জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী খায়রুল হাসানই সমমনা জোটের সেরা কান্ডারী
Oplus_131072
কালিগঞ্জ থেকে মুঃ সোহরাব আলী সরকার, গাজীপুর: আ’লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রায় ১৭ বছর পরে ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে সাধারণ মানুষ নির্বাচনের দিকে মনযোগী হচ্ছে। ৫ আগষ্টের পরে এ আসনে জামায়াতের নেতাকর্মীরা দল গুছানোর কাজের অংশ হিসেবে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছানো, ছাত্র জনতার আন্দোলনে শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। সাংগঠনিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তরুণ ভোটারসহ সাধারণ মানুষের মন জয় করার চেষ্টা, সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ,সকল শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়সহ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে সাম্যের বার্তা পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
ইসলামী সমমনা জোটের প্রার্থীদের মাঝে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমীর মো.খায়রুল হাসান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের রুহুল আমীন কাসেমী রয়েছেন। সাধারণ ভোটাররা মনে করেন জোটের প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন খায়রুল হাসান। জোট থেকে খায়রুল হাসানকে টিকেট না দিলে ইসলামী জোট গাজীপুর-৫ আসনটি হাতছাড়া হবে। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা আরোও বলেন, জোট থেকে জামায়াত ব্যাতীত অন্য কোন দলের প্রার্থী দিলে বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হবেন।
গাজীপুর-৫ নির্বাচনী ভোটার এলাকার ১৯৮ নং আসন। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা, ৭টি ইউনিয়ন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পুবাইল ইউনিয়নের ৪০,৪১,৪২নং ওয়ার্ড এবং গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট আট জন প্রার্থী মনোনয়নের বৈধতা পেয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে চুড়ান্ত খসড়া তালিকা অনুযায়ী এ আসনে মোট ভোটার ৩ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৪৩ জন এবং মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৪ টি।
জামায়াত প্রার্থী মো.খায়রুল হাসান এক সাক্ষাতকারে আধুনিক কালীগঞ্জ গড়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করে তার ভাবনা সম্পর্কে গণমাধ্যমে বলেন, গত ৫ আগষ্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আ’লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। বিগত আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে মামলা হামলা মাথায় নিয়ে রাজপথে থেকে লড়াই করেছি। দুঃসময়ে জনগণের পাশে ছিলাম, বাকি সময়েও পাশে থাকাব। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ একদলীয় দুঃশাসনের অবসান হলে জন্ম নেয় নতুন সোনালী বাংলাদেশের। কেন্দ্রীয় সংগঠনের গ্রীন সিগনাল পেয়ে জাতীয় নির্বাচনের জন্য তিনি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করেন। ছাত্র, যুবক, আলেম সমাজ, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ সকলের ভালবাসা এবং দোয়াই আমার চলার পথের পাথেয়। নিজের সামর্থ্যরে সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে এই জনপদের কল্যাণে কাজ করে যাব। কালীগঞ্জ-পুবাইল-বাড়িয়ার ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সহাবস্থান ও সমর্থন থাকলে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের আগামীর এক সুন্দর আধুনিক কালীগঞ্জ গড়া সম্ভব।
এ আসনের একাধিক তরুণ ভোটার বলেন, মানবাধিকার লংঘন, গণতন্ত্র হরণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া, বিচার বিভাগে নগ্ন হস্তক্ষেপ, আর্থিক খাতে লুটপাট, শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ সামাজিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে এদেশকে এক মৃত্যুপূরীতে পরিণত করেছিল ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকার। খায়রুল হাসান এ অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছাত্রজনতার আশা-আকাঙ্খাকে বুকে ধারন করে বৈষম্য মুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে নিরন্তর ছুটে চলেছে। স্থানীয় ভোটাররা মনে করে জামায়াত প্রার্থীকে সমমনা জোট থেকে চুড়ান্ত ভাবে মনোনীত করবে।
২০২৪ সালের পাতানো নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারউজ্জামানের কাছে পরাজিত হয়। পরে মেহের আফরোজ চুমকী সংসদে মহিলা সদস্য নির্বাচিত হয়। তারা উভয়েই ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংসদ সদস্য হওয়ায় বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আ’লীগের পতনের পরে সারাদেশের মত কালীগঞ্জেও আ’লীগের নেতা কর্মীরা মাঠে নেই। তারা দুজনই আত্মগোপনে থাকায় রাজনীতির মাঠে জামায়াতকে একটি বড় শক্তি হিসাবে মনে করছে সাধারণ জনগণ।
গাজীপুর জেলা বিএনপি’র আহবায়ক এ.কে.এম ফজলুল হক মিলন, জনতার দলের মো. আজম খান, গণফোরামের মো. কাজল ভ‚ইয়া, জাতীয় পার্টির মো. সফিউদ্দিন সরকার ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আল আমিন দেওয়ান এবারের নির্বাচনে প্রার্থীতা বৈধতা পেয়েছে।



আপনার মতামত লিখুন