এবারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলবে পোস্টাল ভোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। পোস্টাল ব্যালট এমন একটি ভোটদান পদ্ধতি, যার মাধ্যমে ভোটার সরাসরি ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত না হয়ে ডাকযোগে ভোট প্রদান করতে পারেন। সাধারণত প্রবাসী, সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যারা ভোটের কাজে সরাসরি দায়িত্বে থাকেন। তারাই এবার জাতীয় নির্বাচনে এই সুবিধা পেয়ে থাকবেন।
সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় অনলাইনে আবেদনের প্রেক্ষিতে পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করতে হয়েছে। আর এই ভোট গ্রহন করার জন্য স্থানীয় পোস্ট অফিসের প্রস্তুতি, ভোটারদের সচেতনতা, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে ধারনা থাকা জরুরী। তবে সময়মতো ব্যালট ভোটারের কাছে পৌঁছানো, গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ভোটাররা।
গাজীপুর-৫ নির্বাচনী ভোটার এলাকার ১৯৮ নং আসন। কালীগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা, ৭টি ইউনিয়ন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পুবাইল ইউনিয়নের ৪০,৪১,৪২নং ওয়ার্ড এবং গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন এবং মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৪ টি।
স্থানীয় ভোটাররা জানায়, প্রতীক বরাদ্ধের পর হতেই ভোটারদের মাঝে নির্বাচনের আমেজ ফিরতে শুরু করেছে। তবে প্রার্থীদের দেয়া প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা চান তারা। উপজেলার একাধিক ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালটে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ব্যাপক নজরদারির দাবি করেছে ভোটাররা।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল হোসেন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ভোট কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ সমাপ্ত ও নির্বাচনী সরঞ্জাম সংরক্ষণের কাজ এগিয়ে চলছে। পোস্টাল ভোটের জন্য জেলা প্রর্যায়ে নির্দিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবে।
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে গাজীপুর-৫ আসনে প্রবাস ও দেশ থেকে মোট ৩ হাজার ৬৭৭ জন প্রোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। যার মাঝে পুরুষ ৩ হাজার ৩২ জন ও মহিলা ৬৪৫ জন
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার এটিএম কামরুল ইসলাম একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন আইটি সাপোর্ট পদ্ধতিতে পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহনের ব্যবস্থা করেছেন। এনিয়ে দেশ-বিদেশের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। তবে শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন প্রস্তুত আছে। সকল কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হচ্ছে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মনিটরিং টিম কাজ করছে। দলীয় সকল প্রার্থী ও সমর্থককে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহবান জানাচ্ছি।



আপনার মতামত লিখুন