খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯ চৈত্র, ১৪৩২

ক্লিনিকে সিজারের পর বিল পরিশোধ না করায় নবজাতক বিক্রির পরামর্শ চিকিৎসকের

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
ক্লিনিকে সিজারের পর বিল পরিশোধ না করায় নবজাতক বিক্রির পরামর্শ চিকিৎসকের

 

নীলফামারীর ডোমারের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের পর ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় নবজাতক বিক্রি করার জন্য স্বজনদের ওপর চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলার ডোমারের “মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার” নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে ক্লিনিকটিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ডোমার উপজেলা প্রশাসন।

ভুক্তভোগী ডোমার উপজেলার দক্ষিণ গোমনাতি এলাকার কৃষক রাকিবুল হাসানের স্ত্রী হাবিবা সুলতানা। গত শুক্রবার রাতে প্রসব বেদনা নিয়ে তিনি ভর্তি হন ডোমার উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। অপারেশন শেষে রবিবার রিলিজ নেওয়ার সময় ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাদের বাচ্চা বিক্রির জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চাপ দেন ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা আফরিন।

রাকিবুল হাসান ও হাবিবা সুলতানা দম্পতির দাবি, ভর্তির সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ২২ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিন্তু সিজারের পর অনেক চেষ্টা করেও টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়।

তারা অভিযোগ করেন, ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং একপর্যায়ে টাকা না দেওয়ায় প্রসূতি রোগী ও তার স্বজনদের একটি রুমে আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি রোগীর ওষুধও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, টাকা দিতে না পারায় তাদের বাচ্চা বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়। ক্লিনিকের লোকজনের মাধ্যমে গত দুই দিন ধরে ৩-৪ জন লোক ক্লিনিকে আসছিল। তাদের মধ্যে একজন ৩০ হাজার এবং আরেকজন এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করে। পরিকল্পনা ছিল, সেই টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা ডাক্তার রেখে বাকি টাকা রোগীর পরিবারকে দিয়ে বাচ্চা হস্তান্তর করা হবে।

পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়দের জানানো হলে সাংবাদিক ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ক্লিনিকটিতে প্রায়ই রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। সিজারের বিল দিতে না পারায় বাচ্চা বিক্রির মতো অমানবিক চাপ দেওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা ক্লিনিকটি বন্ধসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় সাংবাদিক শাহিনুর বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমরা দ্রুত ক্লিনিকে যাই। সেখানে গিয়ে আমরা নিজেরাই ডা. ফারজানার খারাপ আচরণ প্রত্যক্ষ করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকটির চিকিৎসক ডা. ফারজানা বলেন, বাচ্চা বিক্রি করতে বলেছি এটা সত্য নয়। নির্ধারিত সময়ে রোগী রিলিজ নিতে পারছিল না, তাই বিল পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকটি পরিদর্শন শেষে মেডিকেল অফিসার ডা. সোহান চৌধুরী জানান, নবজাতক বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পরই তারা দ্রুত তদন্তে নামেন। তদন্তকালে বাচ্চা বিক্রির অভিযোগসহ আরও কিছু অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ক্লিনিকটিতে দায়িত্বে অবহেলা, পর্যাপ্ত জনবলের অভাব এবং দায়িত্বরত চিকিৎসক না থাকার মতো বেশ কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। এসব অনিয়মের জন্য ক্লিনিকটিকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

মাতাল অটোরিক্সা চালককে বিনাশ্রম কারাদন্ড

মুঃ সোহরাব আলী সরকার কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
মাতাল অটোরিক্সা চালককে বিনাশ্রম কারাদন্ড

 

কালীগঞ্জে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় অটোরিক্সা চালানোর দায়ে এক চালককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। জনসাধারণের মাঝে শান্তি বিনষ্ট করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার পৌরসভার বালিগাও এলাকার মৃত মনিন্দ্র দাসের পূত্র মৃদুল দাস (৫২) আবুল খায়ের কোম্পানি লিঃ এর গেইট সংলগ্ন এলাকায় নেশাগ্রস্থ অবস্থায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে এক অটোরিক্সাকে ধাক্কা দেয়। এতে রোগী ও তার সাথে থাকা যাত্রীরা আহত হয়। স্থানীয়রা আটক করে তাকে ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করে। ভ্রাম্যমান আদালত আসামীদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় মামলায় এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। প্রসিকিউটর হিসেবে ভ্রাম্যমান আদালতকে সহযোগীতা করেন কালীগঞ্জ থানার এস আই স্বপন কুমার পাল, বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম ও আনসার সদস্যবৃন্দ।

 

কালীগঞ্জের ফিলিং স্টেশনের শৃঙ্খলা ফিরাতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ

মুঃ সোহরাব আলী সরকার কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
কালীগঞ্জের ফিলিং স্টেশনের শৃঙ্খলা ফিরাতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ

 

গাজীপুরের কালীগঞ্জে সুষ্ঠুভাবে জ্বালানি তেল বিতরণের জন্য ৮টি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ট্যাগ অফিসারদের সমন্বয় এবং ফিলিং স্টেশনগুলোর অনিয়মের কারনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমাকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত গাজীপুর জেলা প্রশাসকের স্মারকপত্র মূলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম কামরুল ইসলাম সাক্ষরিত নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশে উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রাপ্তরা হলেন-উপজেলা ভেটেরিনারী সার্জন ডাঃ মামুন মিয়া-অয়ন ফিলিং স্টেশন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ-তায়েব এন্ড সন্স ফিলিং স্টেশন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবুল হোসেন আকাশ-সরকার ফিলিং স্টেশন, উপজেলা সমবায় অফিসার মো. আতাউর রহমান-লালমাই এলপিজি, উপসহকারী প্রকৌশলী (শিক্ষা) মো. সাইফুর রহমান (সাকিল)-উত্তরা বিজয় ফিলিং স্টেশন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা-তাইবা ফিলিং স্টেশন. উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ইসরাত জাহান-জারিফ ফুয়েল ফিলিং স্টেশন (মিনি) ও মেসার্স কে এম এন্টারপ্রাইজ (মিনি)।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন, দৈনিক মুজুদ রেকর্ড করা, ফিলিং স্টেশন ও ডিপোর সাথে চালান মিলিয়ে দেখা, ভোক্তাদের সরবরাহ নিশ্চিত অর্থাৎ খুচরা বিক্রি নিশ্চিত করা, , জ্বালানি তেলের ডিসপেসিং মেশিনের মিটার রিডিং পর্যবেক্ষন এবং দৈনিক বিক্রি শেষে মজুদ পর্যালোচনা করাই এর মূল লক্ষ। তিনি আরোও বলেন, বিবিধ কারনে ফিলিং স্টেশনগুলোতে একটা কৃত্রিম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিশৃঙ্খলা ভাংচুর ও বিভিন্ন অনিয়ম ঠেকাতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ট্যাগ অফিসারদের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে জ্বালানি তেল বিতরণ করা যাবে বলে তিনি মনে করেন।

সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার

 

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের ঈদুলপুর আবাসন প্রকল্পে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুল মোতালেব (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত মোতালেব বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি মিঠাপুকুর এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।

জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেব ও ভুক্তভোগীর মা আদুরী বেগম (৩৫) উভয়েই একটি হোটেলে কাজ করতেন। সেখানে পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। আদুরী বেগমের আগের সংসারে দুই মেয়ে ছিল। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও ১৬ বছর বয়সী ছোট মেয়েটি এই দম্পতির সাথেই ঈদুলপুর আবাসন প্রকল্পে থাকতো।

অভিযোগে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহ আগে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত মোতালেব তার নাবালিকা সৎ মেয়েকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে সে আরও একাধিকবার একই কাজ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর মা আদুরী বেগম বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগের সত্যতা পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেবকে গ্রেপ্তার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।

মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুজ্জামান জানান, “ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে আমরা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছি। আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, আমার নাবালিকা মেয়ের ওপর যে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, আমি তার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

মাতাল অটোরিক্সা চালককে বিনাশ্রম কারাদন্ড কালীগঞ্জের ফিলিং স্টেশনের শৃঙ্খলা ফিরাতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেফতার মান্দায় আত্রাই নদীতে গোসল করতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু ক্লিনিকে সিজারের পর বিল পরিশোধ না করায় নবজাতক বিক্রির পরামর্শ চিকিৎসকের