খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

আল ইব্রাহিম, শ্রীমঙ্গল, প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব

আল ইব্রাহিম, শ্রীমঙ্গল, প্রতিনিধি: ‘পলো বাওয়া উৎসব’ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ। মাছ শিকার এর জন্য এক সময় হাওর কিংবা বিলে পলো’র গুরুত্ব থাকলেও আধুনিকতার ছোঁয়ায় যা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে শুরু হয়েছে গ্রাম বাংলার অন্যতম উৎসব পলো দিয়ে মাছ ধরা। এই আনন্দে শামিল হতে হাইল হাওরের পানিতে নেমে শত শত লোকজন পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মিলিত হয়েছেন। শ্রীমঙ্গল উপজলোর ভূনবরি ইউনিয়নের হাইল হাওর এলাকার চরিখাল, ভাদালী খাল, গরুর দাড়া,গোপলা নদী, ছিরাবাদ আলী,জৈয়তার ট্যাক,ডুমের বিল, ডরি ডুভা, পাইতড়া বিল,কোদালি পাড় বিল ,আগড়ুরা বিল,এলাকায় চলছে পলো বাওয়া উৎসব। প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাস থেকে শুরু করে চৈত্র মাস পর্যন্ত চলে পলো বাওয়া উৎসব। প্রতি সপ্তাহরে বৃহস্পতিবারে চলে এ উৎসব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের ভূনবীর এলাকার জৈয়তার ট্যাক গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে শত শত লোক এসেছেন পলো নিয়ে মাছ ধরতে। দল বেঁধে মাছ ধরার দৃশ্যটি ছিল সবার কাছে উপভোগ্য। মাথা ও কোমরে গামছা বেঁধে অনেকটা আনন্দ নিয়েই মাছ ধরতে দেখা যায় তাদের। কারো পলোতে মাছ ধারা পরলেই প্রায়ই সবাই মিলে জোরেশোরে চিৎকার করে উঠেন তারা। হাওরে পলো দিয়ে বোয়াল, কাতলা, মাগুর, গাঘট ইত্যাদি মাছ ধরতে দেখা যায় তাদের।

পলো দিয়ে মাছ ধরতে আসা বাছিত মিয়া বলেন, পলো দিয়ে মাছ ধরা ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। আমরা শীতের শুরু থেকে পলো নিয়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ হাইল হাওরে মাছ ধরতে আসি। অভাব অনটন ক্রমশই গ্রাস করে ফেলেছে চিরাচরিত এই গ্রামীণ উৎসবের অতীত ঐতিহ্যকে। এরপরও প্রতি বছরের শীত মৌসুমে সবাই মিলে অতীতের মতো মাছ ধরার উৎসব পালন করছি।

মাছ ধরতে আসা ফয়েজ মিয়া বলেন, আমরা এর আগেও এখানে পলো বাইতে এসেছিলাম, আজ এসেছি। আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব আমাদের বাপ-দাদারা বছরের পর বছর করে গেছেন। এখন আমরা সেটা ধরে রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। হাওর খেকো লোকজন এই হাওরের কিছু অংশ লিজ নিয়ে পুরোটাই দখল করে রেখেছে। পলো নিয়ে মাছ ধরতে এলেই তারা আমাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। হাওর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে হাওরকে ফিশারি মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি। এই হাওরে একসময় অনেক মাছ মিলত।এখন এই অবৈধ দখলদারদের কারণে এই মাছগুলো প্রায় বিলুপ্তীর পথে।

নওগাঁয় ডাসকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩দিন ব্যাপী প্রাণিস্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

নওগাঁ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
নওগাঁয় ডাসকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩দিন ব্যাপী প্রাণিস্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ডাসকো ফাউন্ডেশনের অগ্রযাত্রা প্রকল্পের আয়োজনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের কারিগরি সহযোগিতায় ৩দিন ব্যাপী প্রাণিস্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণটি গত ৮ জুন সোমবার শুরু হয়ে ১০ জুন বুধবার শেষ হয়।

প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ আবু আনাছ এবং ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ তানজিয়া আক্তার।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন বিএমজেড এবং নেট্জ বাংলাদেশের সহযোগিতায় ডাসকো ফাউন্ডেশনের অগ্রযাত্রা প্রকল্পের আত্রাই এবং রাণীনগর উপজেলার প্রাণিস্বাস্থ্য কর্মীগণ।

প্রশিক্ষণটিতে উপস্থিত ছিলেন, প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ আহসান হাবিব মল্লিক, আত্রাই ইউনিট ম্যানেজার আব্দুর রউফ মিলন, এ্যাডভোকেসী ফ্যাসিলিটেটর গোলাম রাব্বানীসহ প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ।

সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে? শীতলকুচিতে আটক হাতীবান্ধার যুবক

সিরাজুল ইসলাম-লালমনিরহাট।
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:২০ পূর্বাহ্ণ
সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে? শীতলকুচিতে আটক হাতীবান্ধার যুবক

 

ভারতের শীতলকুচি সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি সন্দেহে এক যুবককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আটক যুবকের নাম নুরুজ্জামান। তিনি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্য গড্ডিমারী এলাকার বাসিন্দা এবং শফিকুল ইসলামের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন, তিনি আশপাশের কোথাও অবস্থান করছেন। কিন্তু দিন গড়িয়ে বিকেলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে, নুরুজ্জামানকে ভারতের শীতলকুচি এলাকায় বিএসএফ আটক করেছে।
নুরুজ্জামানের বাবা শফিকুল ইসলাম পেশায় একজন কলা বিক্রেতা। তিনি জানান, তার ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় মাঝে মধ্যেই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। তবে এবার সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যাওয়ার ঘটনায় পরিবার গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

 

রংপুর সদর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
রংপুর সদর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন

 

রংপুর সদর উপজেলায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ,মেধা বিকাশ ও সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চাকে বেগবান করতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি, রংপুর সদর’। রংপুর সদর উপজেলা পাগলাপীর কলেজ ক্যাম্পাসের পুরাতন লাইব্রেরি ভবনে নবনির্মিত এই পাবলিক লাইব্রেরিটির শুভ উদ্বোধন করা হয়। আজ সোমবার দুপুর ১২টায় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে রংপুর সদর উপজেলা পরিষদের বিশেষ উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন দিগন্তের উন্মোচন করা হয়। রংপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে লাইব্রেরিটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। রংপুর সদর উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আফতাবুজ্জামানের সুচারু সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের গণমাধ্যম, রাজনীতি, প্রশাসন ও শিক্ষা ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের রংপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান এবং সদর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মুখদুমি। বক্তারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পাশাপাশি একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে লাইব্রেরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। ​রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্ মাসুদ রানা এবং রংপুর সদর উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাজহারুল ইসলাম। তারা প্রত্যেকেই তরুণ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং সুস্থ মননশীল সমাজ গঠনে বই পড়ার অভ্যাস গড়ার তাগিদ দেন। এছাড়া প্রশাসনিক ও একাডেমিক কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: দুলাল হোসেন, পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জয়নুল আবেদীন এবং পাগলাপীর ডিএস দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার শাহজাহান। ​লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সংহতি প্রকাশ করে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুল কাদের,সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব রংপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান টিটু, রংপুর সদর উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল হাদি,হরিদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রাসেল,খলেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাসান সাগর,উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান শ্রবন ও যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ কবির। ​এছাড়াও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা শুভ ও কারিমুল ইসলাম নাহিদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল কাহার, জিয়ারুল ইসলাম জিয়াম,সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিমসহ পাগলাপীর স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা।
​অনুষ্ঠানের শেষভাগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এই চমৎকার ও যুগোপযোগী উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা পরিষদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। উপস্থিত তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষণীয় বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “একটি প্রগতিশীল ও আলোকিত সমাজ গঠনে লাইব্রেরির বিকল্প নেই। বর্তমান যুগে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও মোবাইল আসক্তিতে নিমজ্জিত হচ্ছে, তা থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে বইয়ের পাতা অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে।” ​তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই পাবলিক লাইব্রেরি অত্র অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জ্ঞানচর্চার পরিধি বাড়াতে এবং একটি মেধাভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে বাতিঘর হিসেবে কাজ করবে। জেলা প্রশাসক স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণকে লাইব্রেরিটি নিয়মিত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

নওগাঁয় ডাসকো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩দিন ব্যাপী প্রাণিস্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে? শীতলকুচিতে আটক হাতীবান্ধার যুবক রংপুর সদর উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন চিকিৎসার টাকার অভাবে বিছানায় জুলহাস, বাঁচাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন রাজারহাটে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে মানববন্ধন