: ১৪৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯ দি পেনাল কোড ১৮৬০,  মামলা দুটির এজাহারভুক্ত আসামী।
এছাড়াও অন্তর মোল্লা একাধিকবার চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কাজে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও পুলিশ তাকে আটকে রাখতে পারেনি। ভয়ংকর এ অপরাধী চলতি বছর বিএনপি সরকার গঠনের পর বিএনপি নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জের বিএনপি নেতাদের  সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করছেন। এমনকি সংসদ সদস্যদের রেফারেন্স দিয়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তার করে সুবিধা আদায় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত ২৬ আগস্ট তিনি লোকজন নিয়ে শিবলী নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর মিথ্যা মামলা দায়ের করে শিবলকে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করায়। শিবলী এখন জেলে আছে। এ ঘটনায় বিএনপি’র একটি প্রভাবশালী মহল অন্তরকে সম্পুর্ন শেল্টার দিয়ে সহায়তা করে।
জানা গেছে অন্তরের নির্দেশে  উলপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের আশিস নামে একটি ছেলেকে মারপিট করে তার চাচা সুজন মোল্লাসহ কয়েকজন। আশিসকে প্রান নাশের হুমকি দেয় অন্তর যার অডিও রেকর্ড রয়েছে। আশিসকে পেটানোর একদিন পর অন্তর মোবাইল ফোনে হুমকি দেয় উলপুর ইউনিয়নের রাউতখামার গ্রামের সুনিতোষ রিদয়কে। অন্তর একজন চাঁদাবাজ ও শীর্ষ সন্ত্রাসী হিুসেবে সর্বত্র পরিচিত। সন্ত্রাসী অন্তরের এহেন কর্মকাণ্ডে বর্তমান গনতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিএনপি নেতাদেরও জনপ্রিয়তা ক্ষুন্ন হচ্ছে। গোপালগঞ্জের সচেতন মহলের দাবী শীঘ্রই অন্তরকে গ্রেফতার করে আইনানুগভাবে শাস্তি প্রদান করা হোক।

অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন, সাড়ে চার বছর পর উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন, সাড়ে চার বছর পর উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পাওনাদারদের ফাঁসাতে কথিত অপহরণের নাটক সাজিয়ে সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে থাকার অভিযোগে আঃ মান্নান প্যাদা (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে মাদারীপুরের কালকিনি থেকে উদ্ধার করেছে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে বরগুনার তালতলী থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ছেলে পটুয়াখালী সদর থানায় জিডি করেন। পরে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে কালকিনি এলাকার একটি বেদে পল্লী থেকে আঃ মান্নান প্যাদাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, ব্যবসায়িক দেনা-পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে তিনি আত্মগোপনে যান। এ সময় দেশের বিভিন্ন মাজার ও এলাকায় ছদ্মবেশে অবস্থান করেন।

পুলিশ আরও জানায়, উদ্ধার হওয়ার পর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), পটুয়াখালী

সি বীনা খ্রীস্টিনা রোজারিও শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের সারথী জুলাই আন্দোলন বিরোধী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী সন্ত্রাসী অন্তরের প্রকাশ্যে যুবদল নেতা পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন, সাড়ে চার বছর পর উদ্ধার রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনায় সিক্ত জামথল টেকনিক্যাল এন্ড বিএমটি কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জামালপুরের মাদারগঞ্জে পচা মাংস বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা