কেঁচোসারের বাজার সম্প্রসারণে মহিপুরে কৃষক-ডিলারদের মতবিনিময়
মেহেদী হাসান সোহাগ
কুয়াকাটা প্রতিনিধি : পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চার প্রসার, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষিতে কেঁচোসার বা ভার্মিকম্পোস্টের ব্যবহার বাড়াতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুরে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) মহিপুরে কারিতাস বাংলাদেশের আন্ধারমানিক প্রশিক্ষণকক্ষে স্থানীয় সার ডিলার, ব্যবসায়ী, কৃষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক,সুশীলসমাজের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের ‘বাংলাদেশে এগ্রোইকোলজির মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি’ (ECRAB) প্রকল্পের উদ্যোগে সভাটির আয়োজন করা হয়।
সভায় কেঁচোসারের উৎপাদন, ব্যবহার, কৃষিতে এর উপকারিতা, বাজারজাতকরণ এবং বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা ও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি টেলিভিশন সংবাদ, পথনাটক, প্যাকেজিংসহ বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে কেঁচোসারের গুণাগুণ তুলে ধরে কৃষকদের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের ধরিত্রী ও ECRAB প্রকল্পের জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা জর্জ বৈরাগী। প্রধান অতিথি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী ও মার্কেট প্রমোশন অফিসার অসীম কুমার বিশ্বাস। এছাড়া জাগো নারী কর্মকর্তা কিশোর, হীড বাংলাদেশের কর্মকর্তা সুমন মজুমদার, লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুর নাহার, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য মংম্যা, কারিতাসের প্রকল্প সমন্বয়কারী জামাল হোসেন, সাংবাদিক মিজানুর রহমান (রিপন), নারী কৃষক গোলাপি রানি, অসীম শিকারী, আল আমিন, আবদুর রহিম, নারী কৃষক জাহানারা এবং সার ডিলার মো. নুরুল হকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, কেঁচোসার মাটির গুণাগুণ ও উর্বরতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি পরিবেশবান্ধব হওয়ায় কৃষিতে এর ব্যবহার বাড়ানো গেলে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনকে আরও টেকসই করা সম্ভব। তবে কৃষকদের মধ্যে কেঁচোসারের ব্যবহার বাড়াতে হলে এর গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
আলোচনায় স্থানীয় সার ডিলার ও ব্যবসায়ীরা কেঁচোসারের বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, চাহিদা এবং বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরাও কেঁচোসারের ব্যবহার বাড়াতে নিজেদের মতামত ও পরামর্শ দেন।
পরে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে প্রশ্নোত্তর ও মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি, সার ডিলার, স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও প্রকল্পের কর্মীরা অংশ নেন।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কেঁচোসারের বাজার তৈরি ও সম্প্রসারণে ব্যবসায়ী ও সার ডিলারদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
###



আপনার মতামত লিখুন