প্রিপেইড মিটার বসানোর আড়ালে, নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার খুলে নেওয়ার অভিযোগ (নেস্কো)-এর বিরুদ্ধে।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেস্কো)-এর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।
ভুক্তভোগী পূর্ব সিন্দুর্না ইউনিয়নের মোঃ তোফাজ্জল হোসেন পিতা মৃত ইউসুফ আলী, এবং মোঃ হীরা পিতা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে তাঁদের কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ মিটার খুলে নিয়ে যাওয়া হলেও গ্রাহকদের জানানো হয়নি তাঁদের বকেয়া বিলের পরিমাণ। এতে গ্রাহকরা বিভ্রান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় পেতে তাঁদের ওপর প্রিপেইড মিটার গ্রহণে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, গ্রাহকসেবার নামে এটি এক ধরনের জোরপূর্বক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী।
বিদ্যুৎ আইন ২০০৩-এর ৫৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী কোনো গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানিকে অন্তত ১৫ দিন আগে লিখিত নোটিশ প্রদান করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু হাতীবান্ধা উপজেলায় সে আইনি বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে না বলেই অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের , নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের প্রতি চরম অবিচার ও হয়রানির শামিল। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্নআয়ের পরিবার, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেস্কো)-এর স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাঁরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনাগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, পুরো বিষয়টি মূলত এলাকায় প্রিপেইড মিটার বসানোর একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ।



আপনার মতামত লিখুন